,

আজ তারিখটা মনে আছে? এপ্রিল ১৮।

images (1)

সকাল সকাল দেশের সব পত্রিকার অনলাইন ভার্শন ঘেটে দেখলাম। টিভি অন করলাম। নাহ। কোথাও কামালকে নিয়ে কোনো নিউজ নেই। টিভি চ্যানেলে লাইভ আপডেট নেই, পত্রিকায় কামালের পরিবার নিয়ে কোনো সংবাদ নেই। কোনো পাতি নেতা মন্ত্রি এমপি ধাক্কা ধাক্কি করে ফুল দিচ্ছে না। হচ্ছে না শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো দামী হোটেলে স্মরনসভা আর গলাবাজি। কামাল মানে মোস্তফা কামাল।

স্কুলের বাংলা বইয়ে তার কথা সবাই পড়ে থাকবেন। আমি আরেকবার স্মরন করিয়ে দিচ্ছি। কুমিল্লার দরুইন গ্রাম। ৩ দিক থেকে বিমান ট্যাংক বিশাল সৈন্য বহর মর্টার নিয়ে পাক বাহিনীর আক্রমন। একটাই উপায়। পিছু হটা। কিন্তু সবাই পিছু হটার জন্যে প্রয়োজন কাওকে নিরন্তরভাবে মেশিনগান থেকে ফায়ার করতে থাকা শত্রু সৈন্যের উপর। লাইট মেশিনগানটা কাধে তুলে নিলেন কামাল। চালিয়ে গেলেন বৃস্টির মত গুলি। অর্ধ শতাধিক শত্রু সৈন্য হতাহত হলো। সহকর্মীরা নিরাপদে পিছু হটতে পারলো। কিন্তু বাস্তবতা কখনই সিনেমার মত নয়। একসময় মেশিন গানটির গুলি ফুরিয়ে গেলো। ৩ দিক থেকে মর্টার শেলের গোলার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত কামাল। বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হলো তার। মরেও কামাল হয়ে গেলো অমর। পেলো বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব। এই পর্যন্ত সব ঠিকই আছে।

কিন্তু এরপরের বাস্তবতার গল্প?

মালেকা বেগম। আশি উর্ধ বয়স। বয়সের ভারে হাজারো রোগ নিয়ে বেচে আছেন। মাসে শহীদ মাতা হিসেবে ৪৫০০ টাকা ভাতা আর কামালের পেনশানের ১৪০০ টাকা পান। থাকছেন সেনাবাহিনীর বানিয়ে দেয়া একতলা ছোট্ট একটি ঘরে। আজকের দিনে এই টাকা ফুরিয়ে যায় মাসের প্রথম ১০ দিনেই। ১ মাসের ক্যালশিয়াম এবং গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও কেনা হয় না। বৃদ্ধা মালেকা বেগম হচ্ছেন কামালের মা। কামালের ছেলেটি বি এ পাস করেছে। সরকারের মুক্তিযোদ্ধা নাতি পুতি কোটায় ও বেচারার চাকরীটা হচ্ছে না। কামালের ভাই টা পরের জমিতে চাষবাষ করে খায়। কেউ এদের খবর নেয় না। ইউ এন ও জানেনা তার এলাকায় ভাংগা জরাজীর্ণ শহীদের কবরটি কার।

আসুন এবার একটু মগবাজার থেকে ঘুরে আসি। ৮ তলা একুশ ফ্ল্যাটের বিশাল দালান। এখানে একজন প্রাক্তন প্রভাষকের পরিবার থাকেন। যদিও প্রভাষক সাহেব নামের আগে অধ্যাপক লিখেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার আলবদর বাহিনীর নেতৃত্ব দেবার। আদালত দয়া করে তাকে ৯০ বছরের আরাম দন্ড দিয়েছে। এখন তার বেশিরভাগ সময় কাটে শাহবাগের বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আচার আর মুরগির পাখা খেয়ে । তার খাবার, নিরাপত্তা, চিকিৎসার পেছনে মাসে সরকার বাহাদুরের খরচ ১০ লক্ষ টাকার মত। সে বেড থেকে বাথরুমে গেলেও ব্রেকিং নিউজ হয়ে যায়। তার জন্যে কত আয়োজন, কত আলোচনা। তার সন্তানেরা বিভিন্ন সময়ে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এখন ফুলে ফেপে উঠেছে। একজন তো আবার সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। সেই সেনাবাহিনী, যেখানে কামাল সৈনিক হিসেবে কাজ করতেন। সহকর্মী এবং অফিসারদের বাচাতে গিয়ে মরার পরও বেচারা হয়েছিলেন বেয়নেট দিয়ে ক্ষত বিক্ষত। দুঃখিত কামাল। এই জাতিকে তুমি ক্ষমা করে দিও। তোমাকে সম্মান করার যোগ্যতা এই জাতির নেই।

"না কামাল আমাদের তুমি ক্ষমা করো না…… সবাইকে ছার দেওয়া যায় কিন্তু আমাদের মত নিমক হারামকে ছাড় দেওয়া যায় না"

-কনস্টেবল-এনামুল হক রাব্বী-(রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ)
কৃতজ্ঞতা-বাংলাদেশ পুলিশ ফ্যান পেইজ।

এ জাতীয় আরও খবর

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

আসিফের কণ্ঠে মাহবুবুল খালিদের নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’

ধারাভাষ্য দল থেকে বাদ আথারটন-হুসেইন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি-চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, একটি সমিতি: বিএনপি নেতা খোকন তালুকদার

ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ শুভেন্দুর

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা