,

আলোচনা না করলে কিছু বদলানো সম্ভব নয়

65118_f5আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অর্থনীতিতে উপমহাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন মনে করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের চেয়ে মানবিক প্রগতি অনেক বেশি জরুরি। আর উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য আলোচনাই প্রধান মাধ্যম। গণতন্ত্রে আলোচনা না করলে কোন কিছু বদলানো সম্ভব নয়। কিন্তু দিন দিন আলোচনার জায়গাটা সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নিজের লেখা বইয়ের অনূদিত সংস্করণ ‘ভারত: উন্নয়ন ও বঞ্চনা’-এর প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রথম আলো ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের যৌথ উদ্যোগে ‘অর্থনৈতিক প্রগতি ও মানবিক প্রগতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান। একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অমর্ত্য সেন বলেন, অর্থনৈতিক প্রগতি ও মানবিক প্রগতি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। একটি ছাড়া অপরটির উন্নয়ন মানুষের কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে না। মানবিক প্রগতির জন্য দেশের সব নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মানব উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিশ্চিত করা দরকার। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে অবশ্যই সরকারকে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রগতির পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নের জন্য সরকারের সঙ্গে প্রাইভেট খাতের ভূমিকাও অনেক বড়। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া গণতান্ত্রিক উপায়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখা যায় না। কোন কিছুর পরিবর্তন ও উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক আলোচনা জরুরি।

ভারতের উদাহরণ টেনে অমর্ত্য সেন বলেন, ভারত ১৯৪৭ সালের পর থেকে ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারলেও মানবিক প্রগতি সুনিশ্চিত করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো বিষয়গুলোতে ১৯৯০ সালে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে এগিয়ে আছে।

অ্যাডাম স্মিথের দ্য ওয়েলথ অব নেশন্স বইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মানবিক প্রগতির জন্য কাজ করতে টাকার দরকার। তিনি বলেন, নাগরিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুব্যবস্থার দায়িত্ব সরকারের নেয়া উচিত; বেসরকারিভাবে তা সবার জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ভারতের কেরালা রাজ্যের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে অমর্ত্য সেন বলেন, মানবিক প্রগতি অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে। মানবিক প্রগতি ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন বঞ্চনার সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের কাছেও ভারতের শেখার আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো কয়েকটি পণ্যনির্ভর। ভারত মূলত তথ্য-প্রযুক্তি, ফার্মেসি ও অটোমোবাইল এ তিনটি পণ্য রপ্তানি করে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল বাংলাদেশের তুলনায় ৫০ ভাগ বেশি। আর বর্তমানে এর ব্যবধান প্রায় শতভাগ। তারপরও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি অনেক বেশি।

অমর্ত্য সেন বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্নখাতে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এটা ছিল না। তাই চাকরির বাজারে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তির এব্যাপারটি বাংলাদেশের একক কৃতিত্ব। জেন্ডার প্রগতির এ ব্যাপারটি বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতকে শিখতে হবে বলে এসময় উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পড়াশুনা করতে হবে। বেশি বেশি বই পড়তে হবে। তবে যা পড়ছি তাই মানতে হবে- এমন নয়। কোন বিষয়ে দ্বিমত থাকলে তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এর মাধ্যমেই একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ