নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ফেসবুকে পরিচয়, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে—এরপর মাত্র দেড় বছরের মাথায় দাম্পত্য জীবনে দেখা দেয় বিরোধ। একপর্যায়ে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ও থানায় অভিযোগ করেন স্ত্রী মুন্নি আক্তার। দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পারিবারিক অস্থিরতার পর অবশেষে পুলিশের সহযোগিতায় স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে সংগীতশিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার ইউসুফ রায়হান এবং তার স্ত্রী মুন্নি আক্তারের স্থায়ীভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
মুন্নি আক্তার ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রাগীপুর এলাকার মো. সেলিম মিয়ার মেয়ে।
মুন্নি আক্তারের অভিযোগ, দাম্পত্য জীবনে তিনি স্বামী ইউসুফ রায়হানের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ অভিযোগের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং নবীনগর থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। অভিযোগকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও টানাপোড়েন আরও বাড়ে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ইউসুফ রায়হান ও মুন্নি আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের দেড় বছরের মধ্যেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নানা বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সম্পর্কটি আর স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরীর নির্দেশনায় এসআই আজাদের তত্ত্বাবধানে থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনা হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়ী অবসানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সমঝোতা সূত্রে জানা যায়, কাবিন নামায় নির্ধারিত দেনমোহরের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ টাকা। সমঝোতার অংশ হিসেবে এর অর্ধেক অর্থাৎ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে আর্থিক বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সমঝোতা বৈঠকে নারী নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন পুতুল, মাহমুদা আক্তার বিথি, শান্তা ইসলাম, জন প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন ইউপি সদস্য মো. সফর আলী, সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য রুনা আক্তার, মো. আখতারুজ্জামান, শেখ মিহাদ, ইউসুফ রায়হান ও তার মা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদ ও আর্থিক সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
অভিযুক্ত আবু ইউসুফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মুন্নি আক্তারের সঙ্গে আমার বনিবনা হয় না এবং তার আচার-ব্যবহারও ভালো নয়। তাই আমি তার সঙ্গে সংসার করতে রাজি নই। এ কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”
থানায় সমঝোতার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ইউসুফ রায়হান ও মুন্নি আক্তারের দাম্পত্য বিরোধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।











