বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের দুধের ব্যাংক

93b780c2b2a1f32de0fb5ace131aca82-MOTHERS-MILK-BANKলাইফস্টাইল ডেস্ক :দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়ে প্রীতি খুবই দোটানায় পড়ে গেলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না সদ্যোজাত ছেলেটিকে নিয়ে খুশি হবেন, না চিন্তিত হবেন! এই সন্তান প্রসব করতে গিয়ে ২৭ বছর বয়সী প্রীতির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে যান যে, ছেলেটিকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থা ছিল না প্রীতির। ছেলেটির অবস্থাও দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছিল। চিকিৎ​সক বললেন বাঁচাতে হলে ছেলেটিকে দ্রুত মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।



প্রতিদিনই লাখো নতুন মাকে প্রীতির মতোই এমন অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়। অপুষ্টি এবং প্রসবকালীন জটিলতার কারণে বিশ্বের নানা প্রান্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সংকট সবচেয়ে বেশি। আর নবজাতকের মৃত্যুর নানান কারণের মধ্যে এই মায়ের দুধের অভাব অন্যতম। মায়ের দুধের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সদ্যোজাত শিশুর প্রাণ বাঁচানো এবং মায়েদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ভারতের রাজস্থানের দিব্য মায়ের দুধের ব্যাংক। বিস্তারিত জানুন হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে এই প্রতিবেদনে।

ভারতে প্রতি এক হাজারে শিশুমৃত্যুর হার ৪৪। আর দেশটির নানা রাজ্যের মধ্যে রাজস্থানে এমন শিশুমৃত্যু প্রতি এক হাজারে ৫২। প্রীতির বাড়ি রাজস্থানের উদয়পুর জেলায়। তাঁর ছেলেটি এত দুর্বল ছিল যে, ১৫ দিন বয়সে ওর ওজন ছিল মাত্র ৯০০ গ্রাম। এই সংকটের মধ্যে ছেলেটিকে বাঁচাতে সহায়তা করেছিল ‘দিব্য মায়ের দুধের ব্যাংক’-ডিএমডিবি। এই ব্যাংকের প্রধান সমন্বয়কারী এস এল ধর্মাবত জানান, দুধ খাওয়ানোসহ মাত্র ১০ দিনের শুশ্রূষাতেই প্রীতির ছেলেটির ওজন দেড় কিলোগ্রামে উঠে আসে এবং দ্রুতই সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি।

গত বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উদয়পুরের ডিএমডিবি এখন পর্যন্ত ৬৪৪টি শিশুর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে। এসব নবজাতকের মায়েরা অপুষ্টি থেকে শুরু করে এইচআইভি সংক্রমণসহ নানা কারণে সন্তানকে দুধ খাওয়াতে পারছিলেন না। মায়ের দুধের এই ব্যাংকটি পরিচালনা করে মা ভগবতী বিকাশ সংস্থা নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। এই দুধ ব্যাংকের পাশাপাশি অসহায় কন্যাশিশুদের আশ্রয় ও পরিচর্যার একটা প্রকল্পও পরিচালনা করে থাকে সংস্থাটি। রাজস্থানের প্রবল পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই যুগেও কন্যাশিশু পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা খুবই সাধারণ। প্রকল্পটিতে এ পর্যন্ত এমন প্রায় ১০০ কন্যাশিশুকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃত্ব ও শিশুমৃত্যুর এই সামাজিক বাস্তবতার পুরো ছবিটাই খুব করুণ। সেভ দ্য চিলড্রেন এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক জয় লোনের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—শুধু ২০১২ সালেই পুরো ভারতে জন্মের প্রথমদিনেই মারা গেছে অন্তত ১০ লাখ শিশু।

মা ভগবতী বিকাশ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্র আগরওয়াল বলেন, ‘নিও ন্যাটাল ইনটেনসিভ ইউনিটে মারা যাওয়া ৭৫ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া এবং ডায়াবেটিস। কিন্তু এমন মৃত্যুর ২২ ভাগই রোধ করা সম্ভব নবজাতকদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে।’ আগরওয়াল আরও বলেন, ‘প্রি-ম্যাচিউর বেবি বা অপূর্ণতা নিয়ে জন্মানো শিশুদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ ভাগ বেশি সাফল্য পাওয়া যায় শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে পারলে। আমরা এখানে এটাই করার চেষ্টা করি।’

এই মায়ের দুধের ব্যাংক পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক পরিসরে মা ও শিশু বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করে যাচ্ছেন আগরওয়াল। সংগঠক এবং যোগ-সাধনার শিক্ষক আগরওয়াল জানালেন, বুকে দুধ হচ্ছে না কিংবা অতিরিক্ত দুধ হচ্ছে দুই ধরনের মায়েরাই এখন ডিএমডিবিতে আসছেন। তিনি বলেন, ‘এ বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৪০৫ জন নারী এই ব্যাংকে আট হাজার ৩৮৯ ইউনিট দুধ দান করেছেন। এমন এক ইউনিটে ৩০ মিলিলিটার দুধ থাকে।’

কোনো মা দুধ দান করার পর তা পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি বা এমন অন্যান্য রোগমুক্ত কি না, সেগুলো যাচাইয়ের পরই দুধ সংরক্ষণ করা হয়। এই দুধ প্রথমে একটা ‘হট এয়ার ওভেনে’ ৩০ মিনিট ধরে স্টেরিলাইজ বা জীবাণুমুক্ত করা হয়। তারপর তা ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ৩০ মিনিট ধরে পাস্তুরিত করা হয়। এরপর ২০ ডিগ্রির চেয়ে কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয় মায়েদের দান করা দুধ। এভাবে সংরক্ষণ করলে ছয় মাস পর্যন্ত পানযোগ্য থাকে এই দুধ।

‘মায়ের দুধ সদ্যোজাতের জন্য আশীর্বাদের ঝর্ণাধারা। আমাদের মতো দুধ ব্যাংকগুলো মা ও শিশুর দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদের এমন আরও অনেক ব্যাংক প্রয়োজন। কিন্তু পুরো রাজস্থানে আমরাই এমন একমাত্র ব্যাংক।’ ডিএমডিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আরকে আগরওয়াল এভাবেই তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে বলছিলেন।

দিব্য মায়ের দুধের ব্যাংক কেবল সদ্যোজাত শিশুদের মায়ের দুধই খাওয়ায় না। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু সেবা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। বুকে দুধ এলেও শারীরিক জটিলতার জন্য শিশু ঠিকভাবে দুধ পায় না—এমন মায়েদেরও সহায়তা করে তারা। চোষণযন্ত্রের মাধ্যমে দুধ নিয়ে এমন প্রায় দুই হাজার শিশুকে দুধ খাওয়ানোয় সহায়তা করেছে তারা।

ভারতে এমন মাত্র ১০টি মায়ের দুধের ব্যাংক আছে বলেও জানায় দিব্য মায়ের দুধের ব্যাংক কর্মকর্তারা। পুনে, মুম্বাই, সুরাটসহ আরও কয়েকটি নগরে এমন ব্যাংক আছে বলে জানান আর কে আগরওয়াল। তিনি বলেন, ভারতে প্রতিবছর দুই লাখ ৭৬ হাজার শিশু জন্মের খবর পাওয়া যায়। এই মায়েদের অর্ধেকও যদি দুধ দান করতেন তাহলে নবজাতকের মৃত্যু বিপুল পরিমাণে কমিয়ে আনা যেত। তিনি আরও জানান, ব্রাজিলে এমন প্রায় ২০০ মায়ের দুধের ব্যাংক আছে। এই ব্যাংকগুলো ব্রাজিলে নবজাতকের মৃত্যু ৭০ ভাগ কমিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশেরও উচিত এ বিষয়ে ব্রাজিলকে অনুসরণ করা।

এ জাতীয় আরও খবর

৫০ প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা হচ্ছেন এসিল্যান্ড

বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে ইউপি নির্বাচন

হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০০ ছাড়াল

এজলাসে পেপারওয়েটের আঘাতে আহত নারী আইনজীবী

গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করল জামায়াত

দিল্লির বিক্ষোভে আতঙ্কিত ছিলেন কঙ্গনা

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির

নগদ টাকার প্রবাহে বড় উত্থান, ব্যাংক খাতে বাড়ছে চাপের শঙ্কা

বাজেটে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

তারল্য ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন

কোটা আন্দোলন ঘিরে গ্রেপ্তার ১২শ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী

আটকের পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতারা