,

ঘাতকের স্বীকারোক্তি ডাকাতদের চিনে ফেলায় রত্নাকে হত্যা করা হয়েছে

sarail pic-Bablu, 16.11sarail pic-mehedi, 16.11sarail pic-Tareque, 16.11

মাহবুব খান বাবুল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বসত বাড়িতে ডাকাতি কালে ডাকাতদের চিনে ফেলায় কলেজ ছাত্রী রত্নাকে কূপিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তিন ঘাতক। তাদের সহযোগীদের নাম ঠিকানাও পুলিশের কাছে বলেছে তারা। রোববার থানা কাষ্টুরিতে থাকা বাবলু (২০), তারেক (২১) ও মেহেদী (২৪) নামের তিন ঘাতকের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উৎঘাটনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আটকের ৩২ ঘন্টাপর থানা থেকে দুই ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এ জন্য বাদীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয়েছে। তবে ডাকাতের পিটুনিতে আহত রত্নার বাবা উসমান আলীর এজহার শতভাগ আমলে নেয়নি পুলিশ। রোববার সকাল ১১টায় সরাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উসমানকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাকে থানায় বসিয়ে রেখে নতুন আরেকটি এজহার লিখে সেটাতে উসমানের সাক্ষর রাখা হয়।
পুলিশ, মামলার বাদী ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাকাতি করা কালে কলেজ ছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় গত শনিবার সকালে ইসলামাবাদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে চার জন ও ওইদিন দিবাগত রাতে আরো তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। লাশ দাফনের পর থানা থেকে এ ঘটনায় আটককৃত কয়েকজনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য দফায় দফায় বাদীর উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে কিছু প্রভাবশালী লোক। এক সময় তারা পুলিশ সহ বিভিন্ন জায়গায় মোটা অংকের টাকার অফার দিতে থাকে। বাদীকেও দেখায় টাকার প্রলোভন। নিহত রত্নার বাবা উসমান যখন একটি এজহার লিখে থানায় জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়, ঠিক সেই সময়ে তাকে হাসপাতালের বিছানা থেকে পুলিশ নিয়ে যায় থানায়। তাকে বসিয়ে রেখে পুলিশ নিজেদের মত করে একটি এজহার লিখেন বিকাল ৪টা পর্যন্ত। পুলিশের এজহারটিতে মোট এগার জনকে আসামী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে ছয় লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ টাকা ও ডাকাতদের চিনে ফেলায় রত্নাকে হত্যার। সেই সাথে রত্নার বাবা ও ভাইকে মারধোর। ফাঁকে বিশেষ কায়দায় দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ফায়সালা করা হয়। এ জন্য রত্নার বাবা অর্ধ শিক্ষিত উসমানের কাছ থেকে সাদা কাগজে একটি স্বাক্ষর রাখার বিষয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। পরে বিএনপি নেতা সুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক মুন্সী ও ইসলামী ঐক্যজোট নেতা নোয়াগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানে মনসুর আহমেদের জিম্মায় উসমানের দেওয়া এজহারের দুই আসামী হেবজু মিয়া এবং সাইদু মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার বিকাল চারটায় শনিবার সকালে ধৃত বাবলু, তারেক ও রাতে আটককৃত মেহেদী, আমীর আলী এবং শাহিনকে গতকাল বিকাল সোয়া চারটায় আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ডাকাতি ও কলেজ ছাত্রী কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র তালিকাভূক্ত ডাকাত মেহেদী। দলের এগার জন সদস্যের নামও বলেছে তারা। দিয়েছে পুরো অপারেশনের বর্ণনা। কিন্তু তাদের গড ফাদাররা এখনো থেকে গেল অধরা এমন শঙ্কায় ভুগছেন রত্নার বাবা ও তার পরিবারের লোকজন। ধনা মিয়ার ছেলে বাবলু ও আরজু মিয়ার ছেলে তারেক দুজনই বখাটে এবং হাইওয়ের পরিবহন ডাকাত। তারা শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একাধিক মহিলা পুরুষ জানায়, তাদের কাছে উঠতি বয়সের মেয়েদের কোন নিরাপত্তা নেই। এ ছাড়া এরা নিয়মিত ডাকাতি ছিনতাই করছে। গ্রামের মাতব্বর নামধারী কিছু লোক এদের শেল্টার। কারন তাদেরকে ভাগ দেয়া হয়।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবদুল হক উসমান আলীর এজহার পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি (উসমান) তার এজহার পরে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখার কথা অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় দুইজনের জিম্মায় দুই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

   

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর