বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অফিস ফাঁকি ঠেকাতে ডিজিটাল হাজিরা

news-image

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ফাঁকি ঠেকাতে ও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে আসা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) হাজিরা পর্যবেক্ষণের জন্য চলছে ডিজিটাল পাঞ্চ কার্ড বসানোর কাজ। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এরই মধ্যে চালু হয়েছে আঙুলের ছাপ সংবলিত ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি। ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমান অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ঢাকার এই সিটি করপোরেশনে স্থায়ী জনবলসংখ্যা ১ হাজার ৮৫৮ জন। তাদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রধান কার্যালয়ে কাজ করেন। বাকিরা মাস্টাররোল বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত। প্রাথমিকভাবে প্রধান কার্যালয়ে কর্মরতদের জন্য পাঞ্চ কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব কার্ডের চিট কোডে থাকবে কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাবতীয় তথ্য। কার্ডটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। মাস শেষে মেশিন থেকে প্রিন্ট নিয়ে সহজেই তাদের হাজিরার তথ্য জানা যাবে। নগর ভবনের প্রত্যেক তলায় বসানো হচ্ছে পাঞ্চিং মেশিন। মেশিনে কার্ড পাঞ্চ করে অফিসে ঢুকতে ও বের হতে হবে। একজনের কার্ড যেন অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারেন তা নজরদারি করতে প্রতিটি মেশিনের ওপর বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। একটি কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো বিষয়টি মনিটর করা হবে। এ প্রসঙ্গে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক সমকালকে জানান, শুরুতে মূল কার্যালয়ের কর্মীদের কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়েও এ পদ্ধতি চালু হবে। মেয়র আনিসুল হকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে গুলশান ও বনানী থেকে নগর ভবনের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও দুটি কার্যালয় এক করে গুলশান ২ নম্বর গোল চত্বরের পাশে স্থানান্তর হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন কার্যালয়ের ডেকোরেশন সম্পন্ন হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গভাবে কার্ড পাঞ্চিংয়ের মাধ্যমে হাজিরা পদ্ধতি শুরু হবে।

 

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে সকাল সোয়া ৯টায় বিনা নোটিশে নগর ভবনের বনানী কার্যালয়ে গিয়ে মেয়র আনিসুল হক দেখতে পান নির্দিষ্ট সময়ে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এসে পেঁৗছাননি। সেবা নিতে আসা লোকজনকে তাই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সময় মেনে দায়িত্ব পালন করার আদেশ জারি করেন মেয়র। তাতেও কাজ না হওয়ায় বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে বৈঠকের পর পাঞ্চ কার্ড পদ্ধতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় দুই হাজার স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাজিরা প্রক্রিয়া এরই মধ্যে আঙুলের ছাপ দেওয়া যন্ত্রের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে ছাপ দেওয়ার যন্ত্র।

 

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থায়ী সব কর্মীকে ছাপ দিয়ে অফিসে ঢুকতে ও বের হতে হচ্ছে। তবে মেয়র সাঈদ খোকনকে এ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। ডিএসসিসির সচিব খান মোহাম্মদ রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটের পর কেউ আঙুলের ছাপ দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরার রিপোর্ট তার হাতে চলে আসছে বলেও জানান সচিব। তিনি আরও জানান, কেউ ছুটিতে থাকলে সে তথ্যও আগে থেকে সফটওয়্যারে লোড করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে ওই কর্মচারীর হাজিরায় ছুটি নির্দেশিত থাকছে। এ পদ্ধতি চালু হওয়ায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি আরও আধুনিকায়নের চিন্তাভাবনা চলছে বলেও জানান দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই কর্মকর্তা।

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে