বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জ লেবানন প্রবাসীর বাড়িতে অগ্নিতান্ডব আদালতের মামলা আমলে নিচ্ছে না পুলিশ

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদকমধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে ঘটনাটি। আগুনে পাকা দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুড়ে অঙ্গার হয়েছে কোটি টাকার সম্পদ। তারপরও রেহাই নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের লেবানন প্রবাসী একটি পরিবারের। বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এ পরিবারের সদস্যদের। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনাও বন্ধ। ঘটনার ভয়াবহতায় হতভম্ব প্রবাসী পরিবার মামলা করারও সাহস পাননি গোড়াতে। পরে আদালতে মামলা দেন। আদালত থেকে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে মামলা রেকর্ড করার আদেশ দেয়া হয়। এরপর পেড়িয়ে গেছে দু-সপ্তাহ। কিন্তু মামলাটি নিয়ে এখনো নিরব আশুগঞ্জ থানা পুলিশ। আশুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে । আগুনে দুটি ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যখন দাউদাউ করে পুড়ছিলো তখনই সেখানে পুলিশ দল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। নিজেই প্রত্যক্ষ করেন ভয়াবহ অবস্থা। কিন্তু তারপরও পুলিশ ঘটনার সত্যতা খোজে বেড়াচ্ছে। মামলা রেকর্ড করেনি এখন পর্যন্ত। 
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক সজিব সিকদার খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১২ ই মে নাওঘাট গ্রামের লেবানন প্রবাসী ৫ ভাই মো: কামাল উদ্দিন,জামাল উদ্দিন,মো: লুৎফুর রহমান শ্যামল,মো: হেলাল উদ্দিন ও জালাল উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। দিনদুপুরে বাড়ির দক্ষিন ও পূর্ব-পশ্চিমের ভিটের পাকা দুটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে পুড়ে যায় ঘর দুটিতে থাকা দামী আসবাবপত্রের সবকিছু। ককটেল মেরে ঘরের ফ্লোরের টাইলস পর্যন্ত ছিন্নবিন্ন করা হয়। দিনদুপুরে কয়েক’শ লোকের এ হামলার নেতৃত্ব দেন তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু শামা নিজেই। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমীর হোসেন।
 খোজ নিয়ে জানা গেছে লেবাননে নিহত সজিব আবু শামার মেয়ের ঘরের নাতি। তার মৃত্যুর জন্যে দায়ী করা হয় লেবানন প্রবাসী ঐ পরিবারের সদস্যদের। ঘটনার পর সেখানে গ্রেফতার হন লেবানন প্রবাসী আওয়ামীলীগ সভাপতি মো: লুৎফুর রহমান শ্যামল। তিনি আদালত থেকে নির্দোষ প্রমানিত হয়ে বের হন। লেবানন প্রবাসী শ্যামলের আরেক ভাই হেলাল উদ্দিন জানান- একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেবাননে পিয়াস নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক তরুনের গুলিতে প্রান হারায় সজিব। ঐ মেয়েটিও গুলিবিদ্ধ হয়। কিন্তু এর দোষ আমাদের ওপর চাপানো হয়। অথচ আমরা ঘটনায় জড়িত দু-জনের কাউকেই চিনতামনা। এ হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করেই নাওঘাটে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- ককটেল বিস্ফোরন করতে করতে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে। এরপরই পেট্রোল ঢেলে ঘর দুটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ঘর দুটির পাকা দেয়াল ছাড়া সবকিছুই পুড়ে ছারখার হয়। ঘরের ভেতরের কোন আসবাবপত্রই রক্ষা পায়নি আগুন থেকে। বিদেশী এলসিডি টিভি,ফ্রিজ সবই পুড়ে অঙ্গার হয়। শুধু পড়নের কাপড় নিয়েই জীবন নিয়ে ছুটে পালান ঘরের মানুষগুলো। ঘরের ভেতর থেকে লুট করে নেয়া হয় প্রায় ৫০ ভরি স্বর্নালঙ্কার। নগদ প্রায় ৭ লাখ টাকা। হেলাল উদ্দিন জানান- তাদের দুটি ঘরের সব আসবাবপত্রই ছিলো দামীদামী। ঢাকা থেকে কিনে এনে ঘর সাজিয়েছিলেন তারা। আর টিভিসহ ইলেকট্রনিক্স সব সামগ্রী ছিলো বিদেশী। ঘর দুটির সাজসজ্জায় তারা ৫ প্রবাসী ভাই প্রায় কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। যার কোন কিছুই এখন নেই। আগুনে সর্বস্বই শেষ হয়েছে তাদের। এদিকে এ ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রবাসী ভাইদের স্ত্রী-সন্তান,মাসহ এই পরিবারের ২২/২৩ জন সদস্য। ঘটনার পর থেকে ২৫ লাখ টাকা দাবী করা হচ্ছে এই পরিবারের সদস্যদের কাছে। বলছে এই টাকা দিলেই তাদের মুক্তি। টাকার জন্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সুপার মার্কেটের সামনে থেকে অপহরন করা হয় লেবানন প্রবাসী জালালকে। এসব ঘটনায় আতঙ্কে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা। গ্রাম ছেড়ে পালিয়েও নিরাপত্তাহীন তারা। প্রবাসীদের মা রেজিয়া বেগম বলেন- তাদের অত্যাচারের ভয়ে আমরা বাড়িছাড়া। ঘটনার সময় পড়নের কাপড় নিয়ে বাড়ি ছেড়ে কোনরকমে চলে আসি। এ ঘটনায় গত ২ রা সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে রেজিয়া বেগম একটি মামলা দায়ের করেন। তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু শামাকে এ মামলার প্রধান আসামী করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছে আবু শামার ছেলে আশুগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমীর হোসেন,আরেক ছেলে সাচ্চু মিয়া,বেয়াই বসু মিয়া ,তার ছেলে সেলিম মিয়া ও জাবেদ মিয়া,এরফান ডাক্তারের ছেলে সালাউদ্দিন। মামলার এজাহারনামীয় ১৪ জন আসামীর বিরুদ্ধেই আছে নানা অভিযোগ। আদালত থেকে ঘটনার সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয় আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। কিন্তু গত ১৩ দিনেও এই মামলাটি রেকর্ড করেনি পুলিশ। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফরের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন গত সোমবার বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। তার তদন্ত প্রতিবেদনের পরই মামলা রেকর্ড করা হবে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি। 
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম মাসুদ জানান আগুনে বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়া ও মালামাল ভাংচূর করার বিষয়টি অমানবীক ও নেক্কারজনক।তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।মামলাটি অধিকতর তদন্ত চলছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম