বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালাক পদ্ধতির বদল চায় না ভারতের মুসলিম ল’ বোর্ড

news-image

তিনবার তালাক উচ্চারণ করে বিচ্ছেদের এই সহজ পন্থা বহু মুসলিম মহিলার জীবনে যে বিপর্যয় নিয়ে এসেছে, তা নিয়ে অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। সুর মিলিয়েছে অনেক মুসলিম সংগঠনও। সমপ্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম মহিলা চান এই মৌখিক তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রথা বন্ধ হোক। কিন্তু অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, কোন বদল নয়, বিবাহ বিচ্ছেদের পুরনো পন্থাই বলবৎ থাকছে। অল ইন্ডিয়া সুন্নি উলেমা কাউন্সিল মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডকে চিঠি লিখে আর্জি জানিয়েছিল, একসঙ্গে তিনবার তালাক বললে সেটিকে শুধু একবার বলেই ধরা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখা হোক। কারণ, অনেক সময় অনেকে রাগের মাথায় তিনবার তালাক বলে পরে আফসোস করেন। কিন্তু এ প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে পার্সোনাল ল বোর্ড। গত বৃহস্পতিবার বোর্ডের মুখপাত্র মাওলানা আব্দুল রহিম কুরেশি বলেন, কোরআন ও হাদিসে একসঙ্গে তিনবার তালাক বলা অপরাধ। কিন্তু তিনবার বলে ফেললে বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। এ ব্যবস্থা বদলানো যাবে না। অল ইন্ডিয়া সুন্নি উলেমা কাউন্সিল যেমন আপত্তি তুলেছে, তেমনই অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডও মনে করে এই প্রথা বন্ধ হওয়া উচিত। শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র মাওলানা ইয়াসুব অব্বাস বলেন, কোন মহিলা বিয়ের পর নিজের পরিবার ছেড়ে বাকি জীবনটা স্বামীর সঙ্গে কাটাতে যান। স্বামী রাগের বশে তিনবার তালাক বললে সেই মহিলার জীবনও তো শেষ হয়ে গেল। উলেমাদের উচিত, একসঙ্গে বসে এই বিষয়টি আলোচনা করা।
সমপ্রতি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমীক্ষায় জানা গেছে, ৯২ শতাংশ মুসলিম মহিলা এই প্রথা বিলোপের পক্ষে। তার ওপর ফেসবুক, স্কাইপের মাধ্যমে তালাক দেয়ার রেওয়াজও আজ বেড়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রথা এখনও যারা মেনে চলেন, তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশের পারিবারিক আয় বছরে ৫০ হাজার রুপির কম। আর ৫৫ শতাংশ মহিলার বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের নিচে। বেশির ভাগ মহিলার নিজের নামে কোন সম্পত্তি নেই। কোন আয়ও নেই। প্রথাগত শিক্ষাও নেই অধিকাংশ মহিলার। ফলে স্পষ্ট, সমাজের পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের মধ্যেই এভাবে তালাক দেয়ার প্রবণতা বেশি। বিচ্ছেদের পরে যাদের জীবনে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসে। ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু প্রতিমন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি মনে করেন, সংখ্যালঘু সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো শরিয়ত আইন খুব একটা মানেন না। মুসলিম ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মীদের বিবাহ বিচ্ছেদ করতে হলেও দেশের আইন মেনেই তা করতে হয়। শিক্ষার আলোই একমাত্র সচেতনতা আনতে পারে। মন্ত্রীর মতে, মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড তিনবার তালাকের প্রথা বজায় রাখার কথা বললেও সেটিই যে শেষ কথা, এমন নয়। তবে সরকারেরও এক্ষেত্রে কোন ভূমিকা নেই। 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা