বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাষার লড়াই দেশে দেশে 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০ মে ১৯৬১ সালে আসামে মিছিলপশ্চিম পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া উর্দুকেই বাংলার রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বাংলা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের রক্তাক্ত দিন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’। এদিন ঢাকার রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে মাতৃভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন রফিক-সালাম-বরকতরা।

 
অবশেষে বাংলা ৪ ফাল্গুন ১৩৬২ সালে (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করতে বাধ্য হয় সরকার। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়।
এভাবে বিশ্বের নানা দেশেই ভাষার অধিকারের লড়াই হয়েছে। আবার স্বাধীন দেশের মধ্যে ভিন্ন ভাষার মানুষের মাতৃভাষার লড়াইতো সবসময়েরই। নানা দেশে যে আন্দোলনগুলো হয়েছে, সেগুলোর কোনওটা ছিল অহিংস, কোনওটা ছিল সহিংস।
একুশে ফেব্রুয়ারি এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক দিবসে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ দিনটিকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৯৯ সালে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পর থেকে পৃথিবীজুড়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

 

694874813ce062ba31125a8dca9ede23-
ভাষা আন্দোলন, ভাষাসৈনিক ও প্রথম শহীদ মিনারভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লাটভিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর নানা জায়গায় ভাষার দাবিতে সংগ্রাম হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নানাসময় ভাষার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। ভারতে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হয় ১৯৬৫ সালে, যখন হিন্দিকে একমাত্র সরকারি ভাষা করা হয়। ১৯৬৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়, মানুষ রাস্তায় নেমে আসে দলে দলে। প্রায় দুইমাস ধরে দাঙ্গা হয় দক্ষিণে, বিশেষত মাদ্রাজে। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে হিন্দির সঙ্গে ইংরেজিকেও ব্যবহারিক সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

 

 

বর্তমানে ভারতে ২২টি ভাষা সরকারের তালিকাভুক্ত এবং ৪টি ভাষাকে ঐতিহ্যবাহী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ভারতে মোট ভাষার সংখ্যা শ’খানেক। কেন্দ্রীয়ভাবে অফিস আদালতে হিন্দি এবং ইংরেজি ব্যবহৃত হয়।এছাড়া আসামেও ভাষার প্রশ্নে আন্দোলন হয়েছিল ১৯৬১ সালে। তৎকালীন প্রাদেশিক সরকার কেবল অহমীয় ভাষাকে আসামের একমাত্র সরকারি ভাষা করার বিরুদ্ধে আন্দোলনটি হয়েছিল। পরে অবশ্য বাঙলাকেও স্বীকৃতি দেয় প্রাদেশিক সরকার।

 

তারাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জদক্ষিণ আফ্রিকায় ভাষার আন্দোলন করেছিল স্কুল পর্যায়ের ছাত্ররা। গাউটাংয়ের জোহানসবার্গ শহরের সোয়েটোতে আন্দোলনটি হয়েছিল ১৯৭৬ সালের জুন ১৬। ওই এলাকা কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত শ্বেতাঙ্গ ডাচদের জার্মান-ডাচ ভাষার মিশ্রণের আফ্রিকানার ভাষাকে স্কুলে বাধ্যতামূলক করলে স্কুলের কিশোররা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে। কারণ তারা তাদের মাতৃভাষা জুলু এবং ব্যবহারিক লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা ইংরেজিতে শিক্ষা নিতে বেশি আগ্রহী ছিল।

 
আমেরিকায় অনেক মাতৃভাষার মৃত্যু হয়েছে। গত শতাব্দীর ষাট-সত্তরের দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময় এই নেটিভ আমেরিকান ভাষা রক্ষার ব্যাপারটিও আসে। মূল প্রস্তাবনার দীর্ঘ ২০ বছর আন্দোলন এবং আলোচনার পর ১৯৯০ সালে ৩০ অক্টোবর আমেরিকার বিভিন্ন নেটিভ/আদি/স্থানীয় ভাষা রক্ষা এবং সংরক্ষণের জন্য একটি আইন পাস হয়।
কানাডাতে, বিশেষত কানাডার পুর্ব অংশের অঙ্গরাজ্য কুইবেকে ভাষার স্বাধীনতা চেয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে কয়েকবারই। লাটভিয়াতে লাটভিয়ান-রাশিয়ার ভাষার মধ্যকার প্রতিযোগিতার কারণে, রাশিয়ান ভাষার স্বীকৃতির বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে লাটভিয়ানরা কয়েকশ’ বছরের প্রধান রুশ ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।

এ জাতীয় আরও খবর

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে

ডেঙ্গুতে আরও ৩ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪

বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

আগারগাঁওয়ে শুরু হচ্ছে হজ-ওমরাহ মেলা

গ্যাস সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সরকার ও বিএনপিতে রদবদলের আলোচনা

গ্যাস সংকটে দুর্ভোগে রাজধানীবাসী, চুলা ও সিএনজি দুই-ই বিপাকে

৯ জেলায় ঝড়ের সতর্কতা, ৬০ কিমি বেগে বাতাসের শঙ্কা