বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সোনালী’ স্বপ্ন দেখিয়ে ওদের টাকা মারল

news-image

বিশ্বজিৎ পাল বাবু : গাভিটি আড়াই কেজি করে দুধ দিত। এতে তাঁর সংসারের ছোটখাটো খরচের ঝামেলা ভালোভাবেই মিটে যেত। কিন্তু হঠাৎ করে গাভির মালিকের মাথায় ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা দিল। সে স্বপ্ন থেকেই তিনি দুধেল গাভিটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে 'সোনালী কল্যাণ ফাউন্ডেশন' নামের একটি সংস্থায় জমা দেন। কিন্তু দুর্জয় গ্রামের মো. আবুল মিয়ার সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নাও নিতে পারে। স্বামী শাহ আলমের জন্য সিএনজি অটোরিকশা কেনার আশায় সুদে ১০ হাজার টাকা নিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন বড় বাজারের রোজিনা আক্তার। অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মে নিযুক্ত দেবগ্রামের মনোয়ারা বেগমও ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ঋণের আশায় ওই প্রতিষ্ঠানে জমা দেন ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সম্ভবত আবুল মিয়া, রোজিনা আর মনোয়ারাদের স্বপন অধরাই থেকে গেল। কারণ গত রবিবার রাতে হাজারো গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণের লোভ দেখিয়ে নেওয়া অগ্রিম জামানতের টাকা নিয়ে পালিয়েছে সোনালী কল্যাণ ফাউন্ডেশন। সোমবার সকাল থেকে পৌর এলাকার দেবগ্রামের সোনালী কল্যাণ ফাউন্ডেশন কার্যালয় খুলছে না। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন রোজিনারা।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসেই ওই সংস্থাটি আখাউড়া পৌর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীই ছিল সংস্থাটির টার্গেট। ১০ হাজার টাকা জমার বিপরীতে এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয় গ্রাহকদের। বিশেষ করে বিদেশে পাঠানো ও অটোরিকশা কেনার জন্যই ঋণ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় সোনালী ফাউন্ডেশন। আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রাম, মসজিদপড়া, দুর্গাপুর, টানপাড়া, রাধানগর, উপজেলার দুর্জয়নগর, বনগজ, জাঙ্গাল, নুরপুর ও সদরের কোড্ডা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার কমপক্ষে এক হাজার মানুষের কাছ থেকে জনপ্রতি এক থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিরা।

জানা গেছে, জাঙ্গাল গ্রামের নাজিম মিয়া ২৩ হাজার ৫০০, দেবগ্রাম উত্তরপাড়ার পারুল বেগম ২০ হাজার, পারভীন আক্তার ১০ হাজার, আফিয়া বেগম ১০ হাজার, ফরিদা বেগম ১০ হাজার, নিলুফার বেগম ৩২ হাজার ৫০০, বনগজের শাহ আলম ১০ হাজার ৫০০, বাদল মিয়া ৩২ হাজার ৫০০, ময়না বেগম পাঁচ হাজার, মসজিদপাড়ার লীল কান্ত ১৫ হাজার, বড় বাজারের রুমা আক্তার ১৩ হাজার ৩০০, সাজু মিয়া ৩২ হাজার ৫০০, রাধানগরের লুৎফা আক্তার ৫০ হাজার, মো. আকরাম ২০ হাজার ৭০০, নুরপুরের শাহানা বেগম ১০, এবাদত খান ১০ হাজার ও মিনারা আক্তার পাঁচ হাজার টাকা জমা রাখেন। এ ছাড়া নাম না জানা আরো হাজারো গ্রাহক তাদের লাখ লাখ টাকা সোনালী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে জমা রেখেছিল। কিন্তু সংস্থাটি গা-ঢাকা দেওয়ায় এসব দরিদ্র গ্রাহক দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে জাঙ্গাল গ্রামের লাকী বেগম বলেন, 'সামান্য টাকা জমা দিয়ে বড় আকারের ঋণ নিয়ে কিস্তিতে পরিশোধের লোভ দেখানো হয় আমাদের। আমাকে আমাদের এলাকার দলনেত্রী বানানো হয়। সেখান থেকে ৫০ জনের কাছ থেকে তারা অন্তত দুই লাখ টাকা নিয়েছে।'

দেবগ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন মোল্লা বলেন, 'শুরু থেকেই তাদের কার্যক্রম আমার কাছে সন্দেহ হয়। আমি অনেককেই না করেছি টাকা দেওয়ার জন্য। সকালে উঠে শুনি লোকজনের টাকা নিয়ে পালিয়েছে।'

সোনালী কল্যাণের কার্যালয়ের মালিক মো. মাহফুজ মিয়ার স্ত্রী মীনা আক্তার বলেন, 'গত মাসে ভাড়া নিলেও তারা এ মাসের ৫ তারিখে এসে অফিসে ওঠে। চুক্তিনামা করার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। একজন যে আইডি কার্ড দিয়েছে তাতে তার নাম মো. সাইফুল ইসলাম লেখা। ঠিকানা লেখা মাদারীপুর সদরের শান্তিনগর খাঁ বাড়ি। রবিবার রাতে তারা অফিসে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।' আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, 'থানায় এসে কিছু লোক বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়ে গেছে। তাদের লিখিত অভিযোগ করতে বলেছি।'

 

 

 

kalerkantho.com

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা