শাহজালালে বসছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, বাড়বে নিরাপত্তা
অনলাইন ডেস্ক : বিমান চলাচলে ঝুঁকি কমাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে, টার্মিনাল ও সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত ড্রোনের প্রবেশ ঠেকানো এবং আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় ড্রোনের সঙ্গে উড়োজাহাজের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর স্থাপনার ছবি ধারণ কিংবা নজরদারির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য গত সপ্তাহে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বেবিচকের এটিএম বিভাগের ডিডি মো. নামিমুদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কমিটিকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রযুক্তির গুণগত মান, বাজারদর ও কার্যকারিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
যেভাবে কাজ করবে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি
অ্যান্টি-ড্রোন বা কাউন্টার-আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেমে সাধারণত রাডার, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকারী যন্ত্র, ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এসব ব্যবস্থার সাহায্যে আকাশে উড়তে থাকা সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত করা, তার অবস্থান নির্ণয় এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
কোনো ড্রোন বিমান চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করলে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা যায়। প্রযুক্তির সক্ষমতা ও অনুমোদিত পদ্ধতি অনুযায়ী ড্রোনের কার্যক্রম বন্ধ করা বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
নিরাপত্তায় বাড়বে সমন্বয়
বিমানবন্দরের আকাশসীমায় সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত হলে সেটির অবস্থান, গতিপথ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত যাচাই করা জরুরি। এ জন্য বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে আকাশে কোনো ড্রোন দেখা গেলেই সেটিকে নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সেটি অনুমোদিত কার্যক্রমের অংশ, অনিচ্ছাকৃত অনুপ্রবেশ নাকি নিষিদ্ধ এলাকায় ইচ্ছাকৃত প্রবেশ—তা যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের বিদ্যমান যোগাযোগ ও নেভিগেশনব্যবস্থার নিরাপত্তাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বেতার সংকেত বিঘ্নিত করার প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি, যাতে উড়োজাহাজ চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থায় কোনো সমস্যা না হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অননুমোদিত ড্রোনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে প্রযুক্তি স্থাপন ও ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কমিটির মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।











