,

গরমে ভারতে ৩৫০ জনের মৃত্যু

news-image

ভারতের একটা বিস্তীর্ণ অংশে তীব্র তাপপ্রবাহে গত তিনদিনে অন্তত সাড়ে তিনশো লোক মারা গেছেন। দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানা রাজ্যে এই দাবদাহ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শুধু শনিবারেই এই দুই রাজ্যে অন্তত ১৩৫ জন মারা গেছে বলে রির্পোট করেছে বিবিসি।

রির্পোটে বলা হয়, দেশটির মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর জনপদের প্রায় পুরোটা জুড়েই তাপমাত্রা এখন স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ছ-সাত ডিগ্রি বেশি, খাম্মামে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রিতেও পৌঁছেছে। গরমে যারা মারা গেছেন তাদের অনেকেই গরিব দিনমজুর বা শ্রমিক।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানাচ্ছে, গত দু-তিনদিনে দেশের বহু জায়গাতেই তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা দেশটির স্বাধীনতার পর মে মাসে কখনও তত বেশি হয়নি।

যেমন, তেলেঙ্গানার খাম্মাম জেলায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি বা দিল্লির কাছে পালামে তাপমাত্রা এর মধ্যেই ৪৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে-এমন কী হিমালয়ের কোলে সাড়ে ছয় হাজার ফিট উচ্চতায় শৈলশহর মুসৌরিতেও পারদ ৩৬ ডিগ্রি ছুঁয়েছে, যা প্রায় গত সত্তর বছরের মধ্যে রেকর্ড।

কিন্তু অবস্থা সবচেয়ে দুর্বিষহ দেশটির অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানায় – যেখানে প্রচ- গরমে রোজ বহু লোক মারা যাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে, ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করা হয়েছে নিহতদের জন্য।

অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেছেন, ‘যত বেশি সম্ভব পানীয় জল বিতরণ কেন্দ্র চালু করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রচন্ড গরম থেকে বাঁচতে কী করতে হবে ও কী করতে হবে না – সরকার তা নিয়েও প্রচার চালাবে।’

তিনি আরও জানান, ‘গত তিনদিনে শুধু আমাদের রাজ্যেই গরমে শতাধিক মৃত্যুর খবর পেয়েছি, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। নিহতদের জন্য আমরা এক লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি, এবং মৃত্যুর সংখ্যা যত কম করা যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

তাপপ্রবাহের সময় দিল্লির রাজপথে মরীচিকা দেখা গিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গ্রামীণ এলাকায় একশো দিন কাজের যে নিশ্চয়তা প্রকল্প আছে, তা কিন্তু এই গরমেও থেমে নেই।

এই প্রকল্পে মাটি কোপানো বা রাস্তা বানানোর মতো অনেক কাজই করতে হয় ঠা ঠা রোদের মধ্যে – আর তারপর অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানাতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সানস্ট্রোকে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এই সব মৃত্যুর পর এখন দুই রাজ্যের সরকারই তাদের একশো দিন কাজের নিশ্চয়তা প্রকল্পে রদবদল করেছে – যাতে শ্রমিকদের দুপুররোদে কাজ করতে না-হয়।

বেলা এগারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত মানুষকে রোদে না-বেরোনোর পরামর্শও দিয়েছে সরকার।

ওদিকে ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অন্যতম কর্মকর্তা বিপি যাদব জানান, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারতের প্রায় কোনও অংশেই ঝড়বৃষ্টি বা মেঘের কোনও দেখা মেলেনি – ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে।

তার ওপর পশ্চিমা বায়ু পশ্চিম রাজস্থানের মরুভূমি বা পাকিস্তানের দিক থেকে আরও উত্তাপ বয়ে আনছে।

সেখানে তাপমাত্রা এর মধ্যেই ৪৮-৪৯ ডিগ্রির কাছাকাছি, ফলে গরম জায়গা থেকে আসা হাওয়া আরও তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, বলেন মি যাদব।

উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র বা ওড়িশ্যা – ভারতের প্রায় কোনও রাজ্যই এই তাপপ্রবাহের কবল থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে আগামী আরও বেশ কিছুদিন এই মারাত্মক গরম বজায় থাকবে।

জুনের প্রথম সপ্তাহে ‘মনসুন’ বা মৌসুমী বায়ু ভারতের কেরল উপকূলে পৌঁছনোর কথা – তারপর থেকেই বাকি দেশে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে পারে বলে রির্পোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা