বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিদস্যুদের ধাওয়া খেয়ে পালালো ছোট শিক্ষার্থীরা

schoolআমিরজাদা চৌধুরী: বেড়াবিহীন খোলা স্কুল ঘরেই চলছিল ক্লাস। তখনই ধাওয়া করে তাদের ভূমিদস্যুরা। আতঙ্কে ছুটে পালায় ছোট শিক্ষার্থীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বুধল ইউনিয়নের জঙ্গলীসার গ্রামের একটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখলে ভূমিদস্যুদের নিয়মিত তৎপরতার এটি একটি চিত্র।  শনিবার ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুর্দশার এই ছবি সাংবাদিকরা ক্যামেরাবন্দী করতে গেলে ভূমিদস্যুরা প্রথমে সাংবাদিকদের বাধা দেয়। এরপরই ধাওয়া করে শিক্ষার্থীদের। সেসময় বিদ্যালয়েও হামলা চালায় তারা। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের একটি ঘরের বেড়া খুলে নিয়ে যায়। এসময় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। গত প্রায় দু-বছর ধরেই বিদ্যালয়ের জায়গাটি দখলে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। এতে কয়েক’শ শিক্ষার্থীর ভবিষৎত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বুধল ইউনিয়নের জঙ্গলীসার গ্রামের ৩১৯ দাগের ১০ শতক পরিমান ডোবা ভরাট করে ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে টিনশেড একটি ঘরে বেসরকারি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫০ শিক্ষার্থী ও চার জন নারী শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বিদ্যালয়টির। এর কয়েক বছর পরই বুধল বাজার লাগোয়া বিদ্যালয়ের লোভনীয় জায়গাটির দিকে নজর পড়ে ভূমিদস্যুদের। সরকারী খাস জায়গাটিতে  মার্কেট করার জন্যে তৎপর হয়ে উঠে গিয়াস উদ্দিন ও সাত্তার মিয়ার নেতৃত্বে গ্রামের একটি ভূমিদস্যু দল। এরপরই ঐ জায়গা থেকে বিদ্যালয়টি উচ্ছেদে নানা তৎপরতায় লিপ্ত হয় এরা। দফায় দফায় হামলা চালাতে থাকে বিদ্যালয়ে। গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের একটি ঘরের টিনের চারপাশের বেড়া খুলে নিয়ে যায়। নিয়ে যায় সব আসবাবপত্র। এর আগেও  বিদ্যালয়ের টেবিল, চেয়ার, বেঞ্চ,ব্ল্যাকবোর্ড, দরজা-জানালা ও বেড়া ভেঙ্গে ফেলে দেয় । তখন বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হয় খোলা আকাশের নিচে।এরপর বিদ্যালয়ের মাঠ আর চারিপাশে বাশের স্তুপ,বনের কুঞ্জি,লাকড়ীর স্তুপ ফেলে ,টং ঘর বসিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আসা-যাওয়ায় বাধার সৃষ্টি করা হয়।২০১২ সালের ২৭ আগস্ট বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় জোরপূর্বক আধা পাকা দোকানঘর নির্মাণ করে। এসব ঘটনায় মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে একাধিক। গত ১৪ ই জুন বিদ্যালয় ভাঙ্গচুর ও লুটপাটের একটি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে ১৪ আসামীকে জেল হাজতে পাঠায় আদালত। এই অবস্থায়ও সেখানে বিদ্যালয় পরিচালনায় বাধার সুষ্টি করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার স্কুল চলাকালে ফেরদৌস,বাদল,মোস্তফা,আজিজুর রহমান,কুদ্দুস,মান্নাফ ও দীন ইসলামের নেতৃত্বে আবার বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ভূমিদস্যুরা। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষিকা জানান,ক্লাস শুরু হলে ভুমিদস্যুরা এসে নানা নির্যাতন করে। সে ভয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায়না। জানা গেছে,গিয়াস উদ্দিন ও সাত্তার মিয়া বিদ্যালয়ের জায়গাটিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে স্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে ২০১২ সালের ৪ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। কিন্তু সেখানে বিদ্যালয় থাকার কারনে  তাদের আবেদন প্রত্যাখাত হলে তারা বিদ্যালয়টিকে উচ্ছেদের চেষ্টায় নামে। 

School pic 2

 

 

 

    

 

এ জাতীয় আরও খবর

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় আনার নিয়মে বড় সুবিধা

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন ৪৭ লাখ করদাতা

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক