বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে মাদ্রাসা ছাত্র জুনাঈদ হত্যার লোমহর্ষক তথ্য ঘাতকদের জবানিতে

B Baria Mapমাহবুব খান বাবুল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদ্রাসা ছাত্র জুনাঈদ (১২) কে অপহরণের পর হত্যার রহস্য উৎঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। পর্যায়ক্রমে  এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছানা উল্লাহ (২৫) তার দুই সহযোগী সুমন মিয়া (২০) ও সুকুমার চন্দ্র দাস (৩২) নামের তিন ঘাতককেই গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে ডিবি পুলিশ। ঘাতকরা প্রথমে ডিবি পুলিশের কাছে পরে গত ৬ নভেম্বর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজুম মুনিরার আদালতে অপহরণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। নিহত শিশু জুনাঈদ উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামের রফিকুল হকের ছেলে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, আদালত ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সরাইল সদরের দারুল উলুম আলীনগর মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর (ইয়াজ দহম) ছাত্র জুনাঈদ। একই গ্রামের বাসিন্ধা ছানা উল্লাহ ও সুমন। সুমন ১০/১২ বছর আগে একটু জায়গা ক্রয় করে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামে বসবাস করছে। ভিন্ন ব্যক্তি হলেও তারা দুজনের পিতার নাম আইয়ুব আলী। সুমন অপহরন খুন গুম ও চাঁদাবাজ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যের নাম। তার বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী সুকুমার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আখিঁতারা  গ্রামের নারায়ন চন্দ্র দাসের ছেলে। ছানা উল্লাহ জুনাঈদের চাচাত চাচা। আর সুমন ছানা উল্লাহ’র শ্যালক। ছানা রাজমিস্ত্রীর কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। হঠাৎ এক সাথে অনেক টাকা হাতে পাওয়ার ফন্দি আটে। তাই সুমনের বাসায় বসে তারা দুই প্রতিবেশী দরিদ্র পরিবারের সন্তান জুনাঈদকে অপহরণের পর মোটা অংকের মুক্তিপন আদায়ের পরিকল্পনা করে। শর্ত ছিল মুক্তিপণের টাকাটা পরে সমান তিন ভাগ হবে। তিন জনের মধ্যে একমাত্র ছানাই চিনত জুনাঈদকে। তাই সিদ্ধান্ত হয় ছানা যে কোন উপায়ে জুনাঈদকে সুমনের হাতে তুলে দিবে। বিনিময়ে পাবে মোটা অংকের টাকা। আর মুক্তিপন চাওয়া ও আদায়ের দায়িত্ব নেয় সুমন। আর বিভিন্ন কাজে সহযোগীতা করবে সুকুমার। ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল বেলা বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় আসে জুনাঈদ। কে জানতো অবুঝ এই শিশুর গতিবিধির উপর তীক্ষ নজর রাখছে ঘাতকরা। ওইদিন বাদ আছর আলীনগরের নিজ মাদ্রাসা মাঠে সহপাঠিদের সাথে খেলা করছে জুনাঈদ। মজা খাওয়ানো ও ঘুরাফেরার কথা বলে জুনাঈদকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেয় চম্পট ছানা। তাকে নিয়ে যায় দত্তপাড়া ছানার শ্যালক সুমনের বাসায়। সেখানে ছানা, সুমন ও সুকুমার তিন জনে মিলে জুসের সাথে কয়েকটি ঘুমের ট্যাবলেট  মিশিয়ে জুনাঈদকে খাওয়ায়। অচেতন হয়ে পড়ে শিশু জুনাঈদ। সুমন তখন তার হরেক নাম্বারের সীম ব্যবহার করে জুনাঈদের চাচা নাজমূল হকের মুঠোফোনে ফোন করে মুক্তিপন দাবী করতে থাকে। প্রথমে পাঁচ লাখ ও পরে এক লাখ টাকা দাবী করে। এ ভাবে চলে যায় সারারাত। পরের দিন ১৪ সেপ্টেম্বর সারাদিনই ঘাতকরা টাকা দাবী করে আর বিভিন্ন ঠিকানা দিয়ে ঘুরায় জুনাঈদের স্বজনদের। অবশেষে বিকাল বেলা তাদের দেওয়া একটি বিকাশ নাম্বারে জুনাঈদের চাচা বিশ হাজার টাকা পাঠায়। এ থেকে ছানা আর সুমন নেয় আট হাজার টাকা করে আর সুকুমারকে দেয় চার হাজার টাকা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হয় দেন দরবার। প্রতিশ্র“তি ছিল সন্ধ্যার পর বাকী ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার। সন্ধ্যার পর জুনাঈদকে দেওয়ার কথা বলে স্বজনদের ফোন করে অপহরনকারীরা নিয়ে যায় সরাইল-নাসিরনগর সড়কের পুটিয়া ব্রীজে। সেখানে তারা ২/৩ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর চলে আসতে বলে অপহরনকারীরা। ৮০ হাজার টাকা না পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয় ঘাতক চক্র। গভীর রাতে তারা নৌকায় করে অজ্ঞান অবস্থায় জুনাঈদকে নিয়ে আকাশী হাওরে ঘুরতে থাকে। আর মাঝে মধ্যে তার স্বজনদের ফোন দিয়ে মুক্তিপণ চাইতে থাকে। এক সময় জুনাঈদের জ্ঞান ফিরে এলে সে ছানা উল্লাহ ও সুমনকে চিনতে পারে। এরপরই তিন ঘাতক শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। শেষ রাতে তারা জুনাঈদকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে জুনাঈদ। পরে ধর্মতীর্থ দিঘীর পাড়ের বালু ভর্তি বস্তা রশি দিয়ে কোমরে বেঁধে জীবন্ত জুনাঈদকে ঘাতকরা পানিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। লাশ উদ্ধারের পর ফুরফুরা মেজাজে সুমন চলে যায় ভৈরব। সেখানে তার ত্রাস বাহিনীর সাথে আনন্দ ফূর্তি করে কয়েক দিন। ৪/৫ দিন পর তার ভগ্নিপতি ছানা উল্লাহ’র বাসায় বেড়াতে আসে সুমন। ফাঁকে এলাকা ওপুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার খোঁজ খবর নিয়ে যায়। একাধিক ব্যক্তি জানান, ইতিপূর্বে সরাইলে যে কয়েকটি অপহরণ ও লাশ পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এগুলোর সাথে এই ঘাতক চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, মোবাইল ট্র্যাকিং, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সঠিক দিক-নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান ও পুলিশের টিম ওয়ার্কের  মাধ্যমে ক্লু-বিহীন এত বড় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।  
 

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে