,

যুদ্ধাপরাধী মোবারক হোসেনের গ্রামে পুলিশ মোতায়েন

Brahmanbaria_War_Criminal_M_878060542যুদ্ধাপরাধী সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নয়াদিল গ্রামে রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নয়াদিল গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মামলার সাক্ষী আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধী মোবারকের পরিবার গ্রামে প্রভাবশালী হওয়ায় তিনিসহ অন্য সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছন।

সাবেক এই কমান্ডার বলেন, আমি এর আগেও মামলা চলার সময় সাক্ষী দিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছি। আর এখন তো চূড়ান্ত রায়। তাই বেশ আতঙ্কে আছি। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে, নিজেদের পূণ্যভূমিকে কলঙ্কমুক্ত করতে আখাউড়ার জনগণ মোবারকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। তার নিজ গ্রাম নয়াদিলের মানুষও ফাঁসি চান এই গণহত্যাকারীর।

রোববার সরেজমিনে নয়াদিল গ্রাম ও আখাউড়া উপজেলা সদরে ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নয়াদিল গ্রামের সাদত আলীর ছেলে মোবারক মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর রোকন ছিলেন। তবে দেশ স্বাধীনের পর বেকায়দায় পড়ে সৌদি আরবে গিয়ে সেখানে দুম্বা চড়ানোর কাজ শুরু করেন। পরে সেখান থেকে দেশে ফিরলে ‘দুম্বা হাজি’ হিসেবে এলাকায় নাম রটে তার।

জানা যায়, সৌদি আরবে গিয়ে টাকা-পয়সার মালিক বনে যাওয়ায় মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সংগঠনটিতে ঢুকে পড়েন তিনি।

কসবা আখাউড়ার সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহআলমের হাত ধরেই আওয়ামী রাজনীতিতে তার উত্থান ঘটে।

এমনকি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা তার পক্ষে মাঠে নামেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মোবারক সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন এমন ভুয়া সনদ যোগাড়ে অপচেষ্টাও চালিয়েছিলেন তারা।

সে সময় আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মোবারক কোন্দলের শিকার। তার গোটা পরিবার ঘোর আওয়ামী লীগ সমর্থক। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুয়েকজন নেতা ছাড়া সবাই মোবারকের সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে।

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র যুবলীগ নেতা তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, মোবারক চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। মোবারককে আওয়ামী লীগ সমর্থক বানাতে গিয়ে কতিপয় নেতা দলকে বিতর্কিত এবং বিব্রত করেছেন। এখন তার বিচারের মাধ্যমে প্রমাণ হতে যাচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের অন্য কোনো পরিচয় নেই।

মোবারকের মামলার এক নম্বর সাক্ষী নয়াদিল গ্রামের মুক্তিযুদ্ধা দারুল ইসলাম বলেন, একাত্তর সালে মোবারক টান মান্দাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমরা এই নরঘাতকের ফাঁসির দাবি জানাই।

এ নিয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাম্মাদ হোসেন বলেন, রায় ঘোষণার খবর পাওয়ার পর রাতে নয়াদিল গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে এলাকার পরিস্থিতি একেবারেই শান্ত দাবি করে তিনি বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া সাক্ষিদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

Brahmanbaria_Gonokobor_605663118

 

এ জাতীয় আরও খবর

আলমনগরে মেধাবীদের বৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, উন্নয়নে অগ্রাধিকারের আশ্বাস এমপি আব্দুল মান্নানের

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

পূজার আয়োজনে ঘরেই বানান নারিকেলের নাড়ু

লোকসান ও বিদ্যুৎ বিলের চাপে বন্ধ হচ্ছে উল্কা সিনেমা হল

সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার কথা বলল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: রিজভী

মঙ্গলবার থেকে টানা ৫ দিনের ছুটি, ছুটিতে থাকবেন না যারা

ঢাকায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার আভাস

ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

সেঞ্চুরির পর ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রশংসায় আগা সালমান

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ফ্রান্সে সহিংসতা, অপরাধীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি ম্যাক্রনের