,

২৪ বছর জাকসু নির্বাচন নেই, চাঁদা ঠিকই আছে!

1ডেস্ক রিপোর্ট : ২৪ বছর কেটে গেল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ (জাকসু) নেই! থাকবে কী করে, ১৯৯২ সালের পর আর জাকসুর নির্বাচনই হয়নি। তবে প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় ছাত্র সংসদের চাঁদা হিসেবে ৩০ টাকা নেয়া হয়। ইউজিসি থেকে মঞ্জুরিকৃত বাজেটেও জাকসু খাতে অর্থ বরাদ্দ থাকে। এই টাকা কোথায় যায়?

এই দীর্ঘ সময় ধরে অচল ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জাকসু)। তবে জাকসু অচল থাকলেও বিস্ময়করভাবে সচল রয়েছে এই খাতে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায়।

বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ভোগ করেছে জাকসু না থাকার  সুবিধা। অকার্যকর জাকসুর কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বলার কেউ নেই।

আবার সিনেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাঁচ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা করছে বলে অভিযোগ আছে। সেইসাথে জাকসু না থাকায় ভবিষ্যৎ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৯৭২ সালে প্রথম ছাত্রসংসদ বা জাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালে চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশ অনুযায়ী  ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১ এবং ১৯৯২ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মাঝখানে স্বৈরশাসক এরশাদের সময়ে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ সালে কোনো নির্বাচন হয়নি। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি বছরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু কার্যত তা হয়নি।

১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ১৯ (১)এর (ক) উপধারা অনুযায়ী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেটে অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ থেকে নির্বাচিত ৫ জন প্রতিনিধি থাকার কথা। কিন্তু এ নীতির কোনো বাস্তবায়ন নেই বিগত ২৪ বছর।  ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সিদ্ধান্তেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া এবং অধিকারের প্রতিফলন ঘটেনি।

উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে ভোটাধিকার থাকলেও জাকসু অকার্যকর থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে অর্থনীতি বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. মুসা বলেন, ‘আমরা এখন শিক্ষকদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করি। নিজেদের কোনো প্রতিনিধি নেই। ফলে সেশন জটে পড়ার পরেও এই কথা ভিসি পর্যন্ত জানানো যায় না।’

২৪ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় পরিত্যক্ত হয়ে আছে জাকসু ভবন। তবে  বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সমাপনী র‌্যাগ উৎসবের সময় এটি খুলে দেয়া হয়। আর সারাবছর প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয় আনন্দশালার ক্লাস হয় এখানে। আবাসিক হলগুলোর ছাত্র সংসদের কেন্দ্রগুলো মশামাছির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, আল বেরুনী হলের মূল ভবনের জাকসু কার্যালয়ে একটি সেলুন দেখা গেছে।

জানা গেছে, জাকসুর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় ছাত্র সংসদের চাঁদা হিসেবে ৩০ টাকা নেয়া হয়। আবার ইউজিসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মঞ্জুরিকৃত বাজেটেও জাকসু খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এই টাকা কোথায়, কার পেছনে ব্যয় হয় তার কোনো স্বচ্ছ হিসেব সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানে না।

ছাত্র সংসদ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, জাকসুর জন্য তারা বারবার উপাচার্যের কাছে দাবি জানালেও তিনি নিরব থেকেছেন। তারাও মনে করছেন, জাকসু কার্যকর না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় সম্ভব নয়। এ নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনকে ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেছেন, ‘আমরাও জাকসু নির্বাচন চাই, জাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। তবে কখন নির্বাচন হবে তা সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।’

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘ছাত্রলীগও জাকসু চায়। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল, থাকবে।’

ছাত্র সংসদ বিষয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ এবং বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশবিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ছাত্র সংসদ ছাড়া কীভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকারের কথা জানাবে তার কোনো উত্তর নেই। সরকারের ছাত্র সংসদ কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকার ছাত্র সংসদে নিজেদের কর্তৃত্ব থাকবে কি না এ নিয়ে সংশয়ে থাকলে তো জাকসু নির্বাচন দেবেই না।’ তবে একটি গঠনমূলক জাতি গঠনে ছাত্র সংসদের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি অভিমত দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘এর জন্য সময় প্রয়োজন। জাকসু নির্বাচন আমরাও চাই।’

অকার্যকর জাকসু খাতে কেন টাকা নেয়া হয়, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

এক ছাত্রনেতার বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে ১৯৯৩ সালের ২৯ জুলাই ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হলে তৎকালীন প্রশাসন জাকসুর কেন্দ্রীয় ও প্রতিটি হলের সংসদ বাতিল করে দেয়। তবে সে সময় শিক্ষকেরা এই ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এই বড় সংসদটিকে অচল করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলামেইল

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা