,

সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আস্থায় এনে বাঘ রক্ষা করতে হবে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

news-image

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সুন্দরবনের আশপাশে থাকা সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আস্থায় এনে বাঘ রক্ষা করতে হবে। এটি না হলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষে সেখানে সবসময় কাজ করা সম্ভব হবে না। গতকাল রবিবার বন বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সুন্দরবনের বাঘ রক্ষা, শিকারি প্রাণী ও আবাসস্থল পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। 
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বন বিভাগ বাঘ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ কাজে বন বিভাগকে সহায়তা করছে। কিন্তু আমাদের আগে লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, অনেক আগে থেকে বাঘ রক্ষায় কাজ চলছে। নানা উদ্যোগও আছে এ কাজে। কিন্তু সুন্দরবনে যারা বাঘ শিকার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তারা সামাজিকভাবে শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় পায়। যে কারণে অনেক সময় তাদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
 
তিনি বলেন, দেশীয় সম্পদের পাশাপাশি দাতাদের অর্থ দিয়ে আমরা বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। বন্যপ্রাণী রক্ষার বিষয়টি বৈশ্বিক সমস্যা। কোন দেশ বা সংস্থার পক্ষে এককভাবে এ কাজটি করা সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বন্যপ্রাণী নানা সমস্যায় রয়েছে। আমাদের এ বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে।
 
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাঘ কেন কমে যাচ্ছে এর কারণ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সুন্দরবনের পাশে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠা, চোরা শিকারিদের উপদ্রব বড় হুমকি। একথা সত্যি যে, আমরা বন্যপ্রাণী যথাযথ সংরক্ষণ করতে পারিনি। বাঘ রক্ষায় তিনি স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন।
 
প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী বলেন, সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাচ্ছে। আইইউসিএন এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংখ্যায় কমে গেলেও একক ঘনত্বের দিক থেকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা অনেক বেশি। এটি রক্ষায় আমাদের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে সংখ্যায় বাঘ রয়েছে তা যেন আর না কমে যায়।
 
ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সিনিয়র প্রফেসর ড. ওয়াই. ভি. ঝালা বলেন, অন্য প্রজাতির বাঘ বাড়ানো গেলেও সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাইরে থেকে আনা সম্ভব নয়। এজন্য এখনি সতর্ক থাকতে হবে-যাতে এখানে বাঘের সংখ্যা আর না কমে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারত যৌথভাবে যে জরিপ কাজ পরিচালনা করেছে তাতে সুন্দরবনের ৬০ শতাংশ এলাকা কাভার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এর চলাচল অবাধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপ-প্রধান বন সংরক্ষক আকবর হোসেন, ইউএসএইড বাংলাদেশের উপ-প্রধান ক্যাথি ডি ওয়াসেলা, বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে প্রমুখ। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বাঘ শুমারি রিপোর্টের মোড়ক উন্মোচন করেন।

এ জাতীয় আরও খবর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ