,

কলকাতার নির্মমতায় মরতে বসেছেন গ্রেগরি

news-image

ভালোবাসার টানে বাড়িঘর ছেড়ে সাত সাগর তেরো নদী পার হয়ে এসেছিলেন কলকাতায়। সংসারও পেতেছিলেন বিদেশ-বিভুঁইয়ে। কিন্তু সময় তাঁকে পথে বসিয়েছে। আক্ষরিক অর্থেই। এসএসকেএম হাসপাতালের সামনের সিমেন্টের বেঞ্চিতে একরাশ অবহেলাকে সঙ্গী করে পড়ে রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মাইকেল গ্রেগরি। প্রবল জন্ডিসে গা হলুদ। মাথার বালিশটা আসলে দরকারি কাগজপত্রের বান্ডিল। সহায় শুধুমাত্র স্ত্রী রানি ন্যান্সি। 'সহমর্মী' শহর পাশে নেই? আছে তো, পথচলতি লোকজনের করুণার দৃষ্টি ও টুকরো টুকরো প্রশ্ন। গত পাঁচ দিন ধরে এ ভাবেই হাসপাতালের গেটের মুখে শুয়ে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচার লড়াই চালাচ্ছেন এই অসহায় মার্কিন নাগরিক। চিকিত্সার সামর্থ্য নেই। স্বামীকে ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়তে দেখে স্ত্রী ন্যান্সির একটাই প্রশ্ন, 'ভালোবাসার শহরে কি এমন কেউ নেই যে ওঁকে আপন করে নিতে প্রস্তুত?'

কলকাতার সঙ্গে গ্রেগরির সম্পর্কের শুরু বছর আটেক আগে। ৫১ বছরের মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে আলাপ হয় খিদিরপুরের বাসিন্দা রানি ন্যান্সির। পত্রালাপের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতাও বাড়তে থাকে। ভারতে এসে রানির সঙ্গে দেখা করতে চান মাইকেল। চলেও আসেন। প্রথম দেখাতেই প্রেম। শুরুতে মাইকেল থাকতে শুরু করেন সদর স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে। অনলাইন ডেটা এন্ট্রি করে চালিয়ে নিচ্ছিলেন খরচাপাতি। এর মাঝেই বিয়ে করে ফেলেন দু'জনে। বিয়ের পর রানির খিদিরপুরের ভাড়াবাড়িতেই থাকতে শুরু করেন দু'জনে। পরিকল্পনা ছিল, আগামী দিনে কলকাতারই অন্য কোথাও বাড়ি নিয়ে পাকাপোক্ত ভাবে ভালোবাসার বাসা বাঁধবেন দম্পতি।

এ পর্যন্ত সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু সব বেলাইন হয়ে যায় বছর দেড়েক আগে, রানির মা-বাবা মারা যাওয়ায়। বাড়িওয়ালা উচ্ছেদ করতে চায় দম্পতিকে। স্থানীয় পুলিশ সাহায্য করলেও কিছুটা বাধ্য হয়েই বাড়ি মালিকের দাবি মেনে ভাড়া বাড়ি ছাড়েন ওই দম্পতি। বিনিময়ে বাড়িওয়ালা ক্ষতিপূরণ হিসেবে যত্‍‌সামান্য টাকা দেন। এর পর ফের সদর স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে থাকা শুরু করেন। কিন্তু সামান্য ডেটা এন্ট্রির আয়ে আর টানা যাচ্ছিল না সংসার। ফলে গ্রেগরি দম্পতি এর পরেই সিদ্ধান্ত নেন, ষাটের দশকের হিপ্পিদের মতো তাঁদেরও ঠিকানা হবে 'কেয়ার অফ ফুটপাথ'। গত পাঁচ মাস ধরে এ ভাবেই ওঁদের রাত কেটেছে কখনও হাওড়া স্টেশন, কখনও বিবাদী বাগ, কখনও ময়দান চত্বরে ফ্লাইওভারের নীচে। তা সত্ত্বেও ওঁরা কখনও একে অপরকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি। প্রেমের টান এতটাই।

কিন্তু অগস্টের শুরুতে হঠাত্‍ অসুস্থ হয়ে পড়েন মাইকেল। এসএসকেএমের মেইন বিল্ডিংয়ের সামনে বেঞ্চিতে স্বামীর পাশে বসে রানি বলছিলেন, 'হঠাত্‍ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে মাইকেল। হাঁটতেই পারছিল না। মাঝে মধ্যে পড়ে যাচ্ছিল। বাধ্য হয়ে এসএসকেএমে আসি।' সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিত্‍সকরা মেডিসিন বিভাগে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেইমতো অগস্টের ১৮ তারিখ ম্যাকেঞ্জি ওয়ার্ডে ভর্তি হন মাইকেল। কিন্তু আচমকাই ৫ সেপ্টেম্বর মাইকেলকে ছুটি দিয়ে দেন চিকিত্‍সকরা। রানির অভিযোগ, 'ডাক্তাররা বললেন, দীর্ঘদিন একটা বেড আটকে রাখা তো সম্ভব নয়। ওরা বলল, গোটা চারেক পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া বাড়িতে থেকেই এখন চিকিত্‍সা সম্ভব।' কিন্তু বাড়ি তো নেই! নিরাশ্রয় দম্পতির ঠিকানা তাই আবার সেই ফুটপাথ। ন্যান্সি ঘুরে বেরিয়েছেন চার্চে, মিশনারিজ অফ চ্যারিটি, এমনকি মার্কিন কনসাল জেনারেলের অফিসেও। কিন্তু সুরাহা হয়নি কোনও। এখন অবস্থাটা ঠিক কী? ভালোবাসার শহর কলকাতায় নিঃস্ব মাইকেল শুয়ে খোলা আকাশের নীচে, ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে। মাথার নীচে নথিপত্রের বান্ডিলে পাসপোর্ট। ভিসার মেয়াদ উতরে শেষ। লম্বা রোগা শরীরটা জন্ডিসে পুরো হলুদ। প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ এনে শিয়রে ঠায় বসে ন্যান্সি। রোদ বাড়লে স্বামীর মাথায় ছাতা ধরছেন। বৃষ্টি পড়লে হাত ধরে কোনও ক্রমে নিয়ে যাচ্ছেন ছাউনির তলায়। রানির কাকুতি-মিনতি শুনে মাঝে-মধ্যে কেউ এগিয়ে আসেন বটে, কিন্তু মাইকেলের হলদেটে শরীরটা দেখে পিছিয়েও যান। কেউ এগিয়ে আসবেন কি? কেউ কি আপন করে নেবেন ওঁদের? স্বামীর মুখ চেয়ে এটাই এখন একমাত্র আর্তি রানির। এইসময়

 

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর