শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলের পল্লীতে সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-২০ বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট

news-image

সরাইল প্রতিনিধিঃ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সরাইলের পল্লীতে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে জাকির মিয়া (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। নারী পুরুষ সহ আহত হয়েছে ২০ জন। বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের হরিপুর ও ষাটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্ধাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরন করেছে। পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ষাটবাড়িয়া গ্রামের খুরশেদ মিয়ার (৬০) গোত্রের লোকজনের মধ্যে কলহ চলে আসছিল। এক পক্ষের স্বজন পার্শ্ববর্তী হরিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আকবর আলী, সলিম উদ্দিন (৩০), কুতুব মিয়ারা (২৭)। ষাটবাড়িয়া গ্রামের কুদ্দুছ মিয়া পানিশ্বর ইউনিয়নের নোয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। ১৫-২০ দিন আগে কুদ্দুছ মাষ্টার বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে হাওরের মাঝখানে সলিম, কুতুব মিয়া সহ ১০-১২ জন লোক মারধর করে। বিষয়টি হরিপুর গ্রামের সালিসকারকদের জানালেও কোন প্রতিকার মিলেনি। পরে কুদ্দুছ মাষ্টার মারধরের ভয়ে অরুয়াইল দিয়ে ঘুরে কর্মস্থলে যাওয়া আসা করতে থাকেন। গত শনিবার বাড়ি যাওয়ার উদ্যেশ্যে ফতেহপুর নৌকা ঘাটে নামা মাত্র কুদ্দুছ মাষ্টারকে হরিপুরের সলিমের লোকজন ফের মারধর করে। এ ঘটনাটি নিস্পত্তির জন্য উভয় গ্রামের লোকজনকে ডাকেন স্থানীয় সর্দাররা। কিন্তু ওই সালিসে সলিমের লোকজন আসেনি। গত রোববার সকালে নদীতে মাছ ধরতে গেলে ষাটবাড়িয়া গ্রামের জেলেদের আক্রমন করে হরিপুরের লোকজন। তারা দৌড়ে গ্রামে চলে আসে। সোমবার সকালে আকবর আলী, সলিম ও কুতুবের নেতৃত্বে হরিপুর গ্রামের কয়েক’শ লোক দেশীয় অ¯্রে সজ্জিত হয়ে ষাটবাড়িয়া গ্রামে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। বেধে যায় সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে গুরুতর আহত হয় হরিপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে জাকির। তাকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে নারী পুরুষ সহ উভয় পক্ষের প্রায় বিশ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। ওদিকে জাকির নিহত হওয়ার খবরে হরিপুর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ষাটবাড়িয়া গ্রামের এক পাশের বসতবাড়ি গুলোতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আসার দেড় ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। পুলিশ সেখানে অবস্থান করছে।