,

হৃদয় বন্ধন তৈরি হয় সালামে

news-image

প্রতিটি জাতিরই একটা ঐতিহ্য রয়েছে যা তারা মেনে চলার চেষ্টা করে। আমাদের ধর্ম ইসলামও এর বাইরে নয়। এক মুসলমানের সঙ্গে আরেক মুসলমানের সাক্ষাৎ হলে সালামের প্রচলন রয়েছে। এ সালাম দেয়া-নেয়া আজকাল অনেক কমে গেছে। এটা সমাজকে, মানুষকে বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।

অফিস-আদালতে, রাস্তাঘাটে এমনকি বাসায় কেউ এলে সালাম দেয়া মুসলমানের সংস্কৃতি। অনেক দিন পর কারও সঙ্গে দেখা হলে বাক্যবিনিময়ের প্রথমই হল সালাম। সালাম দেয়া পরে মুসাফাহ্ করা। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অপরজনকে মনের কাছাকাছিই নয় একেবারে অন্তরে প্রবশে করতে পারে। ‘আস্সালামু আলাইকুম’-এর অর্থই হচ্ছে, ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ এর চেয়ে কল্যাণ কামনা আর কী হতে পারে?
একদিন আমি অ্যাপার্টমেন্টের লিফটে নামছিলাম। সেখানে দু’তিনজন ভদ্রলোক ছিলেন। আমি সালাম দিলাম। একজন মাথা নেড়ে সালামের জবাব দিলেন। মুখ ফুটে ‘ওয়ালাইকুম আস্ সালাম’ বলতেও তার কষ্ট লাগল। মুসাফাহ্ করা তো দূরের কথা। সেদিন মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সালামে সৃষ্টি হয় মানবপ্রেম, বর্ষিত হয় কল্যাণ।
আর সালাম তো শুধু সওয়াবের আশায় কেউ দেয় না। এটা আন্তরিকতা বৃদ্ধির একটা উপায়। বর্তমান সমাজে মানবপ্রেম কমছে দিন দিন। মানুষ ধীরে ধীরে বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এক পরিবার ভেঙে দশ পরিবার জন্ম নিচ্ছে। যৌথভাবে চলাফেরা কমে যাচ্ছে। যৌথভাবে বাস করা এমনকি খাওয়া পর্যন্ত হচ্ছে না। এক কাপ চা বা এক বাটি মুড়ি খেলেও যার যার রুমে বসে খাচ্ছে।
আল্লাহপাক কালামে পাকে এরশাদ করেছেন, যেন মুমিনগণ পরস্পরের রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে থাকে। আর এখন পারস্পরিক ভালোবাসার পরিবর্তে স্বার্থ এসে দাঁড়িয়েছে। দেখা যায় প্রতিবেশীর বাবা স্ট্রোক করেছে বা ছেলের পরীক্ষা চলছে। অতীতে দেখেছি এক সপ্তাহ আগেই আশপাশের বাসায় গিয়ে মুরব্বিদের সালাম করে দোয়া নিত পরীক্ষার জন্য। এখন বেশিরভাগ সময়ে খবরই রাখে না কেউ। পত্রিকায় ফলাফল বের হলে তখন জানা যায়, অমুকের সন্তান জিপিএ-৫ পেয়েছে এ++ পেয়েছে। এটা কেমন সামাজিকতা। আমরা যেহেতু মুসলিম সমাজে বাস করি। এখানে ভালোভাবে থাকতে হলে সবাইকে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। আমরা বাসায়, অফিসে, রাস্তায় যেখাইে চলাফেলা করি না কেন একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা-সাক্ষাৎ হবেই। সেখানে সালামও সম্ভব হলে মুসাফাহ্ বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিকটবর্তী হতে পারি। আমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। চাই ভালোবাসা, প্রেম-প্রীতির বন্ধনে একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে। আল্লাহ আমাদের সে তৌফিক দান করুন। আমাদের সবাইকে মানববন্ধন দৃঢ় হওয়ার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ