বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদে খাদ্যচাহিদা পূরণ সম্ভব?

a66fdbf7c0c7529a77857364abf00c0d-web-organআন্তর্জাতিক ডেস্ক :জৈব কৃষিপদ্ধতি ঠিকমতো প্রয়োগ করলে সারা বিশ্বের মানুষের খাবারের চাহিদা পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এ পদ্ধতিতে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন হয়, তা বিজ্ঞানীদের আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলিতে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ কথা জানিয়েছেন।

রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়া সম্পূর্ণ জৈব উপায়ে চাষাবাদের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি রয়েছে। পরিবেশবান্ধব হলেও এ পদ্ধতি সারা বিশ্বের খাদ্যচাহিদা পূরণের উপযোগী নয় বলে সমালোচনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই নতুন গবেষণায় পুরোনো ধারণার বিপক্ষে অনেক বিশ্লেষণমূলক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে জৈব চাষাবাদ পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন গড়ে মাত্র ১৯ দশমিক ২ শতাংশ কম হয়। এ ব্যবধান মাত্র ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব, যদি কীটনাশকমুক্ত ফসল আরও বেশি উৎপাদন করা হয়। আবার শিমজাতীয় কয়েকটি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে, যেমন: শিম, মটরশুঁটি ও মসুর ডাল, জৈব ও রাসায়নিক চাষাবাদ পদ্ধতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তেমন কোনো ব্যবধান নেই।

রাসায়নিক পদ্ধতিতে প্রচুর চাষাবাদের কারণে পরিবেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে উদ্বেগ ক্রমে বাড়ছে। বিপুল পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মৌমাছি ও অন্যান্য উপকারী কীটপতঙ্গ মারা যাচ্ছে। ফসলের পরাগায়ণে এসব কীটপতঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাড়লেও তাতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির হার দিন দিন কমে যাচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ক্লেয়ার ক্রেমেন বলেন, তাঁরা প্রচলিত কৃষি এবং জৈব চাষাবাদ পদ্ধতির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্যচাহিদা আগামী ৫০ বছরে অনেক বাড়বে। এখন জৈব চাষাবাদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ, কৃষিশিল্পের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। আবার, উৎপাদন বৃদ্ধিতে রাসায়নিক সারের কার্যকারিতাও কমে যাচ্ছে।

গবেষকেরা ১১৫টি গবেষণার মধ্যে সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখতে পান, জৈব চাষাবাদ পদ্ধতির বৃহত্তর সাফল্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত রাসায়নিক পদ্ধতির চেয়ে কম ফসল উৎপাদনের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বিভিন্ন উপায়ে তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। একই মাঠে একসঙ্গে বহু ফসলের চাষাবাদ করে উৎপাদন ব্যবধান ১৯ দশমিক ২ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা যেতে পারে।

রয়েল সোসাইটি বি সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের অনেক গবেষণায় রাসায়নিক পদ্ধতিকে বেশি উৎপাদনমুখী বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবেশবান্ধব কৃষিশিল্পে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে এবং জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। খাবার উৎপাদনের কথা বিবেচনায় রেখেই জৈব চাষাবাদ পদ্ধতিকে একসময় প্রচলিত কৃষিশিল্পের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতির আধুনিকায়নের মাধ্যমে এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

অধ্যাপক ক্রেমেন বলেন, বিশ্বে অনাহার পুরোপুরি দূর করতে হলে এবং মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে হলে কেবল খাবার উৎপাদন করে গেলেই হবে না। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতির প্রয়োগ জরুরি। কৃষিকাজের জৈব পদ্ধতি এখন কেবল একটি বিকল্প নয়, বরং এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। মাটি, পানি এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার কথা না ভাবলে খাদ্য উৎপাদন বেশি দূর এবং বেশি দিন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা