,

হাজীদের ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ লাপাত্তা হাব নেতা!

news-image

অতিরিক্ত কোটায় পাঠানো ৫ হাজার হাজীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ খাতে প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন।

সমতলে বাড়ি ভাড়ার কথা বলে পাহাড়ে বেশি দামে ভাড়া দেখিয়ে এই টাকা লোপাট করেছেন তিনি-এমন অভিযোগ হাবের মহাসচিব সহ সংশ্লিষ্টদের। তারা বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনেকটা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাবেক এই নেতা। হজ মওসুম শেষে দেশে ফেরার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু জামাল উদ্দিনকে অফিসে বাসাবাড়িতে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কারো সঙ্গে ধরা দিচ্ছেন না। তবে জামাল উদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কিছু ডকুমেন্ট তৈরি করছি। যা প্রকাশ করলে আসল দুর্নীতিবাজরা ধরা পড়বে। 


সূত্র জানায়, হজের বিদায়ী মওসুমে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২ হাজার হজযাত্রী যাওয়ার কথা থাকলেও গমনেচ্ছু বেশি হওয়ায় শেষ সময়ে আরও পাঁচ হাজার হজযাত্রী পাঠানো হয়। এসব হাজী কাগজপত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হলেও মূল দায়িত্ব পালিত হয় হাবের নেতৃত্বে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। তাই এই হজযাত্রীদের ব্যবস্থাপনার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য জামাল উদ্দিনকে সৌদি আরবে অবস্থানরত তার ভাইয়ের সহায়তায় মক্কা ও মদিনায় সমতলে বাড়ি ভাড়া করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়।

কথা ছিল মক্কায় হাজীপ্রতি ৪০০ ও মদিনায় ১২০ সৌদি রিয়েল করে মোট ৫২০ রিয়েলের মধ্যে বাড়ি ভাড়া করা হবে। বাড়ি ভাড়ার জন্য অগ্রিম টাকা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় সরকারি কোষাগার থেকে আগেই পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু জামাল উদ্দিন তার ভাইয়ের সহায়তায় মক্কায় মসজিদুল হারাম থেকে ৪ কিলোমিটারের বেশি দূরে কোদাই পাহাড়ে ৮টি বাড়ি ভাড়া করেন। ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ রিয়েলের মধ্যে ভাড়া করলেও তারা ভাড়া দেখায় ৮০০ রিয়াল। অন্যদিকে মদিনায়ও ভাড়া দেখায় ২২০ রিয়াল। এই হিসেবে হাজীপ্রতি ১ হাজার ২০ রিয়েল হিসেব করে সমুদয় টাকা হজ মিশন থেকে নিয়ে নেন। সময় স্বল্পতা ও তড়িঘড়ির কারণে এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সবাই তখন দেশে থাকার কারণে বিষয়টি তখন ধরা পড়েনি।

কিন্তু পরে হাজীরা যাওয়ার পর দেখা যায় বাড়িগুলো পাহাড়ের ওপর। কমিটির অন্য সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন প্রায় অর্ধেক দামে এসব বাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। হাবসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে জামাল উদ্দিনের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে নানা অজুহাত দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে হাবের পক্ষ থেকে হাজীদের জন্য আবার হেরেম শরীফের কাছে বাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিছু এজেন্সি নিজ উদ্যোগেও হাজীদের কাছে রাখার ব্যবস্থা করে। এদিকে মদিনায় হাজীদের বাড়ি ভাড়া করার ক্ষেত্রে তারিখের হেরফের করার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে অতিরিক্ত কোটার হাজীদের ফিরতি ফ্লাইট ১৯শে অক্টোবর থেকে শুরু হয় সেখানে মদিনায় এই হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া করা হয় ১৭ই অক্টোবর থেকে।

ফলে অনেক হাজীর ১০ দিন মদিনায় থাকা সম্ভব হয়নি। 
অতিরিক্ত হজযাত্রীদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য রুহুল আমিন মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে এমন অনিয়ম করা হবে আমরা ধারণাও করতে পারিনি। হাবের সাবেক সভাপতি  জামাল উদ্দিনকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু হাজীদের জন্য যে বাড়ি তিনি ভাড়া করিয়েছেন তা এককথায় বয়স্ক হাজীদের থাকার অনুপযোগী। এছাড়া ভাড়াও নিয়েছেন দ্বিগুণেরও বেশি। আমরা ধারণা করছি কমপক্ষে ৬ কোটি টাকা এখান থেকে লোপাট করা হয়েছে। 


 হাবের মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, বাড়ি ভাড়ায় যে অনিয়ম হয়েছে এর সঙ্গে হাবের কোন সম্পর্ক নেই। বাড়ি ভাড়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিনকে, তিনিই অনিয়ম করেছেন। হাজীদের  জন্য সমতলে ৪টি বাড়ি ভাড়ার কথা বলে পাহাড়ে ৮টি বাড়ি ভাড়া করেছেন। হাজীদের কষ্ট দেখে আমরা পরে হারাম শরীফের কাছাকাছি থ্রি ও ফোর স্টার হোটেল ভাড়া করি। তিনি বলেন- আমরা বাড়ি ভাড়া নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তের জন্য ধর্মমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি করছি। ওদিকে এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের জবাবে শুধু নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান। ১১ই অক্টোবর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সচিব বলেন, বাড়ি ভাড়ার বিষয়টি ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের তদারকিতে হয়েছে। এক্ষেত্রে তার কিছু করার ছিল না।

বিশেষ কোটার ওই পাঁচ হাজার হাজীর বাড়ি ভাড়া থেকে ৬ কোটি টাকা (জনপ্রতি ১২ হাজার টাকা করে) আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখে পড়েন ধর্ম সচিব বাবুল হাসান। বাড়ি ভাড়া থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সচিব বলেন, বাড়ি ভাড়া যখন হয়, তখন তিনি সৌদি আরবে ছিলেন না। বাড়ি ভাড়ার জন্য মন্ত্রী ১০ জনের একটি কমিটি করে দেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উনারা বাড়ি ভাড়া করেছেন, বেশি-কম ওই সময় হতেই পারে। করেছেন কিন্তু উনারা। বিশেষ করে, আমি যতটুকু জানি, বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বেশি আলাপ করেছিলেন জামাল সাহেব। হাবের সাবেক সভাপতি। অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যদি কিছু করে করবে।   

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে