বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যভিচারের ভয়াবহ পরিণতি

news-image


মাওলানা নজরুল ইসলাম সিদ্দীক
বর্তমানে যে সংবাদগুলো বেশি আলোচিত তার অন্যতম হলো ধর্ষণ। প্রায় সব পত্রিকার শিরোনাম-উপশিরোনাম এবং সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয়তে এ ধরনের বহু খবর গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। এক সময় যৌন হয়রানি নিয়ে খুব লেখালেখি হতো। এখন আর সে বিষয়ে লেখা তেমন চোখে পড়ে না। কারণ যেখানে অপহরণ ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ অহরহ সংঘটিত হচ্ছে, সেখানে যৌন হয়রানি একটি গা-সওয়া গৌণ বিষয় হয়ে গেছে। এই তো সেদিন বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাবার হাত থেকে মেয়েকে টেনে নিল। মায়ের হাত ধরে হাঁটা শিশুকে ছাড়িয়ে মাকে টেনে নিল। কত মেয়েকে বিবস্ত্র করা হলো। বর্তমানে ধর্ষণের হার বেড়ে গেছে। এখন অফিস, স্কুল, বাড়ি, গাড়ি, নৌকা, ট্রাক ও পথে-ঘাটে ধর্ষণের মহড়া চলছে। যেসব খবর একসময় দিলি্লকেন্দ্রিক ছিল, তা এখন আমাদের দেশেই হচ্ছে। দেশ এখন ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে। আর সভ্য মানুষগুলো ভয় পাচ্ছে আল্লাহর আজাব ও গজবের।

এহেন অন্যায় পাপাচার চলতে থাকলে যে কোনো সময় নেমে আসতে পারে মহা বিপর্যয়। আর সৃষ্টি হতে পারে প্রাণঘাতী নানা ব্যাধি। সমাজ-সংসার তো ধ্বংস হবেই। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, 'তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হবে না। কেননা তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট কাজ।' (সূরা বনি ইসরাইল : ৩২)। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, 'কোনো ব্যক্তি মোমিন থাকা অবস্থায় ব্যভিচার করে না।' (বোখারি)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ব্যভিচার যে করে, সে অবস্থায় তার ঈমান থাকে না। সুতরাং ব্যভিচার তথা ধর্ষণরত অবস্থায় বা পরে তওবা না করে যদি কেউ মারা যায় তাহলে সে বেঈমান অবস্থায় মারা গেল। (নাউজুবিল্লাহ)। যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। যেনা-ব্যভিচার যেহেতু জঘন্য অপরাধ, তাই ইসলাম এ জঘন্য পাপের শাস্তিও কঠিনভাবে নির্দেশ করে। ইসলামের বিধান হলো বিবাহিত নারী-পুরুষ যদি ঘৃণ্য ও জঘন্য এ পাপাচারে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা। আর যদি তারা অবিবাহিত হয় তাহলে তাদের উভয়কে ১০০ করে বেত্রাঘাত করা। (সূরা নূর : ২)।

হাদিসে আরও এসেছে, মেরাজের রজনীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখলেন তন্দুরের রুটির চুলার মতো বিশাল একটি চুলায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আর সে আগুনে নগ্নদেহ কিছু নারী ও পুরুষ পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে। তেজস্বী অগি্নশিখার সঙ্গে তারা এত উপরে উঠে যায় মনে হয় যেন বিশাল চুলার উপর দিয়ে উপচে পড়বে; কিন্তু পড়ে না। আগুন আবার নিচে নেমে আসে। তারাও আগুনের সঙ্গে নেমে যায়। ফের আগুন লাফিয়ে উপরে ওঠে, তারাও জ্বলতে জ্বলতে ওপরে ওঠে। এভাবেই চলছে তাদের শাস্তি।

প্রিয় নবীজি (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? কেন তাদের এই শাস্তি? জবাবে বলা হলো, এরা জেনাকার-জেনাকারিণী তথা ব্যভিচারী নারী-পুরুষ, এটা তাদের পাপের শাস্তি।

ব্যভিচারের ভয়াবহ শাস্তি যদিও পরকালেই হবে, দুনিয়াতেও কিন্তু তাদের সাজা ও অপমান সইতে হয়। তাই দেখা যায়, এ ধরনের অপরাধীরা সুখে নেই। তাদের সামাজিক পরিচয় নেই। মান-সম্মান নেই। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের বিপক্ষে। তারা অসহায় কুকুরের চেয়েও নিকৃষ্ট। তারা সমাজের বিষফোঁড়া। তাদের কেটে ফেলাই যেন শ্রেয়। এসব কুলাঙ্গার জনরোষের কারণে মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে এবং শারীরিকভাবেও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাদের পরিণতি হয় ভয়াবহ। দুনিয়ায় ব্যভিচারীদের লাঞ্ছনার শেষ নেই। নারী নির্যাতন মামলার ঘৃণিত আসামি হয়ে হয়তো যাবজ্জীবন কয়েদি, নয়তো সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- তাদের প্রাপ্তি। আর পরকালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ শাস্তি। অতএব যুব সমাজকে সতর্ক হতে হবে। ধর্ষণ-ব্যভিচারের কাছেও যাওয়া যাবে না। দৃষ্টিকে হেফাজত করতে হবে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাহলেই পাওয়া যাবে দুনিয়ায় শান্তি এবং আখেরাতে মুক্তি। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, যারা স্বীয় মুখ এবং চরিত্রকে হেফাজতের গ্যারান্টি দেবে তাদের আমি জান্নাতপ্রাপ্তির গ্যারান্টি দেব। আসুন আজ থেকে আমরা পবিত্র জীবনের প্রতিজ্ঞা করি।

লেখক : শিক্ষক, নুরুল কোরআন ইনটারন্যাশনাল মডেল মাদরাসা, মোহাম্মদপুর

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে