বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের প্রবল প্রতাপশালী দুই মাদক সম্রাটের কথা

news-image

৯৭০ সালের পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বহু বিলিয়ন ডলারের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায় প্রবল প্রতাপশালী দুই মাদক সম্রাটকে। তারা তাদের এ ব্যবসার মাধ্যমে কামিয়ে নিয়েছেন যেমন বহু অর্থ তেমন নেশার খোরাক যুগিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মাদক ব্যবহারকারীদের কাছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

পরাক্রমশালী দুই মাদক ব্যবসায়ীল মাঝে পাবলো এসকোবার শুধু কোকেনের ব্যবসাই করতেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোকেন সরবরাহ করে বিলিয়ন ডলার কামিয়েছিলেন। অন্যদিকে এল চ্যাপো শুধু কোকেন নয়, বিভিন্ন নেশাদ্রব্য সরবরাহ করতেন। এসব নেশাদ্রব্যের মধ্যে কোকেন ছাড়াও রয়েছে মারিজুয়ানা, একস্টেসি, হেরোইন, ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন ইত্যাদি।


পাবলো এসকোবার
কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণকারী পাবলো এসকোবার বড় হয়ে ওঠেন নানা অপরাধের মাঝে। এক পর্যায়ে বিশ্বের কোকেন বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন ১৯৮০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তখন প্রতি সপ্তাহে ৪২০ মিলিয়ন ডলার আয় করতেন তিনি।
ফোর্বস তালিকায় বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় পর পর সাত বছর স্থান লাভ করেন তিনি। ১৯৮৯ সালে তিনি বিশ্বের সপ্তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পান। এসকোবার ১৯৮০ সালে বিশ্বের ৮০ শতাংশ কোকেন সরবরাহ করতেন। ‘এল প্যাট্রন’ নামে পরিচিত এ কোকেন সরবরাহকারী প্রতি পাঁচজন মার্কিন কোকেনসেবীর মধ্যে চানজনকেই কোকেন সরবরাহ করতেন। এসকোবারের ডাক নাম ছিল ‘রবিনহুড।’ কারণ তিনি গরীবদের প্রচুর সহায়তা করতেন। গৃহহীনদের জন্য বাড়ি দেওয়া এবং ফুটবল খেলায় সহায়তা দেওয়া ছিল তার প্রিয় কাজ। এছাড়া তিনি একটি চিড়িয়াখানাও বানাতে সহায়তা করেন।
সরকারের সঙ্গে এক চুক্তির কারণে তিনি কলম্বিয়ায় জেল খাটার জন্য রাজি হন। এ সময় তিনি নিজের জন্য একটি বিলাসবহুল জেলখানা বানান এবং তার নাম দেন ‘লা ক্যাথেড্রাল।’ তার সেই জেলখানায় রয়েছে ফুটবলমাঠ, বারবিকিউ পিট ও নিজের পরিবারের জন্য বাসস্থান। এছাড়া কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষের জেলখানার তিন মাইলের মধ্যে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ তার ড্রাগ ব্যবসা বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে একটি সাধারণ জেলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করে। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে জেল থেকে পলায়ন করেন। পরবর্তীতে মার্কিন-কলম্বিয়ান যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে তিনি নিহত হন। অবশ্য অনেকেরই বিশ্বাস তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

main
এল চ্যাপো গুজম্যান
মেক্সিকোয় জন্মগ্রহণকারী এবং বেড়ে ওঠা এল চ্যাপো গুজম্যান সে এলাকার একমাত্র মাদক সম্রাট নন। তবে তার আয় এক পর্যায়ে অন্য সবাইকে ছাপিয়ে যায়। এল চ্যাপো মেক্সিকোর দুর্গম অঞ্চলে কোকেনসহ নানা মাদকদ্রব্য উৎপাদন করতেন ও তা বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে সরবরাহ করতেন। এছাড়া তিনি কলম্বিয়ার ৩৫ শতাংশ কোকেনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও তিনি অস্ট্রেলিয়া, হং কং ও ফিলিপাইনে কোকেন সরবরাহ করতেন। মাদক সরবরাহ করার কারণে গুজম্যান বহুদিন আগ থেকেই বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওয়ান্টেড আসামির তালিকার শীর্ষপর্যায়ে ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি গুয়াতেমালায় গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি পালিয়ে যান। ১৩ বছর পালিয়ে থাকার পর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। অবশ্য এবারও তাকে বেশিদিন গ্রেপ্তার করে রাখা যায়নি। ১৭ মাস পর তিনি আবার পালিয়ে যান। পলাতক অবস্থায় তিনি তার ড্রাগ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার যৌথভাবে তাকে খুঁজে চলেছে। এছাড়া রয়েছে ড্রাগ ব্যবসায় তার নানা প্রতিপক্ষ, যারা তার সন্ধান পেতে আগ্রহী।
 

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে