,

১৬ বছরে মেয়েদের বিয়ের সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক ও আত্মঘাতী (ভিডিও)

marriage-age-13816ডেস্ক রির্পোট : মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হলেও শর্ত সাপেক্ষে ১৬ বছর বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। তবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪-এর খসড়ায় সরকারের এমন প্রস্তাবনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন নারী আন্দোলনের নেত্রীরা। এমন সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক ও আত্মঘাতী হবে বলেও মন্তব্য তাদের।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধা বাল্যবিবাহ। এমনকি সরকারের সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপও বলছে, দেশে ১৮ বছর পূর্ণ হবার আগেই বাল্যবিবাহের শিকার হন ৬৬ শতাংশ কিশোরী।

এমনই প্রেক্ষাপটে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এর খসড়াকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। খসড়ায় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার প্রস্তাব করা হলেও বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন মন্ত্রিসভা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স সাধারণভাবে ১৮ রেখেই আদালত অথবা বাবা-মায়ের সম্মতি সাপেক্ষে ১৬ বছর করার কথা ভাবছে।

বিষয়টির সমালোচনা করে নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রীরা বলেন, এমন সিদ্ধান্ত তারা কোনভাবেই মেনে নেবেন না।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, 'মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ করা পক্ষে আমরা নই। কোন শর্ত দিয়ে যদি এটি বিদ্যমান রাখা হয় তবে কোনভাবেই মানা হবে না। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক সময় ১৬ বছরের নাম করে ১৪ বছরের মেয়ের বিয়ে হবে।'

জাতীয় কন্যা শিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি জানান, 'সরকার নানামুখী চাপে কৌশল অবলম্বন করেছে। যখন এই আইন করা হবে তখন বাল্যবিবাহের হার পরিসংখ্যানে কম দেখা যাবে। শুধু দেশীয় প্রেক্ষাপটে না আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও বলার সুযোগ হবে আমরা আমাদের দেশ থেকে বাল্য বিবাহের হার অনেক কমিয়ে এনেছি। শিশুদের বিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে। এছাড়াও সমস্ত পলিসিগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে।'

যেকোনো অজুহাতে মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর সুযোগ থাকলে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে তা সার্বজনীন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন এ নেত্রীরা।

তবে বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বরং মানবিকতার স্বার্থেই খসড়ায় এমন প্রস্তাবনা করা হয়েছে বলে জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, 'এখানে রাজনৈতিক কোন উদ্দেশ্য নেই। যেকোনো আইন করতে হলে একটা দেশের প্রেক্ষাপটও চিন্তা করতে হবে। আর এমন ভাবেও করবো না যে অভিভাবকরা ভাবলো আর ১৬ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলো। এ ধরণের সুযোগ অবশ্যই থাকবে না।'

বর্তমানে এ খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা