,

অটোরিকশাচালক খুন, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

news-image

অনলাইন ডেস্ক :গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আতাউর রহমান আতা মিয়া নামে এক অটোরিকশাচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তার বৃদ্ধা মায়েরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কের একটি নির্জন এলাকা থেকে আতা মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বয়স ৬০ বছর। তিনি ঘাগটিয়া চালার বাটনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রাস্তার পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তা উদ্ধার করা হয়। নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর থেকে আতা মিয়ার অটোরিকশাটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আটকদের একজনের স্ত্রী দাবি করেছেন, তার স্বামী আতা মিয়াকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে যান এবং পরে সেটি বিক্রি করে দোকানের ঋণ পরিশোধ করেন। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পিবিআই।

নিহতের পরিবার জানায়, আতা মিয়া বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সংসারের অভাবের কারণে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে ৭৫ বছর বয়সী মা জহুরা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ছেলের শোক সইতে না পেরে তারও মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, আতা মিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

কাপাসিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে হত্যার কারণ, অটোরিকশার সন্ধান এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।