,

আমরা কি ‘আলবিনো’ হয়ে যাচ্ছি !

al benoডেস্ক রির্পোট : গুম, অপহরণ বা হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনায় মরছে বাংলাদেশের মানুষ। তার পরিচয় বাংলাদেশি। ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, যাই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, শেষ পর্যন্ত সে বাংলাদেশি। রাজনীতিবিদরা এ নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ করে ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা আসীন হওয়ার পথ পরিস্কার করতে পারে। যারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করেন তারা বলতে পারেন, উদ্ধার তারাই করছেন, তাদের কর্মদক্ষতার কারণে অনেক অপহৃত ব্যক্তি বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হচ্ছে।

 কিন্তু যে পরিবারটি তার স্বজন হারিয়েছে একমাত্র ভুক্তভোগী হিসেবে তারাই বলতে পারেন অপহরণ, গুম বা হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনায় এ এক অস্তিত্ববিনাশী কর্মকাণ্ডে আমরা রত রয়েছি। আমরা এ কারণে, যে সামাজিক দায়িত্ব আমাদের পালন করার কথা ছিল, যে ভূমিকা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা উচিত ছিল, সর্বপ্রকার ঝামেলা এড়ানোর জন্যে আমরা নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্যে সদা ব্যস্ত রয়েছি।
 প্রতিদিন পত্রিকায় গুম, অপহরণ কিংবা হত্যাকাণ্ডের মত নির্মম ঘটনা আমরা দেখি, টেলিভিশনে টকশো দেখি, কিন্তু তা আমাদের স্পর্শ করে না। একেবারে পাশের বাসার কেউ হলে, আত্মীয় হলে লজ্জায় (অতটুকুই) উহু আহা করি। তারপর দাফন হয়ে গেলে বলে ফেলি বড় ভাল লোক ছিলেন।
 

আমাদের এ ভূমিকায়, অপরাধীরা দ্বিগুণ উৎসাহে গুম, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। তারা অনায়াসে চাঁদা দাবি করছে, সুন্দরী মেয়েকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে অপহরণের কাজে। যাবতীয় ধরণের অপকর্ম করে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করছি নিরাপদেই তো আছি। সমাজের একটি অংশকে অবহেলায়, বৈষম্যের ঘুর্ণিপাকে ফেলে রেখে আমরা যতই ফ্লাটে বা নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তুলি না কেন, আদতে আমরা কেউ নিরাপদ নেই। কারণ আমরা জানি না কখন কে কোন অপরাধীর খপ্পরে পড়ব। আমাদের ছেলে মেয়েরা নিরাপদে স্কুল থেকে ফিরে আসতে পারবে তো!
 
কে বা হায় যাতনা খুড়ে জাগাতে ভালবাসে। সুতরাং নিজে নিরাপদ থাকুন, সেই চেষ্টা করুন যতখানি নিরাপদে থাকা যায়। অনেকে টাকার পেছনে ছুটে মনে করছেন টাকাই সর্বসুখ ও নিরাপত্তা এনে দেবে। কিন্তু অনেক সময় তা হয় না। তাই যে সামাজিক দায়িত্ব পালন থেকে আমরা সরে এসেছি তার সুযোগ শহর থেকে গ্রাম, একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মত লোমহর্ষক অপরাধ।
 
কখনো রাজনৈতিক কারণ থাকে। কখনো ব্যবসায়ীক বিরোধ। কখনো আদ্দিখালে বিবাদ হয়েছিল, সময় ও সুযোগ খুঁজি কখন সাইজ করা যায়। এভাবে প্রতিদিন আমরা একে অপরকে সাইজ করছি। সাইজ হচ্ছি। আসলে আমরা সেই আলবিনো সাপে পরিণত হয়ে গেছি। যে সাপ কিনা এক সময় নিজের লেজকে শত্রু মনে করে একবার কামড়াতে শুরু করলে গিলে খেতে থাকে। এভাবে সে নিজেকে গলধ:করণ না করা পর্যন্ত নিস্তার দেয় না। আমরা এখন গিলে ফেলার পর্যায়ে রয়েছি। কারো নিস্তার নেই। যে যাকে পারছি গিলছি। একেবারে আপাদমস্তক সমেত!
 
কারো কান্না আমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে না। টাকা দরকার, অনেক টাকা। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি এগুলোকে টাকা কামাবার কেবল অনুষঙ্গ করে ফেলেছি। আমরা চোখ থাকতে অন্ধ। পৃথিবীর মানুষ আমাদের দেখে বিস্ময় বোধ করে। পুরো নদী আমরা খেয়ে ফেলি। প্রাগৈতিহাসিক কালের মানুষ পারলে কবর থেকে উঠে এসে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখত কিভাবে বুড়িগঙ্গার তলদেশে ট্যানারির বর্জ্য থেকে শুরু করে পলিথিন ইত্যাকার আবর্জনা দিয়ে ভরাট করে ফেলেছি। কিভাবে জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলেছি। আমাদের অট্টালিকা প্রয়োজন। অট্টালিকায় আমরা প্রাণহীন কিছু মানুষ থাকব। অক্সিজেনের অভাবে, বৃষ্টির অভাবে আমাদের চারপাশ এক ধরনের বন্ধ্যা পরিবেশ সৃষ্টি করবে। অজানা, অচেনা রোগ, শোক হয়ে উঠবে আমাদের নিয়তি। কিন্তু আমাদের চকককে বিদেশি লেটেস্ট মডেলের গাড়ি থাকবে। চারপাশে থাকবে নিশ্চুপ, নিথর কেবলি অন্যান্য ক্ষুব্ধ মানুষ।
 
আমাদের অযুত তারুণ্য শক্তি আছে। কিন্তু তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ। ক্রিকেট দেখে, সস্তা চাইনিজ মোবাইল ফোনে কথা বলে তারা তারুণ্য পার করে দেয়। কর্মসংস্থান তাদের উদ্যোক্তা করে তোলে না। মানব সম্পদে পরিণত হবার কথা শুধু তারা শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সুশীল সমাজের প্রতিনিধির কাছে শুনতে পারে। কিন্তু তারা কখনোই নিজেকে পাল্টে দেয়ার সুযোগ পায় না। যা কিছু অবশিষ্ট তারা মামার জোর কিংবা বাবার সারা জীবনের সঞ্চয় বা জমি বিক্রির টাকা খরচ করে একটা কর্ম জোটাতে পারলেও সে সুদে আসল গুণতে শুরু করে। এবং যে সমাজ নিয়ে আমরা গর্ব করি সে সমাজ তাদের স্বীকৃতি দিতে পিছপা হয় না।
 
খোদার কসম যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন, তারা কখনো ভেঙ্গে বলেন না চেতনায় গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ছিল। এভাবেই আমরা ক্রীতদাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছি। আমরা অমর একুশে পালন করি কিন্তু একুশ মানে কারো কাছে মাথা নত না করা তা ভুলে বসে আছি। আমাদের সংস্কৃতি কখনোই অর্থনৈতিক মুক্তির পথ বাৎলে দেয় না।
 
এবং আমরা জানিনা, কখন কোন মা তার সন্তানের গুমের সংবাদে আঁচলে চোখ মুছতে শুরু করবেন, কোন নারী তার প্রিয়জনকে হারিয়ে নদীতে ভাসা লাশের অপেক্ষার প্রহর গুণবেন। কার সিরিয়াল কখন কেউ বলতে পারি না। কিন্তু একটা দুর্বৃত্তায়নের ঘেরাটোপে আমরা নিজেদের নিজেরাই আটকে ফেলেছি। অথচ পলিমাটির এমন অংশ নেই যেখানে বীর শহীদদের রক্ত জমাট বাঁধা নেই। তারা যে স্বপ্ন দেখে পবিত্র মাটি আর মানুষের এই জন্মভূমি আমাদের দিয়ে গেছে, তাদের আর কোনো চাওয়া নেই। যারা আমরা বেঁচে আছি তারা যদি বাঁচার মত বাঁচতে শিখি তাহলে তাদের সকল পাওয়া পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ জাতীয় আরও খবর

ঘরেই বানান জিভে জল আনা ‘চিড়া-মুগ ক্ষীর’

হাঁটতে বেরিয়ে সড়কে প্রাণ গেল ২ নারীর

‘সুখের মতো অসুখ’র দিনগুলোতে রবীন্দ্রনাথ

দুর্গাপূজাকে ঘিরে অপশক্তি চক্রান্ত করতে পারে: রিজভী

নবীনগরে সততা ব্রিকস ফিল্ডে ডাকাতি, নাইটগার্ড ও ম্যানেজারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মামলা করলে হত্যার হুমকি

ঢাকায় আজ বৃষ্টি হবে কি?

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার

দুর্নীতিবাজ গ্রেপ্তারে আবার সক্রিয় হচ্ছে দুদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান

সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, বিক্ষোভে প্রার্থীরা