বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনা হিসাবেই বেহেশতের ঘোষণা : তাহাজ্জুদ নামাজে

news-image

মুফাসিসরদের মতে, শয্যা পরিত্যাগ করে যিকির ও দোয়ায় আত্মনিয়োগ করার অর্থ তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ, যা গভীর রাতে ঘুম থেকে ওঠার পর পড়া হয়। তাহাজ্জুদ নামায স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করে। তাহাজ্জুদের ফলে বান্দা আল্লাহর নিকট মর্যাদার অধিকারী হয়। বান্দার সকল পাপ ও গোনাহ ক্ষমা প্রার্থনার উপযুক্ত মাধ্যমও এ তাহাজ্জুদ নামায। সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতের শেষাংশে দুনিয়ার আকাশে বিরাজমান হন এবং ঘোষণা দেন যে, কোনো প্রার্থনাকারী আছ কি? যার প্রার্থনা আমি কবুল করব। প্রয়োজন প্রার্থনার কোনো লোক আছ কি? যার প্রয়োজন আমি পূর্ণ করে দেব। এবং কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি ক্ষমা করে দেব।’
আল্লাহ রাব্বুল হাশরের দিন সমগ্র সৃষ্টিকুলের উপস্থিতিতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী প্রিয় বান্দাদের মহান সম্মানে ভূষিত করবেন। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ হতে বর্ণিত, ‘রাসূল সা. এরশাদ করেছেন, কেয়ামতের দিন যখন আল্লাহপাক পূর্ববর্তী মানবসমাজকে একত্রিত করবেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আহ্বানকারী (যার আওয়াজ সমগ্র সৃষ্টিকুল শুনতে পাবে) দাঁড়িয়ে আহ্বান করবেন- হে হাশরের মাঠে সমবেত মানবসমাজ! আজ তোমরা জানতে পারবে যে, আল্লাহপাকের নিকট সর্বাধিক সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী কে? পরপর সে ফেরেশতা ‘যাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে’ এরূপ গুণের অধিকারী লোকগণকে দাঁড়াতে আহ্বান জানাবেন। এই আওয়াজ শুনে এসব লোক (তাহাজ্জুদগুজার) দাঁড়িয়ে পড়বেন, যাদের সংখ্যা হবে খুবই নগণ্য। এদের হিসাব গ্রহণ ব্যতিতই বেহেশতে প্রেরণ করা হবে। অতঃপর অন্যান্য সমগ্র লোক দাঁড়াবে এবং তাদের হিসাব গ্রহণ করা হবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, মাজহারি, মা’আরিফুল কোরআন)।
তাহাজ্জুদের মর্যাদা অপরিসীম। ফরজ নামাজের পরে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। রাসূল স. বলেন, ‘রমজানের পর উত্তম রোজা হলো মুহাররম মাসের রোজা এবং ফরজ নামাযের পর উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ’ (তাহাজ্জুদের নামাজ)।
হজরত আবু মালেক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সা. বলেন, ‘জান্নাতে এমন কক্ষ থাকবে যার ভিতরের অংশ বাহির থেকে এবং বাইরের অংশ ভিতর থেকে দৃষ্টিগোচর হবে।’ সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (স.) এসব কক্ষ কাদের জন্য? উত্তরে রাসূল (স.) বললেন, যে ব্যক্তি সালাম করে, ক্ষুধার্তকে আহার করায় এবং রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তখন সে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে। (মুসনাদে আহমদ)।
তাহাজ্জুদ নামায পড়ার নিয়মাবলী
এশার নামাযের পর থেকে সুবহে সদিকের পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সময়। তবে শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামায পড়া উত্তম।
তাহাজ্জুদের নামায দুই থেকে ১২ রাকাত। নবী সা. সাধরণত ৮ রাকাত পড়তেন বিধায় এটাকে উত্তম বলা হয়েছে। পারলে ৮ রাকাত নয়া ৪ রাকাত আর তাও সম্ভব না হলে ২ রাকাত পড়লেও হবে।
তাহাজ্জুদের নামাযের যে কোনো সূরা দিয়ে পাঠ করা যায়। তবে কিরাত লম্বা হওয়া উত্তম। সূত্র : আহকামে যিন্দেগী

এ জাতীয় আরও খবর

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের চিঠির পর

দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব, মুম্বাইয়ে সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

দিল্লির বিক্ষোভ তীব্র, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন মোদি

ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা

ঢাকার বায়ুমানে উন্নতি, দূষিত শহরের তালিকায় ৫৫তম

নতুন নৌপ্রধান পেলেন ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদা

মেসির বিদায়ী ম্যাচ চায় স্পেন

বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না

১০ জেলায় ঝড়ের সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

১০৭ ঘণ্টা পর বন্ধ কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

ইয়ামালকে মেসির অনুপ্রেরণার বার্তা

প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংশোধনের সময় বাড়ল