,

সাকিব ম্যাজিকে জিতল বাংলাদেশ

87792_1-2

ক্রীড়া ডেস্ক :প্রতিটা সাফল্যের পরই পারফরমাদের চোখেমুখে অন্য এক অভিব্যক্তি! কিছুটা বিরক্তিও। এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও যে বিগত দু’টি ওয়ানডে সিরিজে হারতে হয়েছিল। যারা পাত্তা পেত না তাদের কাছে সিরিজ হার তা-ও আবার উপর্যুপরি। মনের গহিনে কষ্টটা একটু বেশিই চেপেছিল বোধ হয় মাশরাফি, মুশফিক ও সাকিবদের। টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডেতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল মাত্র। ওয়ানডে ম্যাচে ওইটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হলে খেলা কেন দেখবেন দর্শকেরা? বাংলাদেশের প্ল্যানের কাছে ওইগুলো তোপে টেকেনি। সহজেই ৮৭ রানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সূচনা করল বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজেও। বহু আকাক্সিত বাংলাদেশের এ জয়। ’১৩-এর ১০ নভেম্বর সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফতুল্লায় হয়েছিল ম্যাচটি। সে থেকে টানা ১২ ম্যাচে হার। এ ম্যাচের অনেকগুলোতেই উহ, আহ ছিল। আফসোসে কেঁদেছেনও কোনো কোনো ক্রিকেটার। সহজ জয়ের কাছাকাছি যেয়েও হেরে যাওয়ার কষ্ট তাদের চেয়ে ভালো আর কে বুঝবেন। দর্শকের কষ্ট। সমালোচনা বহু সহ্য করেছেন। কিন্তু জয়? সেটা উদযাপন তো ভুলেই যাওয়ার কথা এক বছরে। অনেকটা বন্ধ্যত্ব হয়ে বসছিল যেন ২০১৪। একটি জয়ও নেই। অবশ্য চট্টগ্রামের জহুর আহমেদে এ জয়ে বাংলাদেশ ফিরল জয়ের মার্কে। হাসলেন ক্রিকেটাররা প্রাণ খুলে। বড় নিঃশ্বাস নিয়ে পেছনের সব ব্যর্থতা বের করে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। অবশ্য জয় শুরু করেছিলেন তারা টেস্টেই। এবার সেটার ধারাবাহিকতা রাখল ওয়ানডেতেও। তবে এ ম্যাচে সাকিব অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সাকিব সেঞ্চুরি ও চার উইকেট নিয়ে রেকর্ডবুকে নাম লেখান। এর আগে সেঞ্চুরি ও পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নেয়ার রেকর্ড রয়েছে পল কলিংউড ও ভিভ রিচার্ডসের। আর সেঞ্চুরি ও চার উইকেট নিয়েছেন ১০ জন, তার মধ্যে এখন রয়েছেন বাংলাদেশের সাকিবও।  কালকের এ ম্যাচে শিশিরের একটা প্রভাব ছিল। সন্ধ্যার পর থেকেই শিশিরসিক্ত হয়ে পড়ে স্টেডিয়ামের ঘাস, যাতে সুবিধা পাচ্ছিলেন না স্পিনাররা। তবুও সে স্পিনেই বিপর্যস্ত সফরকারীরা। গুরুত্বপূর্ণ টসে হেরে মাশরাফি যতটা না চিন্তিত ছিলেন তার চেয়ে ঢের বেশি যেন গ্যালারিপূর্ণ দর্শক। কিন্তু প্রথম ব্যাটিংয়ের সুযোগটা ভালোই উদযাপন করেছেন সাকিবরা। সূচনাটা বাজেই হয়েছে। তামিম পঞ্চম ওভারে যেয়ে আউট হয়েছেন, দলের রান তখন সবে ৮। একটু ক্যাজুয়াল থেকে ব্যাটিং করতে গিয়ে বল ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে। এরপর এনামুল বিজয় আউট হন অনেকটা আনাড়ি ব্যাটিং করেই। ৯.৫তম ওভারে দলের রান তখন ২৬। অনেকটা টেস্ট মেজাজে এমন সূচনাতে বিরক্তিও ছিল। এরপর অমন আউটের ধারাবাহিকতা। কারণ ৩১ এ মাহমুদুল্লাহও প্যাভিলিয়নে ফিরলে এ দিন কী ঘটতে যাচ্ছে সেটা অনেকে আঁচ করে ফেলেন! কারণ মুমিনুলও আউট হয়েছিলেন ৭০ রানে। তবে সবার সে ধারণা পাল্টে দেন টেস্ট সিরিজের সেরা সেই সাকিব। ব্যাট হাতে অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন তিনি মুশফিককে সাথে নিয়ে। দেখে শুনে খেলে দলীয় স্কোর ওপরে টেনে তুলতে থাকেন। এরা খেলেন পঞ্চম উইকেট জুটিতে রেকর্ড ১৪৮ রান করে দলীয় স্কোরের চেহারাই পাল্টে দেন। নিজেও করেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি। ’১০ এ সর্বশেষ সেঞ্চুরির পর কাল দেখা পেলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরির। ৯৫ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে। দলীয় ২১৮ রানে সাকিব (১০১) আউট হওয়ার পর মুশফিক ও সাব্বির জুটি বাঁধেন। মুশফিক হাফ সেঞ্চুরি করে তার ক্যারিয়ারের তিন হাজার ওয়ানডে রানও পূর্ণ করেন এ ম্যাচে। ব্যক্তিগত ৬৫ রানে আউট হন মুশফিক। এরপর এ ম্যাচেই অভিষেক হওয়া সাব্বির রহমান রুম্মনের দুর্দান্ত এক ব্যাটিংয়ে গ্যালারি যেন মেতে ওঠে। তার হাঁকানো তিন ছক্কার শেষ দুই বলে ছক্কা গ্যালারিতে যেয়েই আছড়ে পড়ে। হার্ড হিটিংয়ে অভ্যস্ত রুম্মন প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ দিলেন যোগ্যতার ২৫ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলে। দলীয় রান শেষ হয় ২৮১/৭ রানে। দুই পেসার পানিয়েঙ্গারা তিনটি ও চাতারা নেন দু’টি উইকেট।  এরপর ২৮২ রানের বিশাল টার্গেট সামনে রেখে খেলতে নেমে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার সিকান্দার ও মাসাকাজদা মূলত বাংলাদেশের নার্ভাস বোলিংয়ের সুবাদে ভালো কিছু শটস খেলে দ্রুত রান তুলছিলেন। প্রথম পাঁচ ওভারে রান সংগ্রহ করে তারা ৪৩/০। যেখানে মাত্র ৮/১ রান নিয়েছিল বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ৫৯/২, বাংলাদেশ ছিল ২৭/২। মূলত সাকিব তার নিজস্ব দ্বিতীয় ওভারে সিকান্দার ও সিবান্দাকে আউট করে অগ্রযাত্রা রুখে দেন। পরে মাসাকাদজা ও টেইলর পথ দেখাচ্ছিলেন জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ এসে মাসাকাদজাকে লেগ বিফোর করে দেয়ার মাধ্যমে বড় সাফল্য পায় বাংলাদেশ। প্রতিনিয়ত ভয়ানক ব্যাটিং করতে থাকা জিম্বাবুয়ের এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাত চারের সাহায্যে ৪২ করেছিলেন। এরপর চাকাবাকে মাহমুদুল্লাহ বোল্ড করার পর মাশরাফির বলে অনেকটা ফাস্ট স্লিপে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরে টেইলরকে আউট করে দিলে ম্যাচের উত্তেজনা হ্রাস পায়। কারণ দলের রান তখন ১৪৫ হলেও এরপর দায়িত্ব নিয়ে বিশেষ করে বাংলাদেশের বোলিংয়ের বিপক্ষে ওই বিশাল টার্গেটে দলকে টেনে নেয়ার মতো ছিলেন না আর কেউই। বাকি উইকেটগুলো অনেকটা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে নিলে জিম্বাবুয়ে ১৯২ রানে অল আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে খেলার সমাপ্তি ঘটে। সাকিব নেন চার উইকেট ৪১ রানে। সাকিব ম্যাচ সেরা হওয়ার পুরস্কার লাভ করেন।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ