বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাশরাফির হ্যাটট্রিক শিরোপা, কুমিল্লার প্রথম

news-image

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অন্যরকম হ্যাটট্রিক করলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিপিএলের গত দুই আসরের ঢাকা গ্লাডিয়েটরসের হয়ে শিরোপা উঠেছিলো মাশরাফির হাতে। এবার তৃতীয় আসরে শিরোপা জয়ের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন তিনি। ক্যাপ্টেন মাশরাফির এমন কীর্তিতে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে বরিশাল বুলসকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে বিপিএলের তৃতীয় আসরের শিরোপা ঘরে তুলল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বরিশাল বুলসের দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাশরাফির কুমিল্লা। কুমিল্লার জয়ে বড় অবদান রাখা অলক কাপালি ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুর্দান্ত ইনিংসের তিনি ম্যাচসেরা হয়েছেন। আর টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন জায়িদি।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই হয়েছে কুমিল্লার। প্রথম ওভারে আট রানের পর দ্বিতীয় ওভারে ১৩ রান পেয়ে গেছে মাশরাফির দল। তবে তৃতীয় ওভারে প্রথম সাফল্যের আনন্দে মেতে উঠেছে বরিশাল বুলস। লিটন দাসের (৩) ফিরতি ক্যাচ নিয়েছেন মোহাম্মদ সামি। দলীয় ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর কুমিল্লাকে ভালোভাবে এগিয়ে নিচ্ছিলেন অন্য ওপেনার ইমরুল কায়েস ও আহমেদ শেহজাদ। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছেন দুজনে। ২৪ বলে ৩০ রান করা শেহজাদকে আউট করে বরিশাল বুলসকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। ইমরুলকে ফেরানোর কৃতিত্বও বরিশাল অধিনায়কের।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৬৭ রান করা ইমরুল এ দিন ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন। দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। তবে অর্ধশতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩৭ বলে তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৫৩ রান করে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিয়েছেন ইমরুল। ইমরুলের বিদায়ের পর একটি করে চার ও ছক্কা মেরে কুমিল্লাকে আশার আলো দেখিয়েছিলেন আশার জাইদি। তবে ১৬ রান করে রানআউটের খাঁড়ায় কাটা পড়েছেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার।
শেষ দুই ওভারে ছয় উইকেট হাতে নিয়ে ২৩ রান প্রয়োজন ছিল কুমল্লার। ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে ড্যারন স্টিভেন্স (৮) আর মাশরাফিকে (০) ফিরিয়ে বরিশালকে উল্লাসে ভাসিয়ে দিয়েছেন কেভন কুপার। এর মধ্যে মাশরাফির ক্যাচ অসাধারণ দক্ষতায় তালুবন্দি করেছেন মাহমুদুল্লাহ। তবে সেই ওভারের শেষ দুই বলে চার মেরে কুমিল্লার আশা টিকিয়ে রেখেছেন অলক কাপালি।
সামির করা শেষ ওভারে ১৩ রান করতে হতো মাশরাফির দলকে। প্রথম বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে যান শুভাগত হোম। দ্বিতীয় বলে বাই রান হওয়ায় স্ট্রাইক পেয়েছেন অলক। তৃতীয় বলে অলকের চমৎকার পুল চার রান এনে দিয়েছে কুমিল্লাকে। চতুর্থ বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে আবার চার। পঞ্চম বলে দুই রান নেন অলক। শেষ বলে এক রান দরকার। ফাইন লেগে বল ঠেলে এক রান নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন অলক। ২৮ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে তিনিই শেষপর্যন্ত কুমিল্লার জয়ের নায়ক। হেরে গেলেও মাহমুদুল্লাহর দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও জ্বলে উঠে ২৩ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন বরিশালের অধিনায়ক।
এর আগে মাহমুদুল্লাহর ৪৮ ও শাহরিয়ার নাফীসের অপরাজিত ৪৪ রানের দুটো চমৎকার ইনিংসের সুবাদে চার উইকেটে ১৫৬ রান করেছে বরিশাল বুলস। ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বরিশাল। কিন্তু সেখান থেকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও শাহরিয়ার নাফীস মিলে দলীয় স্কোরকে ১৪৯ পর্যন্ত টেনে নেন। বলহাতে কুমিল্লার মাশরাফি, জায়িদি, কুলাসেকারা ও স্টিভেন্স ১টি করে উইকেট নেন।

এ জাতীয় আরও খবর