,

হাত ধোয়াটাও জরুরি

handলাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রায় সব কাজেই হাতের ব্যবহার আপনি করেন। তবে তা কি সব সময় পরিষ্কার থাকে? কেননা হাত পরিষ্কার থাকলে অনেক অসুখ বিসুখ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। কীভাবে আপনার হাত পরিষ্কার রাখবেন, তা নিয়েই এই রচনা। 

আপনি জানেন কি শরীরে যতরকমের সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে তার ৮০ শতাংশই স্পর্শজনিত? অর্থাৎ হাত যদি ঠিক মতো পরিষ্কার না থাকে তাহলে বাইরের ক্ষতিকর জীবাণু অতি সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে আপনার শরীরে বাসা বাঁধবে অসংখ্য রোগজীবাণু। তাই সবসময় হাত পরিষ্কার রাখা অনেকটা প্রতিষেধক নেওয়ার মতো। আসুন জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন কিভাবে আপনার হাত পরিষ্কার রাখবেন।

কেন হাত পরিষ্কার রাখা উচিৎ :
আমাদের অনেককেই প্রায় প্রতিদিনই পাবলিক বাসে চড়তে হয়। সেখানে তো বটেই এমনকী অফিসের ডেস্কটপের কি-বোর্ডেও লুকিয়ে আছে হাজার হাজার জীবাণু। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দিনের বেশ কিছুটা সময় আমাদের পড়াশোনা বা কাজের সূত্রে বাইরে থাকতে হয়, ফলে আমাদের সেখানকার টয়লেটও ব্যবহার করতে হয়। আর এভাবেই আমাদের হাতের মাধ্যমে জীবাণু বাহিত হয়ে আমাদের শরীরে ঢোকার সুযোগ পায়। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে আমাদের হাতের উপরিভাগের স্তরে প্রচুর পরিমাণে এমন সব ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে, যেগুলো ছোঁয়াচেও বটে। তাই শুধু নিজের জন্য নয়, আপনার কাছের মানুষটির সুরক্ষার জন্যও আপনার উচিৎ সব সময় হাত পরিষ্কার রাখা। অপরিষ্কার হাত থেকে মেনিনজাইটিস, ভাইরাল ফিভার, হেপাটাইটিস এ, ডায়রিয়ার মতো অসুখে ভুগতে হতে পারে। 

কীভাবে জীবাণুর সংক্রমণ হয় :
১. খাওয়ার আগে ভালো করে হাত পরিষ্কার না করলে 
২. কারও ময়লা হাত ধরলে 
৩. রাস্তার খাবার খেলে ও পানি পান করলে 
৪. রান্না করার সময় কাঁচা মাংস বা ডিম হাতে নিলে 
৫. সর্দি বা হাঁচি কাশির সময় (এমনকি রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচলেও সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ কারণ রুমালটি আমাদের হাতেই ধরা রয়েছে) 
৬. প্রতিবার টয়লেটের ফ্লাশ ব্যবহার করলে 
৭. বাচ্চার ডায়াপার বদল করার পর 

উপরের যে কোনো একটি ঘটনা ঘটলেই আপনার উচিত সঙ্গে সঙ্গে হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা। আপাত ভাবে হাত পরিষ্কার মনে হলেও হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

কীভাবে হাত ধোবেন 
চিকিৎসকদের মতে হাতের আঙুলের উপরের অংশ অর্থাৎ নখের ডগায় সবচেয়ে বেশি জীবাণু থাকে। অথচ হাত পরিষ্কার করার সময় এই অংশটুকুই অনেকসময় ভালো ভাবে পরিষ্কার করা হয় না। তাই হাত পরিষ্কার করার সময় ওই অংশটি যাতে ভালো ভাবে পরিষ্কার করা হয়, তার দিকে নজর দিন। শুধু পানি নয়, যখনই হাত ধোবেন, অ্যান্টিসেপটিক সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার চেষ্টা করুন। অ্যালকোহল বেসড সোপও ব্যবহার করতে পারেন। সব সময় রানিং ওয়াটারের নিচে হাত রেখেই হাত ধোবেন। গরম পানিতে নয় ঠান্ডা পানিতে হাত পরিষ্কার করুন। হাত ধোয়ার পর পরিষ্কার টাওয়েল দিয়ে হাত শুকনো করে মুছে নেবেন। 
যখন বাহিরে থাকবেন
ব্যাগে ছোট হ্যান্ডওয়াশ বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখুন। ছোট পাউচ প্যাকেও হ্যান্ডওয়াশ পাওয়া যায়৷ হ্যান্ডওয়াশের সঙ্গে পেপার টাওয়েলও সঙ্গে রাখুন। হ্যান্ড ওয়াইপসও ব্যবহার করতে পারেন।


ছোটদের সচেতন করুন

হাত পরিষ্কার রাখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাচ্চাদের ছোট থেকেই সচেতন করুন। ছোট থেকে শেখালে আপনা থেকেই অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে। তাছাড়া বাচ্চারা নিজের অজান্তে মুখ, চোখ, ও নাকের মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলো ময়লা হাত দিয়েই ধরে। ফলে সহজেই তাদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে জন্যও তাদের হাত সব সময়ের জন্য পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি।

হাত ধোয়ার পর সর্তকতা :
হাত পরিষ্কার করার পর অবশ্যই তা শুকিয়ে নিতে হবে। এ জন্য আপনি শুকনো পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে পারেন। তবে তোয়ালে ব্যবহার করার চাইতে টিস্যু ব্যবহার করাই উত্তম। আপনি হাত শুকানোর জন্য গরম বাতাসও ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভিজে হাতে কোন কিছু ধরবেন না। হাত পরিষ্কার করার পর তা অবশ্যই শুকিয়ে নিয়ে তার পর তা ব্যবহার করুন।

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর