,

নতুন প্রাণের সন্ধানে

বাংলাদেশের প্রাণীবৈচিত্র্য অনুসন্ধানে তিনি কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে দুবাই চিড়িয়াখানার প্রধান কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। বিচিত্র সব প্রাণীর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান

বাংলাদেশে এমন কোনো আলাদা বন্য প্রাণী বিভাগ বা গবেষণাকেন্দ্র নেই, যারা সারা দেশের সব বন্য প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করবে। অথচ নমুনা সংগ্রহ, তালিকা তৈরি ছাড়াও সব রকম তথ্য ও ছবিসমৃদ্ধ একটি জাদুঘর নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে ভাগ হওয়ার সময় ভারত ও ব্রিটিশদের কাছ থেকে পুরোনো প্রাণীর সংগৃহীত নমুনার হিস্যা বুঝে নিয়েছে। যার এক চিলতেও বাংলাদেশের ভাগ্যে জোটেনি। নতুন নতুন প্রাণীর সন্ধানে আমি দেশের আনাচকানাচে ঘুরে বেড়িয়েছি বছরের পর বছর। এ অভিযানে দেখা হয়েছে এমন অনেক বিচিত্র প্রাণীর সঙ্গে, এ দেশে যাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না।

.লাগোপি শালিক
ভিন্ন প্রজাতির এই শালিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ২০১০ সালে, নারিকেল জিনজিরায়।
.কালো শালিক
১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নারিকেল জিনজিরা বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য যাই। সেখানে থেকে এ শালিকের প্রথম নমুনা সংগ্রহ করি। কমন স্টারলিং বা কালো শালিক বাংলাদেশে একটি বিরল পরিযায়ী পাখি।
প্রবাল কাঁকড়া
ছয়টি মাছের প্রজাতি যে সময় পাই, সে সময়ের কথা। জিনজিরা দ্বীপের পশ্চিমে, হাঁটুপানির গভীরতায় জীবিত প্রবাল পাথরের ফোকর থেকে সাঁড়াশি দিয়ে টেনে বের করেছিলাম এক জোড়া লাল ও খুব বড় আকারের কাঁকড়া। তখনই কাঁকড়াটির ছবি তুলেছিলাম। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং একজন জার্মান কাঁকড়াবিদের সাহায্যে আমরা এর প্রজাতি চিহ্নিত করি। একে বলা হয় ওজিয়াস রুগোলোসাস স্টিম্পসন, ১৮৫৮ (Ozius rugulosus Stimpson, ১৮৫৮) এখনো পর্যন্ত এ প্রজাতিটি দ্বিতীয়বার দেশে কেউ খঁুজে পেয়েছে বলে আমার জানা নেই।
.জলদস্যু পাখি
১৯৮০ সাল। আমি তখন মৎস্য গবেষণা জাহাজ ‘অনুসন্ধানী’তে আছি। জাহাজটা যখন সোয়াচ্ অব নো গ্রাউন্ডে (অতলান্ত সাগর) পৌঁছায়, তখন দেখি একটা বড় ধরনের জলকবুতরসদৃশ পাখি অন্য জলকবুতরকে তাড়া করে মাছ ছিনিয়ে নিচ্ছে। এ পাখিকে আমি জলদস্যু পাখি বা পাইরেট বার্ড (প্যারাসিটিক জিগার) হিসেবে চিহ্নিত করি।
ছাগল-ডাকা ব্যাঙ
সেটা বর্ষার সময়। ওয়াকং বন অফিস, টেকনাফ রেঞ্জ। সাঁঝের বেলা মাঠের কাজ না থাকায় আড্ডা মারছিলাম বনকর্মীদের সঙ্গে। তখন পাশের পাহাড় বেয়ে নামছিল বৃষ্টির পানি। হঠাৎ উঠান থেকে ছাগল ডাকার মতো শব্দ শুনে চমকে উঠলাম। টর্চ হাতে অনেক খঁুজাখঁুজির পর পেলাম এমন একটা ব্যাঙ, যেটা ছাগলের মতো শব্দ করে ডাকে। পরে ভারতীয় বিজ্ঞানী ইন্দ্রনীল ওটাকে Occidozyga lima Green Puddle Frog হিসেবে চিহ্নিত করেন। যেহেতু এদের ডাক ছাগলের মতো, তাই আমি এর বাংলা নাম রাখি ছাগল-ডাকা ব্যাঙ।

নারিকেল জিনজিরা দ্বীপে পাওয়া ৬টি নতুন প্রজাতির মাছ
নারিকেল জিনজিরা দ্বীপে পাওয়া ৬টি নতুন প্রজাতির মাছলাল সৈনিক
ছোট্ট মাছটি দেখতে দারুণ। সারা দেহ টুকটুকে বা সিঁদুরে-লাল। তার ওপর লম্বালম্বি সাদা ডোরা, যার ফলে এদের আরেক নাম ‘কাঠবিড়ালি মাছ’। এরা ডুবো পাথরের মাঝে থাকতেই বেশি পছন্দ করে।
.জাভার রংধনু মাছ
সারা দেহে সবুজ, নীলাভ, কমলা ও হালকা হলুদের বাহার, চোখ গাঢ় কমলা ও নীল বলয়যুক্ত। সাগরতীরে ও পাথরের কাছাকাছি এদের বসবাস। সাধারণত লম্বায় ২০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।
সাদা লেজ সার্জন মাছ
রুপচাঁদা মাছকে লম্বালম্বি টানাটানি করলে যে চ্যাপ্টা আকার হবে, এ মাছটি তেমন। সাদা লেজের পাশে একটি করে কাঁটা আছে। ভয় পেলে বা শত্রুর মোকাবিলার সময় এ কাঁটা পাশের দিকে খাড়া করে দেয়। কিনারাগুলো ধারালো বলেই এর নাম সার্জন মাছ।
গজদন্তী লাল মাছ 
মুখভর্তি সাদা ও বড় বড় দাঁতবিশিষ্ট মাছটি লম্বায় সর্বোচ্চ ৩৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। প্রবাল কিংবা পাথরের ফাঁকফোকরে এদের দেখা পাওয়া যায়।
চন্দ্রমাছ বা সবুজ র্যাসি
দেখতে ভারি চমৎকার। সবুজ-নীলের মধ্যে যেন গোলাপি-লালচের খেলা। লেজের গোড়ায় একটি হলুদ চন্দ্রাকার মোটা রেখা থাকে বলে এর নাম চন্দ্রমাছ। পাড়ের কাছাকাছি পাথর ও প্রবালের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে।
এগারো-ডারা ডুইড্ডিয়া
প্রায় আমাদের পুঁটি মাছের আদলের কিন্তু কিছুটা নাদুস-নুদুস। নারিকেল জিনজিরার বাজারে এর নাম ‘ডুইড্ডিয়া’। লালচে-বাদামি রঙের হলেও দেহ প্রায় স্বচ্ছ। পাথরময় এলাকায় থাকতে পছন্দ করে।

এ জাতীয় আরও খবর

মোহাম্মদপুর গৃহায়ণ প্রকল্পে অনিয়ম, ফ্ল্যাট বরাদ্দের তথ্য উন্মোচন

৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন খোন্দকার মোরতাজুল করিম

সংকট সমাধানে দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

ম্যারাডোনার মামলায় চিকিৎসা পরীক্ষার ফল নিয়ে ভুল স্বীকার

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনসমর্থন কমেছে, রেকর্ড নিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে ইউএনডিপি

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে