,

ইসলামে মালিক শ্রমিক সম্পর্ক

news-image

'নবীর শিক্ষা, করো না ভিক্ষা' গ্রামবাংলার এ প্রবাদটি মূলত প্রিয়তম রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এর একাধিক হাদিস ও তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শেরই চমৎকার প্রতিফলন। ইসলাম প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করেছে। দেশের সরকারপ্রধান এবং সাধারণ একজন কৃষকের দৃশ্যমান কাজ একই রকম না হলেও উভয়ের ক্ষেত্রে 'কাজ'কে ইসলাম সমান মূল্যায়ন করেছে। কাজ কাজই, ব্যক্তির মর্যাদার কারণে কাজের ধরনের ও পদের পার্থক্য থাকলেও 'শ্রম' বিবেচনায় ইসলাম সমান মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রিয় রাসুল মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেন, 'শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো।' শ্রমিকদরদি এমন আপসহীন মহান বাণী তিনি যেমন তুলে ধরেছেন, ঠিক তিনি মালিকদের বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্ক ছিলেন। তাদের দিক বিবেচনায় রেখে অন্য হাদিসে তিনি ঘোষণা করেছেন, 'সাবধান, তোমরা সবাই কোনো না কোনো দায়িত্বে নিয়োজিত আছ। তোমাদের প্রত্যেককেই নিজের সেই দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।' মানে, মালিক তোমাকে ঘাম শুকানোর আগেই যেমন মজুরি পরিশোধ করবে, তোমাকেও তার পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ গুরুত্ব ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে ফাঁকিবাজি করলে, তার সঙ্গে প্রতারণা করলে তোমাকে মালিক শাস্তির মুখোমুখি করুক বা না করুক মৃত্যুর পর অবশ্যই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

 

ইসলাম তুলনামূলকভাবে বেশি কল্যাণময় মধ্যমপন্থী চেতনার পূর্ণাঙ্গ আদর্শের নাম। নিজের কোনো মত ও মতবাদকে ইসলাম বলে অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ি না করে ইসলামের আলোয় মিলিয়ে দেখতে হবে, আমি কতটা ইসলামের পথে আছি। ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গে আমার বিশ্বাস মতবাদে কোনো গরমিল থাকলে ইসলামের আলোকেই তা সংশোধন করে নিতে হবে। সুতরাং মনে রাখতে হবে, ইসলাম শুধুই শ্রমিকের জন্য অতিরঞ্জিত দরদ দেখায়নি। সঙ্গে মালিকের স্বার্থের বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এর মাধ্যমে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে মূলত ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও হূদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। একদিকে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের পাশাপাশি তার সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব মালিকপক্ষ গ্রহণ করলে, অন্যদিকে মালিকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিজের মনে করে তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে শুধু মালিক-শ্রমিকরাই সুখী হবেন না; তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হবে। আর্থিক উন্নয়ন নিশ্চিত হলে, শ্রমিক উপযুক্ত পরিবেশ ও স্বস্তিতে শ্রম বিক্রির সুযোগ পেলে, দেশ শান্তিতে ভরপুর হবে।

আল্লাহ বলেছেন, 'যখন নামাজ পড়া সমাপ্ত হয়ে যায়, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো।' (সূরা জুমা : ১০)। পবিত্র কোরআনের এ নির্দেশনার আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলে ফল দাঁড়ায়, শ্রমিকের কাজও ইবাদত। মালিকের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব পালনও ইবাদতেরই অংশ। মুসলমানের জীবনের ২৪ ঘণ্টার শ্রম, ঘুম, পানাহার থেকে শুরু করে সবই ইবাদতের অংশ। শুধু সিস্টেম জেনে ইবাদত মনে করে তা সম্পন্ন করলেই হলো।

 

শ্রমিকের অধিকার আদায়ে ইসলামের প্রকৃত দর্শন সঠিকভাবে সব স্তরের শ্রমিক বন্ধুদের কাছে পৌঁছে যাক। সঙ্গে মালিকপক্ষের সব সম্মানিত বন্ধুজনকেও অনুরোধ, প্রিয় রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা অনুযায়ী নিজের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করুন। শুধু শ্রমিক প্রসঙ্গই নয়, আপনার সেবা ও পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও ইসলামকে মেনে চলুন। ঈমানদার সৎ ব্যবসায়ীরা মৃত্যুর পর জান্নাতে নবী-রাসুল, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে অবস্থান করার মহাসৌভাগ্য পাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে ইসলাম।
 

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে