বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জ মুক্ত দিবস ১১ ডিসেম্বর

news-image

আশুগঞ্জ মুক্ত দিবস ১১ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
দিনটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৯টায় গোলচত্বরের সামনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় লোকজনের অংশগ্রহণে ব্যান্ডপার্টি নিয়ে র‌্যালি হয়। বেলা সাড়ে ১০টায় শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র মিলনায়তনে হয় আলোচনা সভা। এ সব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন আশুগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ইকবাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ কুমার সিংহসহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় জনগণ।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে পাকবাহিনীর সাথে ব্যাপক যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর। এ সময় এ দুই বাহিনীর ৩ শতাধিক সদস্য শহীদ হয়। পাকবাহিনীরও প্রায় শতাধিক সৈন্য মারা যায়। ১০ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী ও বেঙ্গল রেজিমেন্ট সারারাত প্রস্তুতি নিয়ে ভোরবেলা আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের রেস্ট হাউজে অবস্থান নেয়। সেখানে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকবাহিনী আশুগঞ্জ থেকে পার্শ্ববর্তী ভৈরবে পালিয়ে যায়। সে সময় তারা মেঘনা পার হয়ে মেঘনা রেলসেতুর একাংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এতে সেতুটি ২টি স্প্যান ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। ১১ ডিসেম্বর সকালে বিনা বাধায় আশুগঞ্জ বাজার দখল করে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা। আশুগঞ্জ শুত্রুমুক্ত হয়।
আশুগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব সংগঠিত করেন তৎকালীন লে. কর্নেল কে এম শফিউল্লাহ, লে. কর্নেল মোর্শেদ, মেজর নাসির, ক্যাপ্টেন মো. নাসিম, ক্যাপ্টেন মতিনসহ অনেকে। আশুগঞ্জকে মুক্ত করতে গিয়ে পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীদ হন সুবেদার সিরাজুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আব্দুল হাই, সিপাহী কপিল উদ্দিনসহ ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

 

এ জাতীয় আরও খবর