বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবি ভর্তি : জালিয়াতচক্রের সদস্যসহ ৩৬ জন আটক

image_966_144325শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে কলেজের প্রভাষকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ১৩ জন সদস্যসহ অসদুপায়ে জড়িত ৮ পরীক্ষার্থীকে আটক করে র‌্যাব _বাংলার চোখ

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে 'ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও জালিয়াতির অভিযোগে ৩৬ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে যাদের মধ্যে ১২ জন একটি জালিয়াতচক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের হাতে আটককৃতদের মধ্যে সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতাও রয়েছেন।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বাইরের মোট ৯৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৫ হাজার ৫১৬ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন যাদের মধ্যে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন ১ হাজার ৪১৬ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ হোসেন জানান, পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন 'গ্যাজেট' ব্যবহার করে অসুদপায় অবলম্বনের দায়ে অন্তত ১৭ জনকে আটক করা হয়।

এরা হলেন অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে বুল্টি বালা, মেহেদি হাসান খান ও মেহেদি হাসান রানা; আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মোছা. খায়রে উম্মে সালমা ও শারমিন আক্তার শিমু; উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে মেহেদি হাসান ও কৌশিক ফারহান; লালবাগ মডেল স্কুল থেকে ইমদাদুল ইসলাম; শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ থেকে রিয়াদ আরফিন, বেগম বদরুন্নেছা মহিলা কলেজ থেকে আবিদ ইসলাম ও শাহরুখ আলম; মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ফৌজিয়া জামান নবনী; খিলগাঁও মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ফারিয়া বিনতে গফুর; মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মেহেদি হাসান; সেন্ট্রাল মহিলা কলেজ টিকাটুলি থেকে ওমর ফারুক; সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে রিয়াদ হাসান রিফাত এবং মোহাম্মদপুর সেন্ট্রাল কলেজ থেকে মোহাম্মদ রনি খান।

ক্যাম্পাসের বাইরের কেন্দ্রগুলো থেকে আটকদের ক্যাম্পাসের নিয়ে আসার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হবে।

এদিকে পরীক্ষার আগের রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষায় জালিয়াতিতে সহযোগিতাকারী একটি চক্রের ১২ জন এবং ৭ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয় বলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যমে শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান।

র‌্যাবের হাতে আটক এই ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন মোজাম্মেল হক লেলিন, এফ কে এম খালেদুর রহমান, শুক্কর আলী নিরব, শ্রীকান্ত ভদ্র, আবুল বাসার, মীর রেজোয়ান মাসুদ তন্ময়, মনিরুল ইসলাম, জামিল খান, জুবায়ের আহমেদ, জসিম উদ্দিন, সুমন মিয়া, কাজি শামীম হাবিব, অরিত্র সিনহা, নুরুজ্জামান, কাদির হোসেন, শামীম সিকদার ও সঞ্চিতা দাস। এদের মধ্যে মোজাম্মেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, এই চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোনে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করত এবং প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত। এই জালিয়াতি করে তারা বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই চক্রের কাছ থেকে আটক সাত পরীক্ষার্থীর সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল। 

শুক্রবারের 'ঘ' ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেষ হলো চলতি শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। 

এর আগে 'ক', 'খ' ও 'গ' এই তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে প্রায় ২৫ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মাকসুদুল আলম জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতসংক্রান্ত কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আটকৃতদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে 'পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন-১৯৮০'র ৯(খ)/১৩ ধারায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব থানায় ওই মামলা হয়েছে। মামলায় অপরাধ প্র্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৪ বছর শাস্তি হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আটককৃত সবার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পর্যায়ক্রমে মামলা করা হবে। 

তিনি বলেন, জালিয়াতি করলে রক্ষা পাওয়া যাবে, প্রতারক ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আটক করার ঘটনা এটাই প্রমাণ করেছে।

এ জাতীয় আরও খবর