বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারের বৃত্ত ভাঙা, নাকি ধবলধোলাই?

1 (6)সর্বশেষ ১২ ম্যাচে জয়হীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এর মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে মুশফিকরা। অপর ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত। এই পরিসংখ্যানে সহজেই বুঝা যায় কতটা খারাপ সময় পার করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

তবে হেরে যাওয়া এই ম্যাচগুলোর অধিকাংশতেই এক ইনিংস বা তারও বেশি সময় ধরে এগিয়ে থেকেছে মুশফিকরা। জয় হাতের নাগালে পেয়েও শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হাসতে পারেনি তারা। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে এর জবাব নেই কোচ, খেলোয়াড় ও নির্বাচকসহ সংশ্লিষ্ট কারো কাছেই।

ঘরের মাঠে সেই শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকেই ‘শনির দশা’ চেপেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ঘাড়ে। এরপর প্রায় এক বছর হতে চললেও এখনো সেটা দূর করতে পারছেন না মুশফিক বাহিনী। তবে খারাপ এই সময়টাকে পাশ কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা চেষ্টার কমতি করছেন এটাও বলা যাবে না।

ক্রিকেটারদের সার্বিক উন্নতির জন্য সাম্প্রতিককালে হাই প্রফেশনাল কোচ নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে এই হাই প্রোফেশনাল কোচের অধীনেই দীর্ঘদিন কঠোর অনুশীলন করেছেন টাইগাররা। সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও যথেষ্ঠ ভালো ফল এনে দিয়েছিলেন মুশফিকরা। কিন্তু সিরিজ শুরু হতেই আবারো পুরনো সেই ‘ভূত’ চেপে ধরলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।

প্রথম ওয়ানডেতে ২১৮ রানের টার্গেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩৪ রানেই হারায় পাঁচ উইকেট। এরপর জয় না পাওয়াটা নিচের সারির দলগুলোর জন্যও হতো দুর্ঘটনা। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত টেস্ট খেলুড়ে দল হয়েও সেই দুর্ঘটনাটিই ঘটালো বাংলাদেশ। একটি মাত্র জুটি ভাঙার অভাবে শেষ পর্যন্ত হারের বোঝা মাথায় নিয়েই মাঠ ছাড়লেন মুশফিকরা।

প্রথম ওয়ানডে জয় দেখেও হারার পর অধিনায়কের পরিচিত সুর ‘দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াবে দল’। প্রথমদিকে বোলাররা সে কথা রাখলেনও বটে। কিন্তু ব্যাট করতে নেমেই যেন চেপে ধরলো সেই পুরনো ‘ভূত’। ফলাফল চলতি বছরে দ্বিতীয় বারের মতো ১০০ রানের নিচেই অলআউট ‘টাইগার’ বাহিনী।

সফরের আগে কোচ হাথুরুসিংহে জানালেন, সিরিজে ব্যাটিংই হবে তার দলের মূল শক্তি। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে এর কোনো লক্ষণই দেখা গেলো না। প্রথম ম্যাচে ওপেনার এনামুল হক বিজয় ছাড়া বাকিরা প্রায় সবাই ব্যর্থ। আর দ্বিতীয় ম্যাচের পারফরম্যান্সে ব্যর্থ না বলে লজ্জা বলাই ভালো।  

সিরিজে এ পর্যন্ত মাশরাফির নেতৃত্বে পেসসহ বোলিং আক্রমণে দুর্দান্ত বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটিংয়ে তেমন কিছু দেখাতে পারেছন না মুশফিকরা।

এই অবস্থায় সোমবার সিরিজের শেষ অর্থাৎ তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। অতীতের ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে সমর্থকদের মুখে বিজয়ীর হাসি এনে দিতে পারবে কি টাইগাররা? নাকি শেষ ওয়ানডেটিও হেরে ধবলধোলাইয়ের লজ্জায় ডুববে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এ জাতীয় আরও খবর