বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আধাঁর ঘরে চাঁদের আলো

sarail pic (asha) 26.09.14==মাহবুব খান বাবুল : নাম শুচিস্মিতা চক্রবর্তী। পরিবার ও শিক্ষকদের কাছে পরিচিত আশা বলেই। অত্যন্ত শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের মেয়েটি।  জরাজীর্ণ ছোট একটি ঘর। পরিবারের সাতজন সদস্য কোন রকমে গিজাগিজি করে বসবাস করছে। ছোট একটি টেবিল। এক বছর ধরে টেবিলে বই রেখে পড়ার সুযোগ হয়েছে। এর আগে কখনো মাদুরে, কখনো পিঁড়িতে বসে পড়তে হয়েছে তাকে। দুই শতক ভিটে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। উপার্জনের একমাত্র ভরসা পিতা শুকমল চক্রবর্তী (৫৬)। অন্যের ঔষধের দোকানে কাজ করে সামান্য টাকা আয় করতেন। চরম অর্থনৈতিক দৈন্যতা। তিন বেলার পরিমিত আহার যোগাড় করা অসম্ভব। কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে চলছে ওই পরিবারটি। দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত ওই পরিবারের একজন সদস্য আশা। কোন বাঁধা থামাতে পারেনি তাকে। আশা আশার আলো জ্বালিয়েছে কলেজে পরিবারে ও গোটা সরাইলে। কে জানতো উপজেলার অরুয়াইলে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের আধার ঘরে জন্ম নিবে আশা নামের একটি চাঁদের আলো। গত ২০১৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রী কলেজের মানবিক শাখা থেকে অংশ গ্রহন করে আশা জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার এ অসামান্য কৃতিত্ব তাক লাগিয়ে দিয়েছে সকলকে। সরজমিনে আশাদের ছোট কুটিরে প্রবেশ করা মাত্র চোখের জল ছেড়ে দেন মাতা শিখা চক্রবর্তী (৫২)। পাশে নির্বাক হয়ে বসে আছেন দাদী বাসন্তী চক্রবর্তী (৮৫)। বাহিরে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন পিতা শুকুমল চক্রবর্তী। মেয়ে ও সংসারের কষ্টের অতীতকে স্বরন করেই তাদের এ কান্না। সারা দিনে একবেলা খেয়ে হলেও মেয়েকে পড়াতে হবে এমনটাই প্রত্যয় ছিল আশার মায়ের। এজন্য তিনি বৃদ্ধ বয়সে ব্রাকের একটি কর্মসূচীতে পার্ট টাইম কাজ করেছেন। যে সংসারে তিন বেলার ভাতের ব্যবস্থা করা ছিল দুঃসাধ্য। সেখানে অনেকটা যুদ্ধ করেই পড়তে হয়েছে আশাকে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে আশার সাফল্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝুরে কাঁদতে থাকে আশা। আশা তার কষ্টের অতীত বর্ণনা করতে গিয়ে বলে, বাবার সামান্য আয়। আমরা তিন ভাই বোন। বড় ভাই সুবাশিশ চক্রবর্তী ইংরেজীতে অনার্স পড়ছে। ছোট বোন শান্তা চক্রবর্তী পড়ছে নবম শ্রেণীতে। দাদু ও মা অসুস্থ্য। তিন জনের পড়ার খরচের পর তাদের ঔষধের টাকা। এক টুকরো জমিও নেই আমাদের। সব সময় বাবার মধ্যে একটা চাপ অনুভব করতাম। পড়ালেখা না করলে বাবার পাশে দাঁড়াতে পারব না। এমনটাও ভাবতাম সর্বক্ষণ। তাই খাবারের চিন্তা করিনি। চিন্তা করেছি ভাল ফলাফলের। মা বাবা ভাল কাপড় পড়েননি। না খেয়ে আমাদেরকে খাইয়েছেন। তারা মাটিতে ঘুমিয়েছেন। আমাদেরকে রেখেছেন চকিতে। তবুও পড়তে হবে। মাঝে মধ্যে না খেয়ে কলেজে ক্লাশ করেছি। কাউকে বুঝতে দেয়নি। বাবার কষ্ট অনেক সময় সহ্য করতে পারতাম না। বৃদ্ধ বয়সে তিনি শুধু আমাদের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করছেন। বই আনতে হবে বললে বাবা ভীষণ চিন্তায় পড়ে যেতেন।  তাই মাধ্যমিক পাসের পর বাড়িতে বসে ছোট বাচ্চাদের পড়াতে শুরু করলাম। তিন/চার জনকে পড়িয়ে পেতাম পাঁচ’শ টাকা আর কিছু হাতের কাজ করে চার’শ। কোন রকমে ২/১ টা প্রয়োজনীয় বই ক্রয় করতাম। মাসে চার’শ টাকা দিয়ে এলাই স্যারের কাছে ইংরেজী পড়তাম। অর্থাভাবে ভাল কাপড় তো দূরের কথা সকল বই ক্রয় করা সম্ভব হতো না। সহ পাঠিদের কাজ থেকে প্রায় সময়ই বই ধার কর্জ করে পড়েছি। এতে অনেকে সমালোচনা করেছে। মনের দুঃখে নিরবে কেঁদেছি। কলেজের স্যারদের কাছে বুঝার জন্য যেতাম। বেশী গেলে অনেকেই বিরক্ত বোধ করতেন। অনেকে ধমক দিতেন। ধমক খেয়ে অনেক সময় পড়ালেখা ছেড়ে দিতে মন চাইত। আমার ইচ্ছে ও স্বপ্ন হচ্ছে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে সমাজে নিজেকে মানুষ গড়ার দক্ষ কারিগর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এ সমাজের কোন স্বহ্নদয় বিত্তবান লোকের সহযোগীতা না পেলে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যেতে পারে আমার স্বপ্ন। কারন ৫৬ বছরের বৃদ্ধ আমার বাবা যে কোন সময় পাড়ি জমাতে পারেন পরপারে। তখন আরো অন্ধকার নেমে আসবে আমাদের সংসারে। কলেজ সূত্রে জানা যায়, সরাইলের দুইটি কলেজ থেকে এ বছর  ৮২৪ জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছিল। পাস করেছে ৫৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুই জন মেয়ে। এর মধ্যে একজন আশা। অরুয়াইল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর মানবিক বিভাগ থেকে এই প্রথম জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী ছাত্রী আশা। অরুয়াইল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এলাই মিয়া বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী আশা একদিন দেশের সম্পদে পরিনত হবে। শুধুমাত্র দারিদ্রতার কারনে সে ডাক্তার প্রকৌশলীর লাইনে পড়তে পারছে না। আশার মেধাকে ঠিকিয়ে রাখার দায়িত্ব এখন এই সমাজ ও দেশের।
 

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে