বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ দিলেই বিদ্যুৎ ফ্রি!

news-image

উৎপাদন বাড়লেও সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনাও। মূলত বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সহায়তায় এ ধরনের অবৈধ কাজ চলে। খোদ রাজধানীতে ইদানিং বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ধরাও পড়েছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-বড় ব্যবসায়ীরাও এ চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বিতরণ কোম্পানিগুলো যে সিস্টেম লসের হিসাব দেয় তার এবটা বড় অংশই বিদ্যুৎ চুরি। চুরি হওয়া বিদ্যুৎকে সিস্টেম লস দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়।

ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্সের প্রধান ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী এ প্রসঙ্গে জানান, বিদ্যুৎ চুরি ধরা পড়লে প্রকৃত বিলের তিন গুণ হারে জরিমানা গুণতে হবে। এছাড়া জেলেও যেতে হবে এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হবে।

সোমবার বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে রাজধানীতে ডিএম প্লাস্টিককে ১৬ লাখ টাকা এবং মীনা প্লাস্টিককে সাত লাখ টাকা জরিমানা করেছে ডিপিডিসি স্পেশাল টাস্কফোর্স। উভয় কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারখার মালিকসহ জড়িত সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, রোববার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ডিএম প্লাস্টিক কারখানাতে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। এ কারখানায় প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত মিটার বাইপাস করে বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছিল। মিটার সংযোগের আগের সার্ভিস তার কেটে তিন ফেজে বাইপাসের মাধ্যমে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে গত ছয় মাসে ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি হয়েছে। এ কারখানার মালিক সালাউদ্দিন ড্যানি মাতব্বার।

একই এলাকায় মীনা প্লাস্টিক নামক আরেকটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে মিটার টেম্পারিংয়ের ঘটনা উদঘাটন করা হয়, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি করা হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও বনশ্রী আবাসিক এলাকায় প্রাক্তন কর কমিশনার, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর আবাসিক ভবন ও কারখানায় বড় ধরনের বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা উদঘাটন করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। এসব ঘটনায় ৩ গ্রাহককে প্রায় ২২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এসব ঘটনা ধরা পড়ে।


এসব বিদ্যুৎ সংযোগ তাৎক্ষণিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। ডিপিডিসির তদন্তে দেখা যায়, এসব গ্রাহকদের কারখানা ও ভবনের মিটারের বেসপ্লেট সিল টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছিল। ফলে গ্রাহক ইচ্ছামত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তার বিপরীতে মিটারে রিডিং হচ্ছিল না।

ডিপিডিসির হিসাব অনুসারে, এতে এক লাখ ৮০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজন গ্রাহকের মধ্যে একজন হলেন বিসিএস কর ক্যাডারের (১৯৭৯ ব্যাচ) সাবেক কর কমিশনার ও কর আপীলের ট্রাইব্যুনাল সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি একটি ছয়তলা ভবনের মালিক। অপর দু’জন হলেন- যথাক্রমে তেজগাঁওস্থ তোফাজ লেবেল লিমিটেডের মালিক শাফিনুর রহমান এবং ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। এরা পাঁচ তলা ভবনের মালিক। অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন, ডিপিডিসির কর্মীদের ঘুষের বিনিময়ে তারা এ অনৈতিক কাজ করেছেন। সামান্য ঘুষের বিনিময়ে ওইসব কর্মীদের কাছ থেকে যে পরিমান বিদ্যুৎ নেয়া হয়, বলতে গেলে তা অনেকটাই ফ্রি!

এদিকে ডিপিডিসির যেসব মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা এই চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা