ট্রাম্পের কিম-ঘনিষ্ঠতায় চাপে দক্ষিণ কোরিয়া
অনলাইন ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ায় ওয়াশিংটনের নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিউলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এবারের মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আরও ১১টি মিত্র দেশের সামরিক সদস্য অংশ নেন। তবে নির্ধারিত কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পরই মহড়া বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রাম্প এর আগে এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। একই সঙ্গে মহড়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মহড়ার আকার কমানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা আগে থেকে অবগত ছিলেন না। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে জাপান ও তাইওয়ানসহ এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও কমানো হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে আবারও বৈঠকের আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে কিমের বোন ও উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম ইয়ো জং ট্রাম্পের এ দাবিকে গুরুত্ব দেননি। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না।
২০১৮ সালে ট্রাম্প ও কিমের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের বছর দ্বিতীয় বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আর কোনো বৈঠক হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যু একসঙ্গে আলোচনায় আসায়। ট্রাম্প প্রশাসন সিউলের প্রতিরক্ষা ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের পেছনে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যয় এবং দেশটির বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তিনি এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্পের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা এবং পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার অবস্থানের কারণে চলতি বছর ট্রাম্প-কিম বৈঠকের সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।
তবে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোট এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি কমে গেলে সিউলকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।











