,

নেই ভবন, তবুও নাম ‘শহীদ ভবন’

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভয়াল ১৯৭১ সাল, উত্তাল সারাদেশ। দেশের সকল মুক্তিকামী মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেসময় ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সদরের সিও অফিসে অবস্থিত রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করতে গিয়ে প্রাণ হারাণ এসএম ওয়াজেদ, রেজাউল করিম বেবী ও ওস্তাদ ফজলুল হক, মাষ্টার নলীনি দাশগুপ্ত, অজিত বিশ্বাস, মনোরঞ্জন শীল, রণজিত মজুমদার, সমীর মজুমদার, দুদু মিয়াসহ অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষ।

image-10732

দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী কাঞ্জুরীর গ্রামে সেই নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় প্রথম স্মৃতিসৌধ। নামকরণ করা হয় ‘শহীদ ভবন’। স্মৃতিসৌধের নামকরণ ‘শহীদ ভবন’ হলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো ভবন। আছে শুধু ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরের নিশানাটুকু। তাও, সাধারণ মানুষের বোঝার কথা নয়।

প্রথম নির্মিত সেই স্মৃতিসৌধ অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে। অরক্ষিত এ স্মৃতিসৌধের স্মৃতি ৭১’র জাতির সূর্য সন্তানদের আজও আবেগতাড়িত করে। কিন্তু অরক্ষিত ও অবহেলায় মুছে যেতে পারে সেই ভয়াল স্মৃতিগুলো। হয়তো নতুন প্রজন্ম ভুলে যেতে পারে দেশের কাঙ্ক্ষিতত সেই সময়ের কথা।

জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাবুদ্দিন খান এই স্মৃতিসৌধের তথা ‘শহীদ ভবনের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ‘শহীদ ভবন’ সেই ভিত্তিপ্রস্তরেই রয়ে গেছে, তা আর ভবনে পরিণত হয়নি। আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

বোয়ালখালী উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজিত নাগের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা নিজেদের যশ খ্যাতির জন্য যুদ্ধ করিনি। যুদ্ধ করেছিলাম দেশের মুক্তির জন্য। দেশের মা-বোনদের ইজ্জত ও দেশের মাটিকে রক্ষার জন্য।

বীর এ মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, ভবন আমরা করতে পারিনি। তবে ভবনের মাঠে আয়োজন করা হয় অমর একুশ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ লোকজ মেলা, খেলাধুলাসহ আলোচনা সভার। এতে পদচারণা ঘটে দেশের বিখ্যাত নাট্যজন, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজিবীদের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর কোনো না কোনো অনুষ্ঠান হয়ে থাকে এখানে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরও একটি ভবন গড়ে ওঠেনি এখানে। আমরা ‘শহীদ ভবন” নামটিকে ৪৫ বছর ধরে নিজেদের মাঝে আঁকড়ে রেখেছি। এখন শুধু সময়ের দাবি একটি ভবন নির্মান হওয়ার। ভবনটি হলে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও দেশমাতৃকার জন্য যারা যুদ্ধে করেছেন তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে পারবে আগামী প্রজন্ম।

এ জাতীয় আরও খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

সতর্কতার পরও ফায়ার লাইসেন্স ছাড়া চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট