,

রত্নার বাড়িতে পুলিশ সুপার পিতা উসমানের আকুতি

monirমাহবুব খান বাবুল : সরাইলে ডাকাতের হামলায় নিহত কলেজ ছাত্রী রত্নার বাড়িতে গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান পিপিএম (বার)। এ সময় তার সাথে ছিলেন সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ আবদুল হক। সকাল সাড়ে এগারটায় তারা রত্নার বাড়ি ইসলামাবাদে যান। পরিবারের বড় সন্তান মেধাবী ছাত্রী রত্নাকে নির্মম ভাবে হারানোর বেদনায় তখন কাতরাচ্ছিলেন আহত পিতা উসমান আলী। পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে হঠাৎ কাছে পেয়ে আবেগ বিহবল হয়ে পড়েন উসমান। মেয়ের করুন মৃত্যু ও ভাতিজাসহ আহত উসমান পুলিশ সুপারের কাছে তার মামলার বিষয়ে নালিশ করেছেন। জানিয়েছেন সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তার দেওয়া এজহারের দুই আসামী সহ চারজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি। ছয় মাস আগে উসমানকে হত্যার হুমকির বিষয়টি বর্ণনা করেছেন তিনি। উসমান জানায়, আমি আমার মেয়ে ও ভাতিজা ইয়াছিন সহ পরিবারের অনেকেই ডাকাতদের চিনতে পেরেছি। কিন্তু আমার দেওয়া এজহার কি কারনে থানা গ্রহন করেনি বুঝলাম না। গত রোববার সকাল ১১টা। মেয়ে হারিয়ে নিজের ভাঙ্গা মাথা নিয়ে আমি যখন হাসপাতালের বিছানায় বিমূর্ষ। না খেয়ে অনেকটা দূর্বল। ডাক্তার আমাকে স্যালাইন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময় হাসপাতালে হাজির হলেন এস আই আবদুল আওয়াল। বললেন এসপি সাহেব থানায় বসে আছে। একটু কথা বলবে। ডাক্তারের নিষেধ সত্বেও মাত্র ১০-১৫ মিনিটের কথা বলে তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন থানায়। থানায় গিয়ে দেখি পুলিশ সুপার নেই। ঘুরাফেরা করছে কিছু প্রভাবশালী নেতা। তারা মাঝে মধ্যে কানাকানি করছে পুলিশের সাথে। কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। বিকাল চারটায় আমার সামনে দিলেন পুলিশের তৈরী একটি এজহার। অনেক বুঝালেন। বললেন আটককৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এগার জন ডাকাতের নাম বলেছে। পেটের ক্ষুধা ও মাথার যন্ত্রণায় আমি তখন কাতর। আমাকে ধরে নিয়ে একটি লম্বা টেবিলে শুইয়ে দিয়েছে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর একটি সাদা কাগজ সামনে ধরে দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলেন এস আই আবদুল আওয়াল। তথন সাথে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবদুল হক। তিনিও আমাকে অনেক বুঝালেন। আমি সম্মত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনেকটা জোর করেই সাদা কাগজে স্বাক্ষর করালেন। ডাকাত বাবলু ও তারেকের দুই চাচা আমাকে হত্যার হুমকি দাতা হেবজু মিয়া ও সাইদুকে ছেড়ে দিলেন। এর কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিলেন আমীর আলী ও শাহিনকে। হতাশ হলাম। আমি মেয়ে হত্যা মামলার ভবিষ্যত নিয়ে অনেকটা শঙ্কিত। যাদেরকে দুই চোখ দিয়ে দেখলাম তাদেরকে আসামী করা হয়নি। এ কথা কল্পনা করতেই আমি দুচোখে অন্ধকার দেখি। রোববার বিকাল চারটায় আমাকে থানা থেকে হাসপাতালে পাঠায়। ওইদিন চারটার পর  সাত জনের মধ্যে মাত্র তিনজনকে আদালতে প্রেরন করা হয়। রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি কারো। পুলিশ সুপার ধৈর্য সহকারে সবকিছু শুনে উসমানকে শান্তনা দিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশ্বাস দেন। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ নোমান মিয়া বলেন, রোগী উসমান শাররীক ভাবে অনেকটা দূর্বল ছিল। স্যালাইন দেওয়ার সময়ে নিষেধ করা সত্বে পুলিশ এসপি’র কথা বলে তাকে থানায় নিয়ে যায়। সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজুম মুনিরার আদালতে হাজির করা হয় ডাকাত বাবলু, তারেক ও মেহেদীকে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে মেহেদী। পরে তাদের তিন জনকে আদালত জেল হাজতে প্রেরন করেন। এ বিষয়ে জানতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল আওয়ালের মুঠোফোনে (০১৮৬৫-৭৭০৯১৫) একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবদুল হক চারজনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হত্যার হুমকি আর ডাকাতি এক বিষয় নয়। এরা এ ঘটনায় জড়িত নয়। বাদীর দেওয়া এজহার গ্রহন না করা ও তিন ডাকাতের স্বীকারোক্তিতে প্রকাশিত আটজনের কাউকে এজহারভুক্ত আসামী না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বললেই হয় না। অনেক কিছু বুঝার আছে।

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর