,

লিচুর রাজ্যে ভ্রমণ

news-image

গ্রীষ্মের সবচেয়ে লোভনীয় ও স্বল্পমেয়াদী ফল লিচু। দেশের সব ফলের বাজার এরইমধ্যে লিচুর রংয়ে রাঙাতে শুরু করেছে। বাগানগুলোর গাছে গাছেও এখন থোকায় থোকায় পাকা লিচু আছে। বাংলাদেশের পাবনা ও দিনাজপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি লিচুর চাষ। গাছ থেকে পেড়ে লিচু খেতে চাইলে এই দুই জায়গা থেকে ঘুরে আসা যায়।

পাবনার লিচু বাগান: পাবনা জেলার সবচেয়ে বেশি লিচুর চাষ হয় ঈশ্বরদীতে। এরই মধ্যে বাগানগুলোতে লিচু পাড়া শুরু হয়ে গেছে। নাটোরের বনপাড়া ছেড়ে পাবনার সড়কে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে শত শত লিচুগাছ। গাছের ডালে ডালে পাকালিচুর থোকা। অনুমতি নিয়ে যে কোনো বাগানে ঢুকে পড়তে পারেন। এখানকার চাষীরা বেশ অতিথি পরায়ণ। লিচু দিয়ে আপ্যায়নে তাদের আনন্দেরও শেষ নেই। বাগান থেকে কম দামে পছন্দের লিচু কেনাও যাবে। লিচু বাগানে বেড়ানোর জন্য ঈশ্বরদীর সবচেয়ে ভালো জায়গা ছলিমপুর আর মিরকামারী। এখানকার সব বাগানই মূলত মহাসড়কের দুইপাশে।লিচুর মৌসুমে দিনাজজপুর জেলার মাসিমপুরের বাগানে চাষীদের ব্যস্ততা। বাজারে পাঠানোর আগে গাছ থেকে পাড়া লিচু বাছাই চলছে। ছবি: মুস্তাফিজ মামুন।লিচুর মৌসুমে দিনাজজপুর জেলার মাসিমপুরের বাগানে চাষীদের ব্যস্ততা। বাজারে পাঠানোর আগে গাছ থেকে পাড়া লিচু বাছাই চলছে। ছবি: মুস্তাফিজ মামুন।ঈশ্বরদীর লিচু চাষের প্রধান এলাকাগুলো জয়নগর, মিরকামারী, চরমিরকামারী, মানিকনগর, ছলিমপুর, সাহাপুর, ভাড়ইমারী, জগন্নাথপুর, বক্তারপুর, বড়ইচড়া, শিমুলচড়া ইত্যাদি। এসব এলাকার তিন হাজারেরও বেশি হেক্টর জামিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হয়। ঈশ্বরদীতে বেদানা, বোম্বাই, চায়না-১, মোজাফফরপুরী, বারী-১সহ বিভিন্ন জাতের লিচুর আবাদ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বোম্বাই জাতের লিচু।

যাতায়াত ও থাকা: ঢাকা থেকে বাসে ও রেলে ঈশ্বরদী যাওয়া যায়। ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে ঈশ্বরদী এক্সপ্রেস, পাবনা এক্সপ্রেস ও সনি এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে। ভাড়া ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, রাজশাহী রথকে কপোতাক্ষ ও মধুমতি এক্সপ্রেসে পাবনা যাওয়া যায়। খুলনা থেকে যায় সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস, রূপসা এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস। এবং সৈয়দপুর থেকে রূপসা এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদীতে যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে ঈশ্বরদীর ট্রেনের ভাড়া ২২৫ থেকে ৮১০ টাকা। ঢাকা থেকে রাতের বাসে গিয়ে দিনভর ভ্রমণ শেষে আবার রাতের বাসে ফেরা সম্ভব। আর থাকতে চাইলে ঈশ্বরদী ভালো। এখানে থাকার জন্য সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের পাশে আছে হোটেল ফয়সাল, ঈশ্বরদী ও উত্তরা। এসব হোটেলে আড়াইশ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকায় থাকা যায়। বাজারে পাঠানোর আগে ঝুড়িবন্দী করা হচ্ছে লিচু। ঈশ্বরদীর মিরকামারী এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি: মুস্তাফিজ মামুন।বাজারে পাঠানোর আগে ঝুড়িবন্দী করা হচ্ছে লিচু। ঈশ্বরদীর মিরকামারী এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি: মুস্তাফিজ মামুন।বাজেট বেশি থাকলে পাকশী রিসোর্টে থাকতে পারেন। জায়গাটিতে থাকা এবং খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পাকশীতে অফিসার্স রেস্টহাউস কিংবা ভিআইপি রেস্টহাউসেও থাকা যায়।

দিনাজপুরের লিচু বাগান: এই জেলার সব জায়গাতেই লিচুর চাষ হয়। তবে সবচেয়ে পুরানো এবং বেশি লিচুর চাষ হয় জলা সদরের মাশিমপুরে। দিনাজপুর শহর থেকে রামসাগরমূখী সড়ক ধরেই যেতে হয় মাশিমপুর। তিন, চার কিলোমিটার চলার পরে সড়কের দুইপাশে শুধুই লিচুর গাছ মাশিমপুরের পরিচিতি জানান দেবে। মূল সড়ক ছেড়ে ছোট কোনো পার্শ্ব সড়কে ঢুকে পড়লেই পাওয়া যাবে পুরানো গাছের বড় বড় লিচু বাগান। এ সময়ে মাশিমপুর গেলে দেখা যাবে বাড়িতে বাড়িতে লিচু পাড়ার ব্যস্ততা। তবে এখানে মাদ্রাজি ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ বেশি। এছাড়া জেলার ফুলবাড়ি, কাহারোল, বিরামপুর, বীরগঞ্জ ছাড়াও অন্যান্য সব উপজেলায় প্রচুর লিচুর চাষ হয়। এসব যায়গায় চায়না থ্রি, বেদানা জাতের লিচুর চাষ বেশি। 

যাতায়াত ও থাকা: ঈশ্বরদীর মিরকামারী এলাকার বাগান থেকে পাড়া লিচু বাজারে পাঠানোর আগে বাছাই করা হচ্ছে। ছবি: মুস্তাফিজ মামুন।ঈশ্বরদীর মিরকামারী এলাকার বাগান থেকে পাড়া লিচু বাজারে পাঠানোর আগে বাছাই করা হচ্ছে। ছবি: মুস্তাফিজ মামুন।ঢাকা থেকে দিনাজপুর যেতে পারেন সড়ক ও রেলপথে। এ পথের বাসগুলো সাধারণত ছাড়ে ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে। নাবিল পরিবহনের এসি বাসের ভাড়া ১ হাজার টাকা। এছাড়া নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস আর ট্রাভেলস, কেয়া পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন ইত্যাদি ননএসি বাসের ভাড়া ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা।
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস সপ্তাহের বুধবার ছাড়া প্রতিদিন ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে। আর আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন ছাড়ে সকাল ১০টায়। ভাড়া শোভন সিট ৩৩৫ থেকে ১ হাজার ২৮৫ টাকা।

দিনাজপুর শহরে ভালো মানের থাকার জায়গার মধ্যে আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পর্যটন মোটেল (০৫৩১-৬৪৭১৮)। এসি রুমের ভাড়া ১ হাজার ৯শ’ থেকে ২ হাজার ৩শ’ টাকা। ইকনোমি রুম ৭শ’ টাকা। এছাড়া দিনাজপুরের অন্যান্য সাধারণ মানের হোটেলে ১শ’ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে। কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল হল— মালদহ পট্টিতে হোটেল ডায়মন্ড, নিমতলায় হোটেল আল রশিদ, হোটেল নবীন, হোটেল রেহানা, নিউ হোটেল ইত্যাদি।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ