,

ফুটবল প্রেমীদের উল্লাসে আবারও মুখরিত হয়ে উঠছে নাসিরনগর

news-image

আকতার হোসেন ভুইয়া : নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবলপ্রেমী দর্শকের ভীড় দিন দিন বাড়ছে । উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুনামেন্টের ফুটবল খেলা দেখতে মাঠে আসছে বিভিন্ন বয়সী দর্শক। নারী দর্শকরাও খেলা দেখতে মাঠে আসছেন। কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে মাঠের চারদিক। দর্শকদের আনন্দ কোলাহল উচ্ছসিত ধ্বনী আর উল্লাসে আবারও মুখরিত হয়ে উঠছে নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠটি। দর্শকরা বিভিন্ন ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে উৎসবমূখর পরিবেশ সৃস্টি করছে । এছাড়া দিন দিন বর্নাঢ্য হচ্ছে ফুটবলের আসর। দর্শকদের আনন্দ উত্তেজনা সমর্থনে মাঠের মধ্যে খেলোয়াররাও ক্রীড়া নৈপুন্য প্রদর্শনে ব্যাপক উৎসাহ পাচ্ছে। খেলোয়ার রেফারী সহ সংশ্লিস্টদের নানা রঙ্গের পোষাক, মাঠের সাজসজ্জা, খেলায় সুশৃঙ্গল পরিবেশ, খেলোয়ারদের ক্রীড়া নৈপুন্য বিশেষ করে আয়োজকদের আন্তরিকতায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুনামেন্ট । নাসিরনগরে ফুটবলের যে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য সেই ঐতিহ্যে জোয়ার লেগেছে । আর এর পেছনে যার সবচেয়ে বেশী অবদান তিনি হলেন নাসিরনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ। তাকে সাবির্ক সহযোগিতা করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন কুমার দেবসহ ফুটবলপ্রেমী মানুষ । 
এ মাঠে বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতায় একসময় বিপুল দর্শকদের উপস্থিতি ঘটতো। কিন্তু ১৯৮৭ সালের পর আর কোন বড় টুনামেন্টের আয়োজন হয়নি শুধুমাত্র মারামারি কারনে। যে কারনে সেই ঐতিহ্যে একসময় ভাটা নেমে আসে। বিভিন্ন আয়োজনে দর্শকদের শূন্যতা দেখা দেয়। অনেকটা হাতাশায় নিমজ্জিত ছিল ফুটবলের জনপ্রিয়তা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফুটবল খেলা। অথচ এক সময়ে প্রতিটি গ্রামের স্কুল মাঠ এমনকি ধান কাটার পর খালি মাঠে এবং বাড়ীর পাশের খালি জায়গায় পযর্ন্ত চলতো ফুটবল খেলার তীব্র প্রতিযোগিতা। এ সব খেলায় স্বর্ণ-রোপ্য তৈরি কাপ,টেলিভিশন এমনকি ঘোড়া,গরু পযর্ন্ত উপহার দেয়া হতো। কতোই না মজা হতো যখন এক গ্রামের সাথে অন্য গ্রাম, এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমন কি বিবাহিত বনাম অবিবাহিতদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার উৎসুক জনতা এ সব প্রতিযোগীতা দেখে কতই না আনন্দ উপভোগ করতেন। শুধু যে গ্রামের ছোট ছোট ছেলেরাও ফুটবল খেলার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতো। এ সব খেলায় দূর-দূরান্ত থেকে ভাল ভাল খেলোয়ারকে আনা হতো পক্ষে খেলে দেয়ার জন্য যাকে স্থানীয় ভাষায় 'হায়ার' বলা হয়। যাদেরকে খেলার জন্য হায়ারে আনা হতো তাদের খাওয়ানো হতো জামাই আদরে এবং দেয়া হতো মোটা অংকের টাকা উপঢৌকন। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব , ফুটবল খেলার প্রতি অনাগ্রহ, আয়োজকদের আন্তরিকতা অভাব, ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলতা সহ নানা কারণে ফুটবল প্রতিযোগিতায় দর্শকদের সংখ্যা কমে যায়। মাঠ থাকলেও সেই মাঠ শূন্য থাকে আয়োজনের অভাবে। 
সেই পরিবেশ যেন এখন আর নেই। উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টূর্ণামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকে দেখা গেছে বিপুল সংখ্যক দর্র্শক। শিশু কিশোর নারী সহ বিভিন্ন বয়সী দর্শকরা ভীর করেন মাঠে। মাঠ সংলগ্ন বাসা বাড়ি ভবনের ছাদ বারান্দায়ও দর্শকদের ভীর লক্ষ্য করা গেছে । গাছে উঠেও অনেকে খেলা দেখছেন। মাঠে যেমন খেলোয়ারদেরও পোষাকে বর্নাঢ্যতা তেমনই মাঠ সজ্জ্বায়ও বর্নাঢ্যতা লক্ষ্য করা গেছে। মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যবস্থাপনা ইতিবাচক। এই পরিবেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে জাগরণ সৃস্টি হয়েছে এবং নিমিজ্জত ফুটবল ঐতিহ্য বিকশিত হয়ে জোয়ারে ভাসছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ