রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বজনদের হাতে প্রেমিক খুন : প্রেমিকার আত্মাহুতি

news-image

  গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা : মহানগরের হাতীমারায় প্রেমিকার স্বজনরা প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যার পাঁচদিনের মাথায় আত্মাহুতি দিলেন প্রেমিকা পারভীন আক্তার (১৫)। ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। পারভীন হামিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি স্থানীয় হাতিমারা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। মেয়ের প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা মামলায় বাবা হামিদুল পলাতক রয়েছেন।এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের হাতীমারায় ৯ জুলাই মেয়ের প্রেমিক তারেককে প্রেমিকার বাড়িতে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যা করেন প্রেমিকার বাবা হামিদুল ইসলাম। তারেক হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার জের ধরেই প্রেমিকা পারভীন আক্তার সোমবার রাতে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। মঙ্গলবার সকালে মা পারভীনকে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। কিন্তু ঘরের দরজা না খুললে তার সন্দেহ হয়। পরে অন্য ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়ের লাশ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, প্রেমিককে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেমিকা আত্মহত্যা করেছেন। তারেক হত্যার ঘটনায় মমিনুল ও ইব্রাহিম নামে দু’জন আটক করা হয়। হাতীমারার হামিদুল ইসলামের মেয়ে হাতীমার স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী পারভীন আক্তারের সঙ্গে সম্প্রতি একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে একই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র তারেক রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মাসে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রেমিকার বাবা হামিদুল ইসলাম জয়দেবপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তারেকের বড় ভাইকে গ্রেফতার করে। এ খবর পেয়ে তারেক পারভীনকে তার বাবার কাছে পৌঁছে দেন। পরে ৮ জুলাই রাতে প্রেমিকার বাবা তারেককে বাড়িতে ডেকে নেন। এ সময় ওই ছাত্রী ও তার মা শিরিন আক্তারকে পাশের একটি রুমে আটকে রেখে তারেককে তার সহযোগীদের নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে মুখে বিষ ঢেলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ওই এলাকায় একটি মসজিদের পাশে ফেলে রাখে।