বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মর্গে নেয়ার পথে নড়েচড়ে উঠল লাশ

ডেস্ক রির্পোট :মর্গে নেয়ার পথে নড়েচড়ে উঠল লাশ। মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে গেল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দৃশ্যপট। কেউ ভয়ে চিৎকার দিয়ে দিগি¦দিক ছুটতে শুরু করেন। আবার কেউ কৌতূহল নিয়ে লাশের দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন। হইচই পড়ে যায় গোটা হাসপাতালে। কানাকানি শুরু হয় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন জীবিত রোগীকে মৃতের সার্টিফিকেট দিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশকাটা ঘরে (মর্গ) পাঠানো হয়। কিন্তু ট্রলিতে উঠানোর পরই সে নড়েচড়ে ওঠে।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মাসের ২ তারিখ পথচারীরা রাস্তা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক মহিলাকে (৪৫) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দিয়ে যান। চরম পুষ্টিহীন ওই মহিলা প্রায় অচেতন ছিলেন। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক আমিনুল হকের অধীনে তাকে ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সিট না পেলেও ফোরে জায়গা হয় তার। কিন্তু ওই মহিলার কোনো স্বজন না থাকায় তার কাছে কেউ যাচ্ছিলেন না। একটি স্যালাইন লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। স্যালাইন শেষ হলে দায়িত্বরত ওয়ার্ড তাকে সেটি পরিবর্তন করে নতুন স্যালাইন লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। এভাবে চলতে থাকলে গতকাল বেলা ২টায় ওয়ার্ডবয় বিল্লাল ও ফজলা ওই মহিলার কাছে যান। মহিলা নড়াচড়া না কারায় তারা ডিউটি ডাক্তারকে বলেন, ‘ওই রোগী মারা গেছেন’। ডিউটি ডাক্তার কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে রোগীর কাছে না গিয়ে ওয়ার্ডবয়দের কথায় রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর যথারীতি ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি করেন। নিয়মানুযায়ী সেটি আবার জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে এমন সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে সার্টিফিকেটটি আবার ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠান। এবার লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য ওই সার্টিফিকেট আবার পাঠানো হয় হাসপাতালের মর্গে। ততক্ষণে বিকেল পৌনে ৫টা বেজে গেছে। কাগজ পেয়ে মর্গের এমএলএসএস লাশ বহন করা ট্রলি নিয়ে ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে চলে যান। তিনি লাশটি ট্রলিতে উঠিয়ে মর্গের দিকে যাত্রা শুরু করলে ঘটে যায় বিপত্তি। ট্রলির মধ্যে নড়েচড়ে ওঠে লাশ। তাৎক্ষণিক কিছু বুঝে উঠতে না পেরে প্রথমে ভয়ে দৌড় দেন আবদুল আজিজ। এই দৃশ্য দেখে ওই স্থানে থাকা কয়েকজন রোগীর স্বজনও ভয়ে চিৎকার দিয়ে ছুটতে শুরু করেন। এরপর আজিজ আবার লাশের কাছে ফিরে চিৎকার শুরু করেন। তিনি বলেন, কেউ রোগীকে মৃত ঘোষণা করছে। ইনি তো মারা যাননি। তাহলে এত সময় লাশের সার্টিফিকেট তৈরি না করে কোনো ডাক্তার রোগীর পালস দেখলেই তো বুঝ তো’। এই নিয়ে গোটা হাসপাতালে হইচই পড়ে যায়। ডাক্তার কৌশলে লাশের ফাইল গায়েব করে ফেলেন। ডিউটি রুমে তালা লাগিয়ে ওই ওয়ার্ডের সবাই লাপাত্তা হয়ে যান। এমনকি মৃত ঘোষণাকারী চিকিৎসকের নামও কেউ বলছেন না।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: মুশফিকুর রহমান বলেন, আগামী শনিবার এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি বিস্তারিত তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা