,

সৃষ্টিশীল এক প্রতিমা শিল্পী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঝন্টু পাল

brahmanbaria pic 2 = 22-09-2014রিয়াসাদ আজিম ও আকবর হোসেন চুন্নু ॥ দূর্গাপুজা সনাতন হিন্দুধর্মালম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব। প্রায় ৩ হাজার বছর ধরে বিভিন্ন আকৃতি ও প্রকৃতিতে এ পূজা চলে আসছে। বোধন, পুজা, বিসর্জনে এ উৎসব এক সামাজিক ও মানবিক সুন্দর উৎসবে পরিণত হয়। শরৎ মানে শারদীয়। শারদীয় মানে উৎসব। আর উৎসব মানে নানা উপাদানে শারদীয় দূর্গোৎসবের সমস্ত আয়োজনের প্রস্তুতি। শরৎ এর আগমনী হাওয়ায় প্রতিমা শিল্পের সাথে জড়িত মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ত এখন শেষ পর্যায়ের কাজে। সময়ের স্রোতে দুর্গোৎসবে ব্যাপ্তি ও ব্যয় বাড়ালেও ক্রমশ হারাতে বসেছে মৃৎশিল্পীদের সুদিন। এক সময় গ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় নিজ নিজ পূজা মন্ডবে তৈরি হতো প্রতিমা। এর বাইরে কিছু মন্ডবে প্রতিমা আনা হতো মৃৎশিল্পী অর্থাৎ কারিগরের কারখানা থেকে। প্রতিমা কারিগর মৃৎশিল্পীরা এখন আর ভালো নেই। তাই পৈত্রিক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে অনেকে। এখন গ্রামে প্রতিমা বানানো হয় খুব কম। কোথাও কোথাও শহর থেকে নিয়ে আসা হয় প্রতিমা। তবুও পূজা হচ্ছে। প্রতিমা বানানো হচ্ছে আর উৎসবের নানান আয়োজনে চাপা পড়ে যায় মৃৎশিল্পীদের কথা।

এমনি একজন মৃৎশিল্পী ঝন্টু কুমার পাল (৪৩) তিনি এলাকায় ঝন্টু পাল নামে পরিচিত। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কান্দীপাড়া এলাকার মনমহন পালের ছেলে। তার বাবা মনমহন কুমার পালও ছিলেন মৃৎশিল্পী (প্রতিমা কারীগর) মূলত পারিবারিক ভাবেই তিনি শিখেছেন প্রতিমা তৈরির কাজ। একজন সৃষ্টিশীল প্রতিমা শিল্পী  হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ অন্নান জেলা গুলোতে বেপক পরিচিতি রয়েছে তার। প্রতিমা তৈরি ঝন্টু পালের নেশা এবং পেশায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর তাঁর কাছে প্রতিমা তৈরির অর্ডার আসে বিভিন্ন জেলার পূজা মন্ডপ থেকে। ঝন্টু পাল এ বছর ১৫ সেট প্রতিমা তৈরি করেছেন। এখন তাঁর ব্যস্ত সময় যাচ্ছে রঙের কাজে। রাঙিয়ে তোলছেন প্রতিমাগুলোকে শেষ তুলির আঁচড়ে। এক সেটে দশ প্রহরণধারিণী সিংহারোহী দেবী দূর্গা, ঐশ্বর্য্যরেদেবী লক্ষী, বিদ্যার দেবী সরস্বতী, দেব সেনা নায়ক কার্তিক ও সিদ্ধিদাতা গণেশ পূজিত, দুর্গার চরণতলে অশুভ শক্তির প্রতীক পরাজিত অসুর। সিংহারোহী দেবী দূর্গার সাথে থাকে অসুর বধের বর্শা, মহিশ ও সাপ, ঐশ্বর্য্যরেদেবী লক্ষীর সাথে পেঁচা ও কলশী, বিদ্যার দেবী সরস্বতীর সাথে হাঁস ও বিনা, দেব সেনা নায়ক কার্তিকের সাথে ময়ূর ও তীরধনুক, সিদ্ধিদাতা গণেশের সাথে ইদুর।
মৃৎশিল্পী ঝন্টু পাল জানান, তিনি বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছে আসন দূর্গোৎসবের প্রতিমা বানাতে। তিনি এবছর পর্যায় ক্রমে ১৫ সেট প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়েছেন। প্রতি সেট প্রতিমা তৈরি করছেন ২৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায়। একাজে তাকে সহযোগিতা করছে তার ভাই মন্টু কুমার পাল সহ ৫ জন কারীগর। 
মৃৎশিল্পী ঝন্টু পাল একটু আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি বা বেসরকারি কোন সংস্থা মৃৎশিল্পীদের পৃষ্টপোষকতার এগিয়ে আসছে না। তাই নির্মম বাস্তবতার কারণে কেউই এ শিল্পের সাথে জড়িত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে মৃৎশিল্প অথচ একটু উদ্যোগ নিলে ও তাদের নতুন প্রজন্মকে যোগ উপযোগি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হলে বাঁচানো সম্ভব দৃষ্টিনন্দন এ শিল্পকে, এমনটায় মত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৃৎশিল্পী গোষ্ঠী, বৃদ্ধ ও সচেতন মহলের।

এ জাতীয় আরও খবর

ফ্যাসিবাদপন্থী মিডিয়া বয়কটের আহ্বান

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী