,

শৌচাগার না থাকায় গ্রামে ধর্ষণ বাড়ছে

52fc6021f304b-indexভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশির ভাগ গ্রামে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ শৌচাগার নেই।রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নারীদের অরক্ষিত অবস্থায় ঘরের বাইরে যেতে হয়।আর এ সময়ই ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। ভারতের উত্তর প্রদেশের বাদাউন জেলায় দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার জের ধরে এই শৌচাগার সমস্যা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শৌচাগার নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছে নতুন সরকার।টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শৌচাগার না থাকায় দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে নারীদের রাতেও বাইরে যেতে হয়। এ সময় অনেক নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ধর্ষণ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবারও এ ঘটনা ঘটে। বাদাউনের কাটরা সাদাতগঞ্জ গ্রামে শৌচাগার না থাকায় খোলা জায়গায় গিয়েছিল দুই কিশোরী। তাদের তুলে গণধর্ষণের পর হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এ কারণে ভারতের সরকার এখন গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণের ওপর। নির্বাচনী ইশতেহারে মোদি বলেছিলেন, ‘প্রথমে শৌচাগার, পরে মন্দির।’ তাই উত্তর প্রদেশের পয়োনিষ্কাশন বিভাগ  শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পে দেড় লাখ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে ৫৩ শতাংশ বাড়িতে শৌচাগার নেই। গ্রামাঞ্চলে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িতে শৌচাগার নেই। ঝাড়খণ্ড, বিহার, রাজস্থান, ওড়িশা, ছত্তিশগড় রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে ৭৮ শতাংশ বাড়িতে কোনো শৌচাগার নেই।

সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত উত্তর প্রদেশে শৌচাগার ব্যবহারের হার বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। এই ১০ বছরে ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরখণ্ড, হরিয়ানা, হিমাচল অঞ্চলের পরিস্থিতিও খুব সামান্যই উন্নত হয়েছে। তবে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ২০০১ সালে শৌচাগার ব্যবহারের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর ২০১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশে।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে খোলা জায়গায় প্রাকৃতিক কাজ সারার অভ্যাস থেকে মানুষকে দূরে রাখতে হবে। নিজের বাড়ি, স্কুল ও জনসমাগমের জায়গাগুলোতে শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। শৌচাগার  ব্যবহারে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন মন্ত্রণালয় পরিকল্পনার প্রস্তাব দেবে। যদি সরকারের কাছ থেকে তারা সবুজ সংকেত পায়, তা হলে ২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে এই প্রকল্প চালু হবে। এভাবে ‘স্বচ্ছ ভারত’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ওই প্রস্তাবের তহবিল কীভাবে জোগাড় করা হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে।

ভারতের সামাজিক সংস্থা সুলভ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা বিন্দেশ্বর পাঠক বলেন, শৌচাগারের অভাবে কোনো নারীকে যখন খোলা জায়গায় প্রয়োজন মেটানোর জন্য যেতে হয়, তখন তা অস্বস্তিকর ও অশ্লীল ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বাদাউনের ওই প্রত্যন্ত গ্রামের সব বাড়িতে একটি করে শৌচাগার নির্মাণ করতে হবে। আজ সোমবার বেসরকারি সংস্থা সুলভ সেখানে একটি দল পাঠিয়েছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার কাজের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে শৌচাগার নির্মাণ করা সম্ভব বলে সুলভ মনে করেন।  

এ জাতীয় আরও খবর

মোহাম্মদপুর গৃহায়ণ প্রকল্পে অনিয়ম, ফ্ল্যাট বরাদ্দের তথ্য উন্মোচন

৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন খোন্দকার মোরতাজুল করিম

সংকট সমাধানে দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

ম্যারাডোনার মামলায় চিকিৎসা পরীক্ষার ফল নিয়ে ভুল স্বীকার

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনসমর্থন কমেছে, রেকর্ড নিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে ইউএনডিপি

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে