,

মেহজাবীন হত্যার রহস্য উদঘাটন অনিশ্চিত!

news-image

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত ডা. শামারুখ মেহজাবীন সুমির ‘রহস্যজনক মৃত্যুর’ তিন বছরেও প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হয়নি। পরিবারের দাবি, মেয়ের শাশুড়ি, শ্বশুর ও স্বামী পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তবে আসামি পক্ষের দাবি ও প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুমির বাবা নুরুল ইসলামের দাবি, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। এজন্য মেয়ে হত্যার ন্যায় বিচার প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আদালত থেকে মামলার নথিপত্র গায়েবেরও ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও তিনি হাল ছাড়বেন না উল্লেখ করে সব কিছু বিক্রি করে হলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসা থেকে হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক শামারুখের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শামারুখের বাবা নুরুল ইসলাম মেয়ের শাশুড়ি ডা. জেসমিন আরা, শ্বশুর আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সাংসদ খান টিপু সুলতান (সম্প্রতি প্রয়াত) ও স্বামী হুমায়ুন সুলতান সাদাবের নামের মামলা করেন। রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী হুমায়ুন সাদাব গ্রেফতারও হন। পরে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ডা. শামারুখ হত্যার বিচার দাবিতে রবিবার বিকেলে শহরের চিত্রামোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ডা. শামারুখের বাবা নুরুল ইসলাম, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের সভাপতি শহিদুল হক বাদল, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, আইডিইবি যশোর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন, দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ পারভীন প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে ডা. শামারুখ হত্যার পুনঃতদন্ত করে দোষীদের সনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

জানা যায়, প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ডা. শামারুখের আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডা. শামারুখের হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। ফলে আদালতে নারাজি দেন বাদি। এরপর পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। কিন্তু নিম্ন আদালত আবেদন গ্রহণ করেনি। এরপর উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়। উচ্চ আদালত নারাজি গ্রহণ করেছে। শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

বাদি নুরুল ইসলাম বলেন, আমার যা কিছু আছে, বিক্রি করে হলেও মেয়ে হত্যার বিচার দাবি জানিয়ে যাব। শামারুখ হত্যাকান্ডের অনেক প্রশ্নের জবাব আজও মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তাও সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেননি। যে বাড়িতে শামারুখ খুন হন, সেই বাড়ির সামনে গণস্বাস্থ্য হসপিটাল। সেখানে না নিয়ে শ্বাশুড়ির হসপিটাল সেন্ট্রাল রোডে নিয়ে যায়। বাড়ির কাছেই থানা। পুলিশ না নিয়ে কেন লাশ নামানো হল। তাছাড়া বাসার বাথরুমের উচ্চতা ছিল ৫ফুট ২ ইঞ্চি, সেখানে মাথা নিচু করতে ঢুকতে হত। সেখানে কিভাবে ৫ ফুট ৩ইঞ্চি উচ্চতার একটি মেয়ে কিভাবে ঝুলতে পারে? মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে এই সব অবস্থার কথা তুলে ধরেননি।

নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আসামিদের বাড়ি একই গ্রামে। এছাড়াও আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের সঙ্গে সখ্যতা ছিল। এজন্য তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে। আদালত থেকে ১৬১ ধারার জবানবন্দির নথি গায়েবের ঘটনা ঘটেছে। নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের মধ্যে এ নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর