,

বাঘ বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে: প্রধানমন্ত্রী

6114125edaf3dbb5dac35daedfe4453f-3বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে। আর সুন্দরবন বাঁচাবে বাংলাদেশকে। আসুন আমরা সবাই মিলে বাঘ বাঁচাই, প্রকৃতি বাঁচাই। বাঘ রক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক সম্মেলনের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক, গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ এবং গ্লোবাল টাইগার ফোরামের সহায়তায় বন বিভাগ এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এই উদ্যোগের এটি দ্বিতীয় সম্মেলন। এর আগে ২০১০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় প্রথম সম্মেলন। ওই সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি বুঝতেই ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বের ১৩টি দেশের ১৫০ জন বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদ এতে যোগ দিচ্ছেন। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা তৈরি, বনভূমি ধ্বংস এবং সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাপে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল দিন দিন কমে আসছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বাঘ শিকার ও বাঘের আবাসস্থল সংকোচনের ফলে বাঘ আজ বিলুপ্তির পথে। ১০০ বছরে বাঘের সংখ্যা এক লাখ থেকে কমে তিন হাজার ৭০০-তে নেমে এসেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সুন্দরবনের ছয় হাজার ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের অবস্থান। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইক্লোন, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ইত্যাদি কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। এ ছাড়া এই বনভূমির ওপর ১২ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। এসব কর্মকাণ্ড বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। 
বাঘ রক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ফলে গত দুই বছরে বাংলাদেশে কোনো বাঘ হত্যা হয়নি। আগে বছরে মানুষের হাতে গড়ে তিন-চারটি বাঘের মৃত্যু হতো। আর বাঘের হাতে মারা যেত ২৫ থেকে ৩০ জন। দুই বছরে একটি বাঘেরও মৃত্যু হয়নি। আর মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা চারজনে নেমে এসেছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, মাছ ধরা, গোলপাতা সংগ্রহ ও মধু আহরণের নামে সুন্দরবনে বাঘ শিকার করা হচ্ছে। যে কারণে সরকার বাঘ রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করছে।
উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী বলেন, ২০০৪ সালে বাঘের পায়ের ছাপ গণনার মাধ্যমে দেখা গেছে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার সুযোগ নেই। তাই ২০২২ সালের মধ্যে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখা হবে। 
বিশ্বের বাঘ-অধ্যুষিত দেশগুলোর বাঘের অবস্থা নিয়ে আলোচনা এবং প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয় সম্মেলনের প্রথম দিনে। বিশ্বের ২০টি দেশ থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সচিব মো. নজিবুর রহমান, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস জাট ও গ্লোবাল টাইগার ফোরামের মহাসচিব রাজেশ গোপাল।

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর