,

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রোহিঙ্গাসহ আটক ৬

news-image

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে দুই রোহিঙ্গা ও দালালসহ ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলের একটি বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কাঞ্চন কান্তি দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান চালায়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দালাল বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল এলাকার মো. ইসমাইলের ছেলে নুরুল আমিন ওরফে নুর আলম (৪০), উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ আলীর ছেলে আলী হোসেন (৪৫), রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তাইগা কাটা গ্রামের মৃত ফকির আহমদের ছেলে মো. ছৈয়দ হোসেন (৩৯) ও একই এলাকার উজির আলীর ছেলে মো. আলম (১৬)।

আটক দুই রোহিঙ্গা হলেন—মিয়ানমার মংডুর বাঘগুনা গ্রামের মো. হোছনের ছেলে মো. হারুন মিয়া (২০) ও একই গ্রামের মো. আবু তাহেরের ছেলে জিয়াউল হক (১৯)। দুজনেই বর্তমানে কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের ‘ডি’ ব্লকের বাসিন্দা।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কাঞ্চন কান্তি দাশ বলেন, ‘রোহিঙ্গাসহ ৮০ জন যাত্রীকে মানবপাচারকারী একটি দালাল চক্র সমুদ্রপথে ট্রলার যোগে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরে বৃহস্পতিবার ভোরে উপকূলবর্তী বাহারছড়া গ্রামের দালাল নুরুল আমিন ওরফে নুর আলমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন দালাল পালিয়ে যায়। পরে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাড়ির মালিকেও আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, পুলিশ হেফাজতে থাকা উদ্ধার রোহিঙ্গা তরুণ জিয়াউল হক সমকালকে বলেন, ‘মিয়ানমারে সহিংসতার ঘটনায় বছর খানেক আগে প্রাণে বাঁচতে মা-বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি। পরে উখিয়া রোহিঙ্গাশিবিরে আশ্রয় নিই। কিন্ত কোন কাজ না থাকায় দুঃখের জীবন কাটছিল। তাই স্থানীয় আজিজুর রহমান ও মো. কামালের প্রলোভনে এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করি। অনেক কষ্টের বিনিময়ে অবশেষে মঙ্গলবার ১০ হাজার টাকা ওই দুই দালালকে দেওয়ার পর বুধবার রাতে তাদের মাধ্যমে ওই বাড়িতে অবস্থান নিই। বাকি টাকা মালয়েশিয়া পৌঁছার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরে পড়ি। জানি না এখন আমার কি হবে, খুবই ভয় হচ্ছে।’

উদ্ধার আরেক রোহিঙ্গা যুবক মো. হারুন মিয়া বলেন, ‘মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে আমার কাছ থেকে দালাল ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু এই টাকা এখন ফেরত পাব কি-না জানি না।’

প্রায় দু’বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খাঁন বলেন, ‘দুই রোহিঙ্গাসহ সুমদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী পাঁচ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় এক দালালকেও আটক করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় টেকনাফের বাহারছড়া বড়ডেইল পাড়ার দালাল আজিজুর রহমান, জালাল আহমদ, মো. উল্লাহ ও মো. বেলাল হোসেনকে এজাহারভুক্ত ও আরও ৬/৭ জনকে পলাতক আসামি করে মানবপাচার আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদেরকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।

বর্তমানে সমুদ্রপথে মানবপাচার শূন্যের কোটায় রয়েছে এবং এমনই থাকবে বলেও দাবি করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর